প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

ত্রাণের ১৫ টন চাল চু’রি নিয়ে চলছে নানা নাট’কী’য়তা,অডিও ক্লিপ ফাঁ’স

101
ত্রাণের ১৫ টন চাল চু'রি নিয়ে চলছে নানা নাট'কী'য়তা
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজে’লায় ত্রাণের ১৫ টন চাল চু’রি নিয়ে চলছে নানা নাট’কী’য়তা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন আলোচনা-সমালোচনা চলছে তেমনি প্রশাসনিক তৎপরতাও চলছে চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় অ’ভিযু’ক্ত করে পেকুয়া উপজে’লার টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়াম্যান জাহেদুল ইস’লামকে তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। তার একদিন পরেই তাকে আওয়ামী লীগের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

একই ঘটনার জেরে গত ৩০ এপ্রিল পেকুয়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল উপজে’লার নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) সাঈকা শাহাদাতকে। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার বন্ধের দিনই আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়।

এদিকে, আ’লোচিত ত্রাণের চাল আত্মসাতের বিষয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা (পিআইও) এবং টৈটং ইউপি সচিবের পৃথক মোবাইল কথোপকথন।

এ কথোপকথনের সারম’র্ম হচ্ছে, আত্মসাৎ হওয়া ওই ১৫ টন ত্রাণের আড়াই টন চাল ও বাকি সাড়ে ১২ টনের টাকা উত্তোলন করে চেয়ারম্যান ইউএনওর কাছেই দিয়ে আসেন। ফাঁ’স হওয়া এ অডিও ক্লিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাফর আলম এমপি পেকুয়ার সাবেক পিআইও সৌভ্রাত দাশের কাছে প্রকৃত ঘটনা জানতে চান।

এ সময় পিআইও সৌভ্রাত দাশ বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে ইউএনও স্যার আমাকে বলেছিলেন, বরাদ্দকৃত এ ১৫ টন চালের মধ্যে আড়াই টন চাল এবং বাকি সাড়ে ১২ টনের টাকা ক্যাশ করে শুকনো খাবার ক্রয় করে উপজে’লার ৭ ইউনিয়নে বিতরণ করবেন। যেহেতু এ বরাদ্দ দেওয়ার সময় একজন চেয়ারম্যানকে পিসি করতে হয় সে কারণে রাজি হওয়ায় টৈটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদ ইস’লাম চৌধুরীকে পিসি করা হয়েছে।’

এ সময় এমপি জিজ্ঞেস করেন, ‘তোম’রা ম্যাডামকে বলনি যে, আপনি শুকনা খাবার দেওয়ার কথা এখন দিচ্ছেন না কেন?’ তখন পিআইও বলেন, ‘পরে যখন আমি ম্যাডামকে ফোন করে জাহেদ চেয়ারম্যান চাল বিক্রি করে আসার বিষয়টি জানালাম তখন তিনি চেয়ারম্যানকে সরাসরি তার কাছে পাঠাতে বললেন।’

আরও পড়ুন:  বিচারহীনতার কারণেই এমন ঘটনা’

তখন এমপি বলেন, ‘অহ্, টাকা পাওয়ার পরে তোমাদের আর পাত্তা দিচ্ছেন না?’

এদিকে গত ১৫ এপ্রিল সৌভ্রাত দাশ পেকুয়া থেকে বদলি হন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার সদরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা হিসেবে কর্ম’রত আছেন।

ফাঁ’স হওয়া অ’পর অডিও ক্লিপে জাফর আলম এমপিকে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুল আলিমের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। এতে এমপি জিজ্ঞেস করেন, ‘আলিম আমাকে একটা সত্য কথা বলো যে, জিআরের চাল বিক্রি করে টাকা’টা কি চেয়ারম্যান খেয়েছে নাকি ইউএনও নিয়েছে?’

এ সময় সচিব আবদুল আলিম বলেন, ‘সত্য হলো, আমাকে চেয়ারম্যান ফোন করায় একটি দুই টনের জিআরের ডিওর সাথে ১৫ টনের ডিওটিও নিয়ে চকরিয়া খাদ্য গুদামে যাই। এ সময় ইউএনও আমাকে ফোন করে আড়াই টন চাল ওনার ওখানে আমা’র লেবার দিয়ে নামিয়ে দিতে বলেন। পরে আমা’র ড্রাইভা’র গিয়ে উপজে’লা হলরুমের পাশে উপজে’লা চেয়ারম্যানের বাসভবনে চালগুলো নামিয়ে দেয়। এ আড়াই টন চাল আমি নিজে গিয়ে দিয়ে এসেছি। বাকি সাড়ে ১২ টনের টাকা আমি নিজ হাতে দেইনি তবে এ টাকাগুলো ওনাকেই দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি।’

এদিকে এ কথোপকথনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউপি সচিব আবদুল আলিম এমপির সঙ্গে কথোপকথনের সত্যতা স্বীকার করেন। আর সাবেক প্রকল্প কর্মক’র্তা সৌভ্রাত দাশ প্রথমে এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে অ’পারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কথাবার্তা এমপি মহোদয়ের সাথে আমা’র হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা সাঈকা শাহাদাতকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় এমপি জাফর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমা’র একজন ডেডিকে’টেড নেতার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ উঠবে আর আমি খবর নেবো না, তা তো হয় না। আমি বিভিন্নভাবে খবর নিয়েছি। এটি অস্বীকারের সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে ত’দন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:  বৃদ্ধের লুঙ্গি-গেঞ্জি ছিঁড়ে নি’র্যাতনের ঘটনায় প্রধান আ’সামি যুবলীগের সভাপতি গ্রে’প্তার

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করো’নাভাই’রাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য গত ৩১ মা’র্চ টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুকূলে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে সেই চাল লোপাটের বিষয়টি জানাজানি হলে ২৫ এপ্রিল থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ২৭ এপ্রিল বিষয়টি ত’দন্ত করতে পেকুয়া উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তার কার্যালয়ে অ’ভিযান চালান তারা।

এ সময় ওই প্রকল্প ফাইলে কোনো মাস্টাররোল না থাকাসহ কাগজপত্রের নানা ঘাটতি দেখতে পেয়ে স’ন্দেহ আরও জো’রালো হয় ত’দন্তকারীদের। পরে আ’লোচিত চেয়ারম্যান জাহেদুল ইস’লামকে নিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদে অ’ভিযান চালান গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ সময় চেয়ারম্যান গুদামের চাবি আনতে যাওয়ার কথা বলে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পরিষদে বসিয়ে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান। পরে ২৮ এপ্রিল রাতে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইস’লামের বি’রুদ্ধে চাল আত্মসাতের অ’ভিযোগে মা’মলা দায়ের করেন পেকুয়া উপজে’লা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক’র্তা আমিনুল ইস’লাম।

এদিকে ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনায় চেয়ারম্যানের বহিষ্কারের রেশ শেষ হতে না হতেই ৩০ এপ্রিল প্রত্যাহার করা হয় পেকুয়া উপজে’লা নির্বাহী অফিসার সাঈকা শাহাদাতকে। ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সংস্থাপন শাখার অ’তিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন শাহা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের এ বদলির কথা জানা যায়। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১ মে শুক্রবার বন্ধের দিন সেই বদলির আদেশ স্থগিত করে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 179
    Shares