প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

বিএনপিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস

173
বিএনপিতে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঈদের পর বিএনপিতে বড় ধ’রণের পরিবর্তন আসছে। বিএনপির অ’নেক নেতা মনে করছেন যে বিএনপিতে প’রিবর্তনের ঝড় আসছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির পর হঠাৎ চা’ঙ্গা হওয়া দলটির নেতা-কর্মীরা উদ্যমী হলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ প্রায় অ’চল এবং অ’কেজো হয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া দুজনই মনে করছেন যে দ’লকে চাঙ্গা করতে হলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে যারা দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত, দলের কোন ক’র্মকাণ্ডে পাওয়া যায় না তাঁদেরকে স’রিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রবাহ সৃষ্টি করতে হবে। আর তাই করোনা সঙ্কটে নতুন করে প্রাণ পাওয়া বিএনপিতে এখন পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।

বিএনপির এ’কাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি বেগম খালেদা জিয়া এখন বেশ সন্তুষ্ট। ২৫ শে মার্চ বেগম খালেদা জিয়া জেল থেকে মু’ক্তি পাওয়ার পর স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কয়েকদিন প’রপরই তাঁকে গণমাধ্যমে দে’খা যাচ্ছে এবং সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র স’মালোচনা করছেনে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর যো’গাযোগ রয়েছে বলেই বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির আ’রেক নেতা সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভিও বেশ সরব ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণসহ স’রকারের স’মালোচন করতে তাঁকে অত্যন্ত সরব দেখা গেছে।

এই দুই নেতার বাইরে বিএনপির অন্যান্য নেতাদের তেমন দেখা যায়নি। এছাড়া নজরুল ইসলাম খান মাঝে মাঝে এ’সেছেন, কিছু কথাবার্তা বলেছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে পর্দার আ’ড়ালে থাকতে দেখা গেছে। বেগম খালেদা জিয়া যেদিন মুক্তি পায় সেদিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসকে দেখা গেলেও এর কয়েকদিন বাদে তাঁরা লা’পাত্তা হয়েছেন এবং দলের হাইকমান্ড এই জিনিসগুলো দেখেছেন।

আরও পড়ুন:  ড্যাব’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তারেক রহমানের বক্তব্য(ভিডিও)

বিএনপির একজন নেতা বলেন যে, বেগম খালেদা জিয়া যখন জে’লে ছিলেন তখন তিনি অনেককিছুই জানতেন না, দেখতেন না এখন তিনি সব খোঁজখবর নিচ্ছেন। লণ্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও এখন স’বকিছু দেখছেন। যে সমস্ত নেতারা অ’কেজো, যারা দলের জন্য কোন কাজই করতে পারছেন না এবং কোন অ’বদান রাখতে পারছেন না তাঁদেরকে বা’দ দিয়ে কাজ করতে পারে এরকম তরুণদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি অনেকদিন যাবত বি’বেচনায় ছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া গ্রে’প্তার হ’ওয়ার কারণে এই কর্মসূচীগুলো ব’ন্ধ হয়ে যায়। একজন নেতা আভাস দিয়েছেন যে, বিএনপির কা’উন্সিল দীর্ঘদিন যাবত হয়না। এখন করোনা সঙ্কটকালে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব না হলেও প্রস্তুতি নিতে হবে এবং সঙ্কট কেটে গেলে কাউন্সিল করে যেন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয় সে ব্যাপারে অনেক তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অন্য একটি সূত্র বলছে যে, কা’উন্সিল না হলেও দলের যেসব নেতাকর্মীরা অলস বসে আছেন, কাজ করছেন না বা দল করার কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না তাঁদেরকে আস্তে আস্তে স’রিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট মাহবুবুর রহমান নিজেই দলের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গু’টিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  বিএনপি বঙ্গবন্ধুকে স্বীকার করতে চায় না : তথ্যমন্ত্রী

ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াঁ অসুস্থতার জন্য দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন না। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই আছেন, এই নেই। তারপরেও তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাঁকে এ’খনই দলের স্থায়ী ক’মিটি থেকে বাদ দেওয়ার চি’ন্তাভাবনা করছে না দলের হাইকমান্ড। কিন্তু অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দলের কাজে তেমন কোন অবদান রাখতে পারছে না।

কাজেই বিএনপিতে একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটিসহ অন্যান্য অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোতে ক’র্মক্ষম এবং কাজ করতে পা’রদর্শী এমন নেতৃত্ব খোঁজা হচ্ছে। বিএনপির এক নেতা নাম প্র’কাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এখন মুক্ত এবং বিএনপির সংগঠন গোছানোর এটাই শ্রেষ্ঠ সময় এবং সংগঠন গোছানোর ক্ষেত্রে যারা পারফর্মার তাঁ’দেরকেই গুরুত্ব দিবে বিএনপি। কা’রণ করোনা সঙ্কট নিয়ে সামনে আওয়ামী লীগ আরো চাপের মধ্যে পড়বে এবং তখন যদি বিএনপির সংগঠিত হয়ে সরকারকে ঝাঁ’কুনি দিতে চায় তাহলে নেতৃত্বের পরিবর্তন দরকার সবার আগে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।