প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

ঢাকা ৭ ও ৮ আসনে মনোনয়ন

144
ঢাকা ৭ ও ৮ আসনে মনোনয়ন
ছবি : সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

জাতীয় সব নির্বাচনেই রাজধানীর থাকে আলাদা গুরুত্ব। নির্বাচনী হাওয়া বা আন্দোলনের গতি কোন দিকে তা দেখা ও জানার জন্য সারা দেশ তাকিয়ে থাকে ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের দিকে। ঢাকা জেলার আসনগুলোর মধ্যে দুই সিটি কর্পোরেশনে পড়েছে ১৫টি আসন।

সব আসনেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা জোট-মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এসব আসনে প্রধান দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই শতাধিক প্রার্থী। বিপুল সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় চাপে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বেশ কিছু আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে দল দুটিকে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। একেকটি আসনে ক্ষমতাসীন ও সরকারবিরোধী- দুই শিবির থেকেই গড়ে চার-পাঁচজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেষপর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার দোলাচলে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার)

লালবাগ-চকবাজার-বংশাল থানার ১৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পুরান ঢাকার এ অাসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। । দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে তিনি জয় হয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিস্কার করা হলেও পরে দল তাকে বরণ করে নেয়। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন।

শারীরিক অবস্থা নাজুক থাকায় হাজী সেলিমের পুত্র সোলায়মান সেলিমও দলের প্রাার্থিতা চাইতে পারেন। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবারও এ আসনে প্রার্থী হতে চান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিক আরো আছেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ন কবির, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রাথীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার কল্পনা। পাশাপাশি এ আসন থেকে ধানের শীষ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, পিন্টুর ভাই নাসিমউদ্দিন আহমেদ রিন্টু, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক কমিশনার মোশারফ হোসেন খোকন এবং মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মীর আশরাফ আলী আজম। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন।

ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল)

১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এবারও মহাজোটের প্রার্থী হবেন রাশেদ খান মেনন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও দেশের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল অধ্যুষিত এ গুরুত্বপূর্ণ আসনটি দলীয়ভাবে ধরে রাখার দাবি ওঠেছে আওয়ামী লীগে। এ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন সম্রাট, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাহালুল মজনুন চুন্নু ও বাহাদুর বেপারি। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপি থেকে বরাবরই ভোটের মাঠে লড়াই করে আসছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

কারাগারে থাকার কারণে গত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুন্নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এবার আইনগত জটিলতা না হলে মির্জা আব্বাসই এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন। তবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও এ আসনে মনোনয়ন চান।

সর্বশেষ আপডেট

Loading...

আপনার মতামত লিখুন :

Loading Facebook Comments ...