প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজধানী

রাজধানীতে আরেক রিফাতকাণ্ড,গরু কা’টা ছু’রি দিয়ে নি’র্মমভা’বে কো’পানো হল

113
রাজধানীতে আরেক রিফাতকাণ্ড
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

গত বছরের ২৬ জুন সকালে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী মিন্নির সামনেই কু’পিয়ে জ’খম করে একদল লোক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃ’ত্যু হয়। ব’র্বরো’চিত এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় খুব দ্রুত; চা’ঞ্চল্য সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে; বিবেকবান প্রতিটি মানুষ স্তম্ভিত হয়ে পড়েন খু’নিদের উন্মত্ততা দেখে।

সে ঘটনার ভ’য়াবহতা মানুষের মন থেকে এখনো মুছে যায়নি। এরই মধ্যে ঘটেছে আরেক রিফাতকাণ্ড। এবার খোদ রাজধানীতে, সেই একই রকম পৈ’শাচিকতায়। ঈদুল ফিতরের আগের দিন বিকালে ঘটে যাওয়া এবারের কাণ্ডের শি’কার হতভাগ্য যুবকের নাম মামুন (২৬)। তিনি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর বেডে বাঁ’চার জন্য লড়াই করছেন।

স্রেফ বিরিয়ানি কেনাকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদের জেরে স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত মা’দককা’রবারি ক’সাই সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে স’ন্ত্রাসী’রা মামুনের ওপর হা’য়েনার মতো ঝাঁ’পিয়ে পড়ে। অথচ মামুন কিছুই জানতেন না। তর্ক হয়েছিল তার এক বন্ধুর সঙ্গে। সেই বন্ধুকে না পেয়ে যু’দ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মামুনেরর ওপর হা’মলা চা’লানো হয়। হা’মলার পুরো দৃশ্য ধরা পড়েছে ঘটনাস্থলের পাশেই অবস্থিত একটি ভবনের বাসিন্দার মোবাইল ফোনে। সেই ক্লিপ এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতেও। রাজধানীর পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কে ঘটেছে ন্যক্কারজনক এ হামলা।

এ ঘটনায় মামুনের বড় ভাই নাসিরউদ্দিন মিলন বা’দী হয়ে গত মঙ্গলবার পল্লবী থানায় একটি হ’ত্যাচে’ষ্টার মা’মলা করেছেন। আ’সামি করেছেন স্থানীয় স’ন্ত্রাসী মো. সালাউদ্দিন ওরফে ক’সাই সালাউদ্দিন, হানিফ, ফয়সাল হোসেন ও রাজুসহ অচেনা ৭ থেকে ৮ জনকে। প্রাপ্ত ভিডিওতে রাস্তায় ফেলে মামুনকে গরু কা’টা ছু’রি দিয়ে নি’র্মমভাবে কো’পানোর দৃ’শ্য ভেসে উঠেছে। সেখানে এজাহারভুক্ত ৪ আ’সামি ছাড়াও অচেনা ১২ থেকে ১৩ যুবকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চা’ঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে ৬ দিন। কিন্তু গতকাল  বিকাল পর্যন্ত হা’মলাকা’রীদের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি পুলিশ। অথচ বা’দী বলছে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাসায় ঘুমাচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের ধরছে না।

এদিকে নিরপরাধ মামুনের ওপর হা’মলাকা’রীরা গ্রে’প্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে স্থানীয়রা। ক’সাই সালাউদ্দিনসহ অন্য হা’মলাকা’রীদের গ্রে’প্তার ও তাদের শা’স্তির দাবিতে গত শুক্রবার বিকালে মিছিল নিয়ে পল্লবী থানার সামনে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে সেøাগান দিতে দেখা গেছে তাদের।

অন্যদিকে বা’দীর অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মা’মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আ’সামিরা পা’লিয়ে থাকায় গ্রে’প্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ধরতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, পাঁচ বছর আগেও পল্লবীর মুসলিম বাজার এলাকায় ফুটপাতে বসে বিরিয়ানি ও মাংস বিক্রি করতেন ক’সাই সালাইউদ্দিন। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পরেন স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতিতে। দোকানের আড়ালে মা’দকের কা’রবার চালিয়ে অল্প সময়েই টাকার কুমির বনে যান তিনি। এখন মিরপুরেই সালাউদ্দিনের ৩টি বাড়ি; একাধিক ফ্লাট, ২টি দামি প্রাইভেটকার; রাইস এজেন্সি, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বিরিয়ানির দোকানসহ ১০টিরও বেশি দোকান। ক্যা’ডার বাহিনীর সদস্যদের কিনে দিয়েছেন দামি মোটরসাইকেলও। থানা পুলিশের সঙ্গেও সালাউদ্দিনের রয়েছে গভীর সখ্য। তাই আ’সামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

গতকাল মা’মলার বা’দী নাসিরউদ্দিন মিলন জানান, আ’হত মামুন পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশন, ত-ব্লকের একটি বাসায় সপরিবারে থাকতেন। গার্মেন্টে প্রিন্টিং মাস্টার পদে কাজ করতেন তিনি। গত ২১ মে বিরিয়ানি খেতে পল্লবীর মুসলিম বাজারে ক’সাই সালাউদ্দিনের ‘বিসমিল্লাহ বিরিয়ানী হাউজ’-এ যান মামুনের বন্ধু রানা ও হৃদয়। দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখার পরও বিরিয়ানি সরবরাহ না করায় দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে রানা ও হৃদয়ের কথা কা’টাকা’টি হয়।

এর জেরে ঈদের আগের দিন বেলা ৩টার দিকে ফিল্মি স্টাইলে সদলবলে প্রকাশ্যে গ’রু কা’টার অ’স্ত্রহা’তে ম’হড়া দিয়ে দুই বন্ধুকে এলাকায় খুঁজতে থাকে সালাউদ্দিন। ১২ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কে আশিকের বাসার সামনে হৃদয়কে পেয়ে যায় তারা। মা’রধ’রের এ’কপর্যায়ে কোনো রকমে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন তিনি। বিধি বাম; নামাজ শেষ করে এ সময় ওই পথ দিয়েই যাচ্ছিলেন মামুন। তাকে পেয়ে হা’য়েনা’র মতো ঝাঁ’পিয়ে পড়ে আ’সামিরা।

মা’রধ’রের একপর্যায়ে গরু কা’টার ছু’রি দিয়ে মাথায় এ’লোপা’তাড়ি কো’পাতে থাকে ক’সাই সালাউদ্দিন। হানিফের লাগাতার ছু’রিকা’ঘাতে বের হয়ে যায় মামুনের না’রী-ভুঁড়ি এমনকি পাকস্থলীও। দুই পায়ের পেছনে এবং কোমরে একের পর এক কো’পাতে থাকে ফরহাদ হোসেন। এ সময় মা-মা বলে চিৎকার করলেও মন গলেনি পা’ষ-দের। অন্য হা’মলাকা’রীদের অব্যাহত লাথি-ঘু’ষিতে একপর্যায়ে লু’টিয়ে পড়েন মামুন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বীরদর্পে হেটে যায় হা’মলাকা’রীরা। আহত মামুনকে প্রথমে নেওয়া হয় স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢামেকের আইসিইউতে।

নাসিরউদ্দিন মিলন বলেন, মামুন আ’শঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পাকস্থলী এখনো দেহের বাইরে। যে কোনো সময় খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেই কা-ের এত দিন পরও পুলিশ একটা আ’সামিও ধরতে পারল না! অথচ ক’সাই সালাউদ্দিনসহ অন্য আ’সামিরা প্রকাশ্যেই ঘুরছে এলাকায়। অনেকেই তাদের দেখেছে। মা’মলার ত’দন্তকারী কর্মকর্তাকে বলার পরও গ্’রেপ্তার হচ্ছে না তারা।

ছোট ভাইয়ের প্রাণ নিয়ে শঙ্কিত মিলন বলেন, মামুন এখন জীবন-মৃ’ত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই হা’মলাকারীদের সাঙ্গোপাঙ্গোদের হু’মকি-ধ’মকিতে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি আমরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে আ’সামিদের গ্রে’প্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শা’স্তি দাবি করেন মা’মলার বা’দী মিলন।

দেখুন ভিডিও

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 142
    Shares