প্রচ্ছদ অপরাধ

বাবা-ছেলে একই সঙ্গে মা ও দুই মেয়ে শি’শুকে ধ’র্ষণের মতো জ’ঘন্য কাজে অংশ নেয়

186
2020-05-15_162433
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

মা ও দুই কিশোরী মেয়েসহ চারজনকে হ’ত্যা এবং ধ’র্ষণে’র ঘ’টনায় দা’য়ের হওয়া মা’মলার ত’দন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৭ বছর বয়সী কিশোর পারভেজকে গ্রে’প্তার করে। জি’জ্ঞাসাবা’দের পর পারভেজ এই ঘটনায় একাই জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানবন্দি দিয়েছে। ঘটনায় পারভেজকে একমাত্র আ’সামি হিসেবে হাজির করে পিবিআই। এর পর মা ও দুই কিশোরী মেয়েসহ চারজনকে হ’ত্যা এবং ধ’র্ষণে’র ঘটনায় জ’ড়িত আরও ৫ জন র‌্যাবের হাতে গ্রে’প্তারে’র পর পাল্টে যেতে থাকে নৃ’শংস এই ঘটনার দৃ’শ্যপট। পুরো তদন্ত কার্যক্রম না’টকীয়ভা’বে মোড় নিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ঘটনাস্থল গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা জাফর, পরিদর্শক (অপারেশন) তারিকুজ্জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই মা’মলা’র তদন্ত ভিন্ন খাতে নিয়ে অন্য আ’সামিদে’র দা’য়মুক্তির পথ তৈরি করা হচ্ছিল। এতে জেলা পুলিশের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল।

তবে র‌্যাবের হাতে ৫ জন আ’সামি গ্রে’প্তারের পর দৃশ্যত দা’য়মুক্তি’র পথ বন্ধ হওয়ার পথে। প্রায় ২২ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক স্মৃতি আক্তার ফাতেমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন বাংলাদেশের যুবক রেজোয়ান হোসেন। তারা দুজনই তখন মালয়েশিয়ায় থাকতেন। ২০১০ সালে সন্তানদের গাজীপুরের শ্রীপুর আবদার গ্রামে ফেরেন তারা। রেজোয়ান ফের মালয়েশিয়া ফিরে যান কাজের জন্য। গত ২৩ এপ্রিল রেজোয়ান হোসেন স্ত্রী ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক স্মৃতি আক্তার ফাতেমা (৪৫), তার বড় মেয়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬), ছোট মেয়ে হাওয়ারিন (১০) ও প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিলের (৮) গ’লা কে’টে হ’ত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত পারভেজকে গত ২৬ এপ্রিল রাতে গ্রে’প্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারের পর পিবিআই জানায়, পারভেজ একাই এই চার খু’ন এবং ধ’র্ষণে’র সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিও দেয় পারভেজ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন ১৭ বছর বয়সী পারভেজের একার পক্ষে তিনজনকে ধ’র্ষণ এবং চারজনকে হ’ত্যা করা সম্ভব কিনা। যদিও পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পারভেজ হ’ত্যার পর অ’র্ধমৃ’ত অবস্থায় তাদের ধ’র্ষণ করে। মোবাইল চু’রি করতে গিয়ে সে এই ঘটনা ঘটায়।

আরও পড়ুন:  গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় নামাজ বাধ্যতামূলক

এমন প্রেক্ষাপটে এই ঘটনায় আরও অন্তত ৮-৯ জন জড়িত এমন তথ্যপ্রমাণ নিয়ে দৃশ্যপটে হাজির হয় র‌্যাব। গত ২৮ এপ্রিল এই ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রে’প্তারে’র বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব এই তথ্য দেয়। র‌্যাবের হাতে গ্রে’প্তারকৃ’তরা হলো- কাজিম উদ্দিন (৫০), হানিফ (৩২), বশির (২৬), হেলাল (৩০) ও এলাহি মিয়া (৩৫)। পিবিআইর হাতে গ্রে’প্তার একমাত্র আ’সামি পারভেজ র‌্যা’বের হাতে গ্রে’প্তার কাজিম উদ্দিনের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, বাবা-ছেলে একই সঙ্গে মা ও দুই মেয়ে শিশুকে ধ’র্ষণের মতো জ’ঘন্য কাজে অংশ নেয়। আ’সামিরা ডা’কাতি করতে ওই বাসায় হা’না দিয়েছিল। এ ছাড়া গ’ণধ’র্ষণের পর তাদের হ’ত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, র‌্যাব ৫ আসামিকে গ্রে’প্তারের পর তাদের জি’জ্ঞাসাবাদে ঘটনার আদ্যপান্ত উঠে আসে। পরে র‌্যাবের হাতে গ্রে’প্তার হওয়া আ’সামিদের পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তাদের হেফাজতে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের বিশেষায়িত এই তদন্ত ইউনিট।

এই প্রতিবেদক মা’মলা তদন্তকাজে যুক্ত বেশ কয়েক জন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বিষয়টি নিয়ে। তারা সবাই বলেছেন, সাধারণত এমন চা’ঞ্চল্যকর হ’ত্যা মা’মলার ক্ষেত্রে জি’জ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে দালিলিক প্রমাণ মিলিয়ে ঘটনা নিশ্চিত হয়েই তাদের স্বীকারোক্তির জন্য আদালতে পাঠানো হয়। ফো’র মা’র্ডারের ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের উচিত ছিল, পারভেজের কাছ থেকে অন্য খু’নিদের বিষয়ে তথ্য বের করে আনা। তারা সেটি কেন করলেন না এটি প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন:  কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার নিজের তৈরি মই বেয়ে পলায়ন

তদ’ন্তে ঘাটতি ছিল কিনা সেটি জানতে চাইলে গাজীপুর পিবিআইর পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বারবার জি’জ্ঞাসাবাদ সে (পারভেজ) একাই জ’ড়িত থাকার কথা বলেছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোনো গাফিলতি ছিল না। এখানে আসলে কিছু করার ছিল না। এখন র‌্যাবের আ’সামিদে’র আমরা জি’জ্ঞাসাবাদ করছি।’গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার দাবি করেন, তিন কর্মকর্তা প্র’ত্যাহারের সঙ্গে ফোর মা’র্ডারের ত’দন্তের সম্পর্ক নেই। এটি রুটিন ওয়ার্ক।

এদিকে, মা’মলার বা’দী এজাহারে এটিকে সংবদ্ধ অ’পরাধ হিসেবে উল্লেখ করে অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আ’সামি করেন। ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পুলিশের অ’পরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়নি। তবে সিআইডির ফরেনসিক শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় একজন জড়িত থাকা অসম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন প’লাতক রয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে র‌্যাব।’এ বিষয়ে অ’পরাধ বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশবিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, ‘পিবিআই তদন্ত সংস্থা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। তাদের এমন কিছু করা ঠিক হবে না যেটির কারণে সেই আস্থার জায়গায় চিড় ধরে। পিবিআইসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 146
    Shares