প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

গার্মেন্টস,শপিংমল খুলে দেওয়া হলে মসজিদ বন্ধ কেন?

25
শপিংমল খুলে দেওয়া হলে মসজিদ বন্ধ কেন
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলাদেশে ছুটি নিয়ে এক অ’দ্ভুত নাটক চলছে এবং ছুটিটা ক্রমশ একটি প্র’হসনে পরিণত হয়েছে। ২৬শে মার্চ থেকে যে সা’ধারণ ছু’টি শুরু হ’য়েছিল তা পাঁচ দফা বাড়িয়ে ৫ মে প’র্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। আ’জ আবার ছুটির মেয়াদ আরেকদফা বাড়ানো হলো, অর্থাৎ ষষ্ঠ দফায় বাড়ানো হলো এবং স’রকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ১৫ মে পর্যন্ত এই ছু’টি বলবৎ থাকবে।

১৫ই মে বৃহস্পতিবার, ১৬ মে শুক্রবার, ১৭ মে শ’নিবার- অর্থাৎ ঈ’দের আগে আর অফিস আ’দালতে কা’জকর্ম শুরু হবার সম্ভাবনা এ’কেবারেই কম। এ’ই প্রে’ক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, এই ছু’টির অর্থবহতা নিয়ে, এই ছুটি কতটা প্র’য়োজন তা’ই নিয়ে। কারণ ষষ্ঠ দফায় ছু’টি যখন ঘোষণা করা হলো, ত’খন সাথে সাথে খু’লে দেয়া হয়েছে দো’কানপাট এবং শ’পিং মল। বলা হয়েছে যে, শ’র্ত সাপেক্ষে দো’কানপাট এবং শ’পিং মল খোলা থাকবে।

বি’কেল ৫ টা পর্যন্ত লোকজন সা’মাজিক দু’রত্ব বজায় রেখে কে’নাকাটা করতে পারবে। এর আগে গা’র্মেন্টস খু’লে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং গ’ণপরিবহন ব’ন্ধ থাকলেও গা’র্মেন্টস খো’লা রাখা হয়েছে। গা’র্মেন্টস মা’লিকরা বলেছিল তাঁরা সী’মিত আকারে গা’র্মেন্টস চালু করবে।

কিন্তু সী’মিত আকারে গা’র্মেন্টস চালু করতে গিয়ে তাঁরা সা’রাদেশের সকল গার্মেন্টস শ্র’মিকদের টে’লিফোন করে বলেছে যে অ’বিলম্বে কাজে যোগদান করতে হবে, নাহলে চা’করি চলে যাবে। চা’করি হারানোর ভ’য়ে যে যেভাবে পেরেছে, সা’মাজিক সং’ক্রমণের ভ’য়াবহ আ’বহ তৈরি করে তাঁরা প’ড়িমরি করে ছুটে এসেছে।

আবার স’রকারি ১৮ টি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে খু’লে দেয়া হয়েছে। যার ফলে রা’স্তাঘাটে এখন অ’নেক বেশি ভি’ড় লক্ষ্য করা যায়। এ’কদিকে বা’জারহাট খোলা, অ’ন্যদিকে সরকারি মন্ত্রণালয় খোলা, গা’র্মেন্টস খোলা- ফলে সামগ্রিকভাবে এই ছু’টি একটি প্’রহসনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই ছুটির অর্থ কি, কেন ছুটি? যখন ৮ মার্চ ক’রোনার সং’ক্রমণ শুরু হয়েছিল, তখন সা’রাদেশে স’মাবেশ বা গ’ণজমায়েতের মতো কর্মসূচী বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার।

আরও পড়ুন:  *মাস্ক নিয়ে কারসাজি রোধ করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ হাইকোর্টের*

এরপর ২৬ মার্চ থেকে সা’ধারণ ছু’টি ঘোষণা করা হয় এবং এখনো এই ছুটি অব্যহত রয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে ছু’টি চলবে যদি ১৫ মে পর্যন্তও ছুটি থাকে। কিন্তু এই ছুটিতে বি’ভিন্ন গোষ্ঠী এবং প্র’ভাবশালী মহলের চা’পে গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়েছে। বলা হলো যে, বি’দেশি বা’য়ারদের অ’র্ডার বাতিল হয়ে যাবে, তাই গার্মেন্টস খোলা হবে। গা’র্মেন্টস খোলার মাধ্যমেই আ’সলে ছুটির বারোটা বাজানো হয়েছে, দূ’র-দূরান্ত থেকে লোকজন যে যেভাবে পারে, সেভাবে ঢাকায় এসেছে।

প্’রথমদিনের ছুটি থেকেই ব্যাংক খোলা ছিল, জ’রুরী সেবামূলক সা’র্ভিসগুলো খোলা ছিল, হাসপাতাল সেবার কার্যক্রমের সাথে যারা যুক্ত তাদেরও ছু’টি ছিল না। এখন এই ছু’টিটি প্রায় উন্মুক্ত করে দেয়া হলো। এই ছু’টিটি আসলে কার জন্যে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর এতে ক’রোনার যে ভ’য়াবহ সং’ক্রমণের সু’যোগ সৃষ্টি হলো, তাঁর জবাব কে দেবে?

ক’রোনার সংক্রমণ রোধ করার জন্য ঘরে থাকা জরুরী, জরুরী সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা। আর সেজন্যেই ছুটি দেয়া হয়েছিল। তবে যখন গার্মেন্টস খোলা থাকছে, দোকানপাটগুলো খুলছে এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো খুলে দেয়া হয়েছে তখন এই ছুটির দরকারটাই বা কি এবং কেন এই ছুটি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, গার্মেন্টস যখন খুলে দেওয়া হয়েছে, শপিংমল খুলে দেওয়া হলো, তাহলে মসজিদ বন্ধ কেন?

কারণ গত কয়েকদিনের সরেজমিনে যেটা দেখা গেছে যে, গার্মেন্টসে যেভাবে শ্রমিকরা ঢুকছে, বের হচ্ছে এবং কাজ করছে তাতে সামাজিক দু’রত্বের কোন বালাই নেই। সা’মাজিক সংক্রমণের ব্যাপক শঙ্কা নিয়েই গার্মেন্টসগুলো চালু হয়েছে। সেদিক থেকে মসজিদগুলো অনেক নিরাপদ বলেই মনে করে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যদি বলা হতো যে সামাজিক সুরত্ব বজায় রেখে মসজিদে জামায়াতে নামায আদায় করতে হবে, তাহলে নিশ্চয়ই মানুষ সামাজিক দুরত্ব মেনে পড়তো।

আরও পড়ুন:  গ্রীষ্মকাল এলে করোনাভাইরাস এমনিতেই দূর হয়ে যাবে

তা’ছাড়া মসজিদে একটি নির্দিষ্ট অল্প সময়ের জন্য যাচ্ছে এবং সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা একটি বড় অনুষঙ্গ হিসেবে থাকে। আ’র সেকারণেই সা’ধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমশ প্রশ্ন উঠছে যে, এই ছুটি যেমন অর্থহীন, তেমনি গার্মেন্টস-শপিং মল খুলে দিয়ে মসজিদ বন্ধ রাখাও অর্থহীন। তা’হলে আমরা সব’কিছুই খুলে দেই না কেন? যে’ভাবে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে, হবে।

আ’মাদের যা হওয়ার হবে, কা’রো কোন দায় নেই। কারণ এই ছু’টিতে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো, ক্ষুদ্র-মা’ঝারি শিল্প কারখানাগুলোর যে ক্ষতি হচ্ছে, সেই ক্ষ’তি পোষানোর জন্য কেউ নেই যেমন, তেমনি এই ছু’টিতে সাধারণ মা’নুষকেও ঘরে রাখা হবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। তা’ই এটা কি ছুটি নাকি প্রহ’সন, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

পঁ’চাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যা ক’রার পর বাং’লাদেশের রা’জনীতিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অ’পপ্রচারগুলো হয়েছে তার সবচেয়ে বড়টি হলো ধর্’ম নিয়ে। পঁ’চাত্তরের প’রে আওয়ামী লীগকে ধর্মহীন পৃষ্টপোষক রাজনৈতিক দল হিসেবে আখ্যা দেওয়ার ষ’ড়যন্ত্র চলছিল।

এমনকি ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে এখানে উলুধ্বনি শোনা যাবে, মসজিদ সব বন্ধ হয়ে যাবে। সব সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রধান অ’স্ত্র ব্যবহার করা হয় ধর্ম নিয়ে। যদিও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই ইসলাম এবং ধর্মের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে।

যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়’যন্ত্র করে, তাদের নীলনকশার অংশ হিসেবেই কি এখন গার্মেন্টস খুলে মসজিদ বন্ধ রাখা হচ্ছে? যেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অ’পপ্রচার নতুন করে ডানা মেলে? এই সুযোগ যারা করে দিচ্ছে তারা কি ভেতরে থেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষ’ড়যন্ত্র করছে?

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 37
    Shares