প্রচ্ছদ সংবাদপত্রের পাতা থেকে বাংলা ইনসাইডার

বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা করোনাকালে অমানবিক আচরণ করছেন

148
বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিকরা করোনাকালে অমানবিক আচরণ করছেন
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলাদেশের গার্মেন্টস মা’লিকরা করোনাকালে অ’মানবিক আ’চরণ করছেন। তাঁদের অর্থলিপ্সার নি’র্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এবং তাঁরা একের পর এক অসত্য আর মিথ্যা কথা বলছেন। গার্মেন্টস মা’লিকরা করোনার সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত গত ৩২ দিনে অন্তত দশটি দণ্ডনীয় অপরাধ করেছেন।

যে অ’পরাধগুলোর জন্য তাঁদের শা’স্তি হতে পারে। গার্মেন্টস মালিকরা বিত্তশালী এবং তাঁরা প্রত্যেকে বিপুল অর্থ সম্পত্তির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা শ্রমিকদেরকে ঠ’কাচ্ছেন। শ্রমিকদেরকে জি’ম্মি করে তথাকথিত বিদেশি অর্ডার বাতিল হয়ে যাবে- এরকম জুজুর ভ’য় দেখিয়ে সরকারি আইন, নীতি এবং জনস্বাস্থ্য বিধি লঙ্ঘন করছেন এবং সেই সাথে গোটা দেশকে হু’মকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে যদি এরপর করোনা পরিস্থিতি ভ’য়াবহ হয়, সেজন্য দায়ী থাকবেন শুধুমাত্র গার্মেন্টস মা’লিকরা। আসুন দেখে নেই গার্মেন্টস মালিকদের দশটি অপরাধ কি কি-

১. ২৬ মার্চ সাধারন ছুটি ঘোষণার পরেও অনেক গার্মেন্টস কারখানা খোলা ছিল এবং এখানে তাঁরা মিথ্যার আ’শ্রয় নিয়েছিল। অনেক গার্মেন্টস মা’লিক পিপিই বা মাস্ক তৈরি করছে বলে গার্মেন্টস খোলা রাখলেও, আসলে সেই সময়ে তাঁরা তাঁদের নিজস্ব অর্ডারের কা’জগুলো করছিল।

২. ২৬ মার্চ পর্যন্ত গার্মেন্টসগুলো খো’লা ছিল। অথচ অধিকাংশ গার্মেন্টস মালিকরাই মার্চ মাসের বেতন (যেটা এপ্রিলে দেবার কথা ছিল) সেটা দেননি। বে’তনের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় আ’ন্দোলন করলে গার্মেন্টস মালিকরা না’না অ’জুহাত দেখিয়েছেন। গার্মেন্টস মালিকরা ৩ মাস শ্রমিকদের বে’তন দিতে পারবে না সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য? স’বথেকে বড় কথা ২৬ মার্চ পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজ করার পরেও কেন বেতন দেবেন না, এটাও আরেকটি দ’ণ্ডনীয় অ’পরাধ।

৩. সরকারি প্রণোদনা শ্রমিকদের এ’কাউন্টে দেয়ার কথা বললে গার্মেন্টস মালিকরা নানা ধরণের টা’লবাহানা শুরু করেছে। সরকার যখন করোনার কারণে সা’রাদেশে ছুটি ঘোষণা করে, তখন প্রথম যে শিল্পের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা দেয়, তা ছিল গার্মেন্টস শিল্প। তাঁ’দের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এই প্রণোদনার টাকা গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বা’বদ বরাদ্দ করা হবে।

আরও পড়ুন:  *শরীয়তপুরে ৫৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে*

এ’রপরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় যে, এই টাকা সরাসরি শ্রমিকদের একাউন্টে যাবে এবং শ্রমিকদের যে মোবাইল একাউন্ট, সে’ই একাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। গার্মেন্টস মালিকদের কাছে শ্রমিকদের যে তালিকা এবং তাঁদের মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। গার্মেন্টস মালিকরা এর তীব্র প্র’তিবাদ করেন এবং নানারকম টা’লবাহানা দেখাতে থাকেন। প্রশ্ন হলো যে, কেন তাঁরা সরকারি নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি মানবেন না, কে’ন টাকা তাঁদেরকে দিতে হবে? তাঁর মানে কি শ্রমিকদের টাকা আ’ত্মসাতের যে পু’রনো অভ্যাস, সেই অভ্যাস তাঁরা আরেকবার চর্চা করতে চান?

৪. ৫ এপ্রিল স’রকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে গার্মেন্টস খু’লে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। বাণিজ্য মন্ত্রী নি’জেই একজন গার্মেন্টস মালিক। তাঁরা তথাকথিত স্বাস্থ্যবিধি মে’নে গার্মেন্টস চালুর  সিদ্ধান্ত নেন। এটি সরকারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সংক্রমণ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই কাজটি করা হয়েছে। এটা শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ।

৫. যখন এই গার্মেন্টস খু’লে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, তখন সরকারি নির্দেশনা বা সরকারি কোনরকম বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে স’রাসরি টেলিফোনে গার্মেন্টস শ্র’মিকদের কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলো। হু’মকি দেয়া হলো অন্যথায় তাঁদের চাকরি চলে যাবে। চা’করি হারানোর ভয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সামাজিক যোগাযোগ বা বিছিন্নতার নিয়মের তোয়াক্কা না করে যে যেভাবে পারে ঢাকার দিকে ছুটে আসলো এবং বাংলাদেশে ক’রোনা সংক্রমণের এ’কটি বড় ভী’তি সৃষ্টি হলো, এজন্য দায়ী গার্মেন্টস মালিকরা।

৬. এই গার্মেন্টস মালিকরা যখন গার্মেন্টস খুলে দিল, তখন সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন এবং প্রতিক্রিয়ার পর গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদেরকে ফিরে যাবার নি’র্দেশ দিলো। প্রশ্ন হলো যে, শ্র’মিকরা কোথায় ফিরে যাবে? একদিকে গ’ণপরিবহন বন্ধ, তাঁরা পায়ে হেঁটে এবং বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে কারখানায় এসেছিল এখন তাঁরা ফিরবে কিভাবে- এমন প্রশ্নের উত্তর গার্মেন্টস মালিকদের কা’ছে নেই। এটাও একটি দ’ণ্ডনীয় অ’পরাধ করেছে আমাদের গার্মেন্টস মালিকরা।

আরও পড়ুন:  সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে এক বাংলাদেশি আক্রান্ত

৭. এফবিসিসিআই -এর বৈঠকে সি’দ্ধান্ত হলো যে গার্মেন্টসসহ রপ্তানিমূখী কা’রখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করা হবে এবং এজন্য এ’কটি গাইডলাইন করতে হবে। এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন যে, এই গাইডলাইন তৈরি ক’রার জন্য তাঁরা একটি এক্সপার্ট প্যানেল তৈরি করবেন। কিন্তু এই গাইডলাইন বা এফবিসিসিআই -এর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ হ’বার আগেই আবার গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার সি’দ্ধান্ত নিলো এবং সাথে সাথে প্রায় ১ হাজার গার্মেন্টস খু’লে দেয়া হলো। এতে সরকারী কোন নির্দেশনা নেই, এটা সরকারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

৮. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে গার্মেন্টস মা’লিকরা মিথ্যাচার করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কা’ছে গিয়ে তাঁরা বলেছেন যে, শুধুমাত্র ঢাকার শ্রমিক দিয়ে গার্মেন্টসগুলো চা’লানো হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সমস্ত গার্মেন্টস মালিকদের পক্ষ থেকে সকল শ্রমিকদের টেলিফোন করা হয়েছে এবং ব’লা হয়েছে যে, অবিলম্বে কারখানায় যোগ না দিলে তাঁরা চাকরি হারাবে। এরকম মি’থ্যাচার শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ বটে।

৯. কোন গার্মেন্টসেই সা’মাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি এখনো মানা হচ্ছেনা। গায়ে ঘেঁষে এবং যেভাবে তাঁরা ঢুকছে, বেরোচ্ছে তাতে সামাজিক সংক্রমণের ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এটাও সংক্রমণ আইন অ’নুযায়ী অ’পরাধ।

১০. স’রকারের নির্দেশ সত্ত্বেও অনেক গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের ছাঁটাই করেছে এবং চাকরীচ্যুত করেছেন- এটা অ’পরাধ।

এরকম একটি দেশে দুটি আইন থাকতে পারেনা। গার্মেন্টস মালিকরা দে’শে প্রচলিত আইন কানুনের উর্ধ্বে হতে পারেনা। তাঁরা স’বকিছুকে তোয়াক্কা করতে পারেনা।

তাই অবিলম্বে গা’র্মেন্টস মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতার বি’রুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেয়া দরকার, তেমনি তাদের কারণে যদি করোনা মহামারি তৈরি হয় বা পরিস্থিতির অবনতি হয়- সেজন্য অবশ্যই দায় গা’র্মেন্টস মালিকদের নেয়া প্র’য়োজন বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 693
    Shares