প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

যেন আমলারা সবকিছুর উর্ধ্বে, তাঁরা অ’পরাধ করলে বি’চার করা যাবেনা

168
যেন আমলারা সবকিছুর উর্ধ্বে, তাঁরা অ’পরাধ করলে বি’চার করা যাবেনা
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আ’মলারা বাংলাদেশে যেন বিচারের উ’র্ধ্বে উঠে গেছে। তাঁরা কোন অ’পরাধ করলে প্রচলিত আইনে তাঁদের কোন বি’চার করা হয়না। সম্প্রতি সরকার একটি আইন করেছে যে, দূ’র্নীতি বা অন্য কোন অ’ভিযোগে কোন আ’মলা অভিযুক্ত হলে সরকারী অনুমতি ছাড়া তাঁকে গ্রে’প্তার করা যাবেনা।

এই আ’ইনটিকে সংবিধানের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কিন্তু বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও এই আ’ইনটি করা হয়েছে এবং এর আগে আমলাদের দা’য় মো’চন করা হয়েছিল কুইক রেন্টাল প্র’কল্পের সময়ে। বিদ্যুত বিভাগ তখন বিদ্যুত সঙ্কট মোকাবেলার জন্য কুইক রেন্টাল প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।  সেই প্রকল্পের বিরুদ্ধে যদি কোন সময় মা’মলা হয়, সেই মা’মলা থেকে আ’মলাদেরকে দা’য় মো’চন দেয়া হয়েছিল।

একটি বি’চারহীনতার সংস্কৃতি বাংলাদেশে গত কয়েকবছরে লক্ষ করা যাচ্ছে। যেন আমলারা সবকিছুর উর্ধ্বে, তাঁরা অ’পরাধ করলে বি’চার করা যাবেনা, দূ’র্নীতি করলে প্রচলিত আইনে কোন বি’চার হবেনা। শুধুমাত্র বিভাগীয় তদন্ত আর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভ’ঙ্গের কিছু শি’ষ্টাচার মেনেই আ’মলারা পার পেয়ে যাচ্ছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দূ’র্বিনীত হয়ে উঠেছে আ’মলাতন্ত্র।

যার সর্বশেষ উ’দাহরণ দেখলাম পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইকা শাহাদাতের বদলির আদেশ প্র’ত্যাহার করার মধ্য দিয়ে। তাঁকে ১৫ টন চাল কে’লেঙ্কারি’তে জ’ড়িত থাকার অভিযোগে প্র’ত্যাহার করা হয়েছিল কিন্তু এই প্রত্যাহার করার ১ দিনের মাথায় তাঁকে আবার তাঁর দায়িত্বে বহাল রেখে প্র’ত্যাহার আদেশ বাতিল করা হয়। অথচ সেই ঘটনায় ইউপি চেয়ার‍ম্যানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মা’মলা করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি এই প্রথম নয়, নতুন নয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। এই স’ময় আমরা আমলাতন্ত্রের দূ’র্বীনীত রূ’প দেখছি এবং তাঁরা যেন সবকিছুর উর্ধ্বে উঠে গেছে তাঁর কয়েকটি উদাহরণ আমরা এখানে উল্লেখ করছি-

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের অ’পরাধ : কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ দুইজন অধস্তন কর্মকর্তা রা’তের আধারে সাংবাদিক আরিফুর রহমানের বাসায় যায়। সেখানে তাঁরা ভূ’য়া মা’দকবি’রোধী অভিযানের নামে আরিফকে ধরে নিয়ে এসে বে’দমভা’বে মা’রধ’র করে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এর শা’স্তি কি হলো? সুলতানা পারভীনকে শুধুমাত্র ওএসডি করা হলো। এখন পর্যন্ত এই সুলতানা পারভীন আইনের আওতায় এসেছেন, গে’প্তার হয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মা’মলা হয়েছে- এমন তথ্য, প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। অথচ একজন সাধারণ নাগরিক বা রাজনীতিবিদ যদি এই অ’পরাধ করতো, তাহলে নি’র্ঘাত তাঁকে জে’লে যেতে হতো।

আরও পড়ুন:  অপারেশন ফরিদপুর: দু’র্নীতিবা’জ- অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কোন ছাড় নয়

জামালপুরের জেলা প্রশাসকের না’রী কে’লেঙ্কারি : গত বছরের আগস্টে না’রী কে’লেঙ্কারি’তে জড়িয়ে পড়েন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির। সেই অভিযোগের জন্য ত’দন্ত কমিটি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে চা’করীচ্যুত করা হয়। অথচ তাঁর অ’পরাধটি ফৌ’জদারি অ’পরাধে দ’ণ্ডনীয় অ’পরাধ, আহমেদ কবিরের বিরুদ্ধে ফৌ’জদারি আইনে কোন মা’মলা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।

জিকে শামীম কে’লেঙ্কারি : গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভাগে জিকে শামীমের রাজত্বের কথা প্রকাশ্যে আসে যখন তাঁকে গ্রে’প্তার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। গ্রে’প্তার হওয়ার পরেই দেখা যায় যে শুধু জিকে শামীম একা নন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভাগে আ’মলাতন্ত্রের একটি সিন্ডিকেট তাঁকে লালনপালন এবং পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিল। যে কারণে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বিভাগে অ’ঘোষিত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। জিকে শামীম গ্রে’প্তার হলেও এই ঘটনায় যত প্র’ভাবশালী আ’মলারা ছিলেন, তাঁরা সবাই ধ’রাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের জাল সার্টিফিকেট :২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে দূ’র্নীতি দ’মন কমিশন পাঁচজন সচিবের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জা’লিয়াতি’র অভিযোগ আনেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। যাদের বিরুদ্ধে এই মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জা’লিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল, তাঁরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকি, সাবেক বিজ্ঞান প্রযুক্তি সচিব আমির হোসেন।

এই মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট জা’লিয়াতির অ’ভিযোগ প্র’মাণিত হওয়ায় স্বাস্থ্য সচিব, মুক্তিযোদ্ধা সচিব এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি সচিবকে চাকরি থেকে অ’বসর দেয়া হয়- এইটুকুই। তবে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেই আমরা জানি এবং এই পাঁচ সচিব এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছে। অথচ সার্টিফিকেট জা’লিয়াতি একটি গ’র্হিত ফৌজদারি অ’পরাধ হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌ’জদারি আইনে কোন মা’মলা করা হয়নি।

আরও পড়ুন:  মাস্ক কে’লেংকারি’র তদন্ত রিপোর্টে গ’ডফা’দারদের নাম নেই

পদক কে’লেঙ্কারি : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে যখন কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকি সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন বিদেশি অতিথিদেরকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে যে সম্মাননা প’দক দেয়া হয়েছিল, সেই সম্মাননা পদকের সোনায় খা’দের পরিমাণ বেশি ছিল। এই নিয়ে ত’দন্ত কমিটি গঠন হয় এবং তাতে প্রমাণিত হয় যে, সোনায় ভে’জাল ছিল। এটিও একটি ফৌ’জদারি অ’পরাধ, ঐ সচিব এখন পর্যন্ত ব’হাল তবিয়তে আছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোন মা’মলা হয়নি।

এই ঘটনাগুলো যদি সাধারণ মানুষ বা রাজনীতিবিদরা করতেন তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌ’জদারি আইনে মা’মলা হতো, তাঁদেরকে জে’ল জ’রিমানা ভোগ করতে হতো। এখন আমরা দেখছি যে, চা’লচু’রির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জে’লে যেতে হচ্ছে, তাঁরা চা’করীচ্যুত হচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মা’মলা হচ্ছে। তাহলে আ’মলারা যদি একই অ’পরাধ করে, একই দূ’র্নীতি করে, সেক্ষেত্রে আ’মলাদের বিরুদ্ধে মা’মলা হতে বাঁধা কোথায়?

এখন ত্রাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমলাদের। আমরা জানি যে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ প্রশাসনের নানা রকম অ’নিয়ম-দূ’র্নীতি’র খবর কান পাতলেই শোনা যায়। তাই এই আ’মলাদের যদি জবাবদিহিতার আওতায় না আনা হয়, তাঁদের স্বচ্ছতা না থাকার পরেও যদি সমস্ত দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে কি সত্যি সত্যিই আমরা জনকল্যাণ করতে পারবো?

এই রাষ্ট্র কি তাহলে জনগণের নিবেদিত থাকতে পারবে? আ’মলারা কেন বি’চারের উর্ধ্বে থাকবে, এই প্রশ্নের উত্তর দরকার। বি’চারহীনতার সংস্কৃতি কোন সুশাসনের পক্ষে নয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 335
    Shares