প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আ’লীগ প্রথমবারের মতো বিরোধীদলের রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পরতে যাচ্ছে

43
৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আ'লীগ প্রথমবারের মতো বিরোধীদলের রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পরতে যাচ্ছে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

করোনা নিয়ে অস্থির দেশ। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে আর এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারকে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে ফেলছে। একাধিক বিরোধী দলোয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, ঈদের পরপরই তাঁরা সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই আন্দোলনে প্রায় সব বিরোধী দল যেন থাকে সে ব্যাপারে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ভেতরে আলাপ-আলোচনা করছে। বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে এখন নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং তাঁরা সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার ইস্যুতে অভিন্ন মতামত পোষণ করছেন বলেও জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, সরকারবিরোধী আন্দোলনের ইন্ধন দিচ্ছে ১৪ দলের কয়েকজন নেতা। তাঁরা মনে করছেন যে, সরকার যেভাবে করোনা মোকাবেলাসহ দেশ পরিচালনা করছেন তা অগ্রহণযোগ্য। ১৪ দলের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন যে, সরকার এখন আমলাদের নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন, এখানে রাজনীতিবিদদের কোন ভূমিকা এবং গুরুত্ব নেই। এই পরিস্থিতি চলতে পারে না। একারণেই তাঁরা মনে করছেন যে, দেশের এই পরিস্থিতিতে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যে ২০ দল পূনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ২০ দলকে আন্তর্জাতিক মহলসহ বিভিন্ন মহল যে উপদেশ দিয়ে আসছিল, তাঁরা যেন তাঁদের জোট থেকে জামাতকে বাদ দেয়, সেই প্রক্রিয়া ২০ দল শুরু করেছে। জামাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া যে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা নতুন দল, সেই দলটি এখন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হবে। জামাত ২০ দল থেকে বের হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন:  তাহলে কি আওয়ামী লীগ দু’র্নীতিবা’জদের সাথে আপোস করছে?

এমন একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ২০ দল থেকে যারা অভিমান করে বিভিন্ন সময়ে চলে গেছে, তাঁদেরকেও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানা গেছে। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়া ২০ দলের ব্যাপারে আগ্রহী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে তিনি আগ্রহী নন। আস্তে আস্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে সম্পর্ক বিএনপি চুকিয়ে দিবে এবং ২০ দলীয় জোটগতভাবে করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতা, ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-দূর্নীতিসহ বিভিন্ন ইস্যু সামনে নিয়ে এসে আন্দোলন করতে চায়। বিএনপির সাথে আদর্শগত ঐক্য না থাকলেও প্রায় অভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্দোলনের কথা ভাবছে বাম গণতান্ত্রিক মোর্চাও।

এই বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার দলগুলো মনে করছে যে গরীব মানুষদেরকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, সেই ত্রাণ সঠিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছেনা, বিতরণে অনেক অনিয়ম-দূর্নীতি হচ্ছে, করোনা মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছেন বলেও তাঁরা মনে করছে। আর এই সমস্ত প্রেক্ষাপটে ঈদের পরে পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে কর্মসূচী গ্রহণের কথা ভাবছে বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার নেতৃবৃন্দ। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার একজন নেতা বলেছেন যে, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তাতে মানুষের সর্বনাশ হবে। কাজেই তাঁরা এখানে চুপচাপ বসে থাকতে পারেনা। একটি সূত্র বলছে যে, গণফোরামসহ কয়েকটি দল বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার দলগুলোর সাথে মিলে বৃহত্তর একটি জোট গঠন করছে, তবে সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার দলগুলোর একজন শরীক।

আরও পড়ুন:  শুরু হয়েছে প্রশাসনে শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান

তিনি বলেছেন যে, আমরা আমাদের অবস্থান থেকেই আন্দোলন করবো। কেউ আমাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন করতে পারে। আবার আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রাধীন ১৪ দলের মাঝেও টানাপোড়েন এবং অসন্তোষ চলছে। ১৪ দলের অধিকাংশ শরীকরাই আওয়ামী লীগের একলা চলো নীতিতে অসন্তুষ্ট। তাঁরা মনে করছেন যে, যেভাবে সরকার এই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তা সঠিক হয়নি। তাছাড়া এই প্যাকেজ প্রণোদনা আরো বেশি দারিদ্র্য বান্ধব হওয়া উচিত বলে মনে করছেন।

১৪ দলের শরীক একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বলেছেন, সরকার এখন রাজনীতিবিদদের উপেক্ষা করে আমলাদের দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। এটা সহ্য করা যায়না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে যে, ঈদের পরপরই অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে মানুষের বেকারত্ব, মানুষের অভাব, দারিদ্র্যতাকে পুঁজি করে একটি মহল রাজনীতির মাঠ গরম করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 15
    Shares