প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি করোনা মোকাবিলা করতে চায় তাহলে আগে তার অসুখ সারাতে হবে

86
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি করোনা মোকাবিলা করতে চায় তাহলে আগে তার অসুখ সারাতে হবে
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় প্রধান দা’য়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানা অব্যবস্থাপনা, দু’র্নীতি, অ’নিয়ম এবং সিদ্ধান্তহীনতায় হাবুডুবু খাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রতিদিনই কোন না কোন খবর প্রকাশ হচ্ছে। নানা রকম সিদ্ধান্তহীনতা, ব্যবস্থাপনার সঙ্কট এবং দু’র্নীতি আষ্টেপিষ্টে যেন ঘিরে রেখেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে।

এ নিয়ে লে’খালেখি হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা সমালোচনা করছেন। কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবকিছু উপেক্ষা করে তার আপনমনে কাজ করে যাচ্ছে। আর এরফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতটা সফল হবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি বিশেষজ্ঞরাও এখন সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন নিজেই অসুস্থ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি করোনা মোকাবিলা করতে চায় তাহলে আগে তার অসুখ সারাতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসুখ সারাবে কে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসুখগুলোই বা কি কি? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসুখগুলো যদি আমরা দেখি;

অসুখী সংসার : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম’ধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকট। ম’ন্ত্রীর সঙ্গে সচিবের সম্পর্ক ভালো না। আবার মন্ত্রীর স’চিবের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সম্পর্ক শী’তল বলে জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নি’য়োগে আছেন। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে সাহায্য করেছিলেন মন্ত্রী। মন্ত্রী নিজেই প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, তিনি একটি ভালো টিম করতে চান। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরে আস্তে আস্তে মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সঙ্গে মহাপরিচালকের দূরত্ব তৈরী হতে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে মন্ত্রী এবং মহাপরিচালকের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য পর্যায়ে চলে যায়। আর প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মহাপরিচালকের সঙ্গে মন্ত্রীর যে সখ্যতা ছিল তাতে আস্তে আস্তে ভাটার টান আসতে থাকে। মহাপরিচালকের সঙ্গে যখন মন্ত্রীর ভালো সম্পর্ক ছিল, তখন সচিবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ততটাই শীতল। ডেঙ্গু পরিস্থিতির সময় মহাপরিচালকের সঙ্গে মন্ত্রীর প্রথম সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর সচিবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন:  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত দু’র্নীতি ফাঁ’স! হটলিস্টে আছেন যারা

কিন্তু মন্ত্রী য’তটাই আগ্রহী ছিলেন, সচিব ততটাই শী’তল অবস্থান বজায় রেখে চলেছেন। ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি অসুখী পরিবার। প্রধান ৩ জন ব্যক্তির মধ্যে সুসম্পর্ক, বোঝাপড়ার অ’ভাব রয়েছে এটা বোঝার জন্য কোন গবেষক দ’রকার নেই। মন্ত্রণালয় সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিলে যে কেউ এটা জানতে পারে।

ই’দানিং আবার মন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (প্রশাসন) পাদপ্রদীপে আ’না হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন বা বি’ভিন্ন বি’ষয়ে বক্তব্য রাখছেন। এরফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চেইন অব কমান্ডে নতুন স’ঙ্কট দেখা গেছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাজেই এই অ’সুখী সংসারই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ক’রোনা মো’কাবিলার ক্ষেত্রে একের পর এক সমন্বয়হীন ও ব্যর্থ করছে বলে অনেকে মনে করেন।

দু’র্নীতি এবং সি’ন্ডিকেট : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দু’র্নীতি এবং সি’ন্ডিকেট সর্বজনবিদিত। বিভিন্ন সময় এই দু’র্নীতি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। দু’র্নীতি দ’মন ক’মিশনে মা’মলাও হয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় ব্যাপার, যাদেরকে দু’র্নীতির শি’রোমনি বলা হয় তাদেরকে বাঁচিয়ে দেওয়াই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজগুলোর একটি। এখানে একটি চমৎকার সিন্ডিকেট আছে। যেমন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আ’লোচিত ঠিকাদার, যার বিরুদ্ধে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন সেই মিঠু এখনও বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। অথচ সে’খানে যারা সৎ এবং ভালো ঠিকাদার, তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম মা’মলা দিয়ে তাদেরকে অ’কার্যকর করে রাখার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:  সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বারছে

আবার জিএমআইয়ের সঙ্গে বেশ সখ্যতা থাকার কারণে তাদের সমস্ত দু’র্নীতি আ’ড়াল করার প্রানন্ত প্রচেষ্টা চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কাজেই দু’র্নীতি এবং সি’ন্ডিকেট যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। এই দু’র্নীতি সি’ন্ডিকেটের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কোন ভালো উদ্যোগ সফল হচ্ছে না।

বিএমএ এবং স্বাচিপের সঙ্গে সুসম্পর্ক নেই : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চালানোর জন্য চিকিৎসকদের যে প্রধান সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং আ’ওয়ামী লীগের চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)- কারো সাথেই সুসম্পর্ক নেই মন্ত্রীর। এ কথা সবাই জানে। যার ফ’লে চিকিৎসকদের নিয়ে কোন টিমওয়ার্ক গড়ে উঠেনি ম’ন্ত্রণালয়ে।

নেতৃত্বের অভাব :স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল স’মস্যা হলো একজন নেতার অভাব। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কেউ নেতা মানতে রাজি নন। সচিবও নিভৃতচারী ব্যক্তি হিসেবে ফাইল ওয়ার্কেই অভ্যস্ত, তি’নিও নেতা নন। আর মহাপরিচালকের সঙ্গে চিকিৎসকদের দূরত্বের কথা সর্বজনবিদিত। ফলে নে’তৃত্বের অভাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বড় অ’সুখ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিদ্ধান্তহীনতা : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একের পর এক সি’দ্ধান্তহীনতায় ভোগে। যার জন্য একটি সি’দ্ধান্ত দিয়ে তা পাল্টে ফেলে। সিদ্ধান্তহীনতার এই স’ঙ্কট ক’রোনাকালে প্রবলভাবে ধরা পরেছে।

এই সমস্ত অসুখের কারণেই বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, করোনা মোকাবিলা তো করতেই হবে। কিন্তু তার আগে স্বা’স্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ’সুখ সারাতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো কে সারাবে এই অসুখ?

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 106
    Shares