প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ

সেই হাতিকে আতশবাজি ভরা আনারস ‘খাওয়ানো হয়নি’

77
সেই হাতিকে আতশবাজি ভরা আনারস ‘খাওয়ানো হয়নি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কেরালায় অন্তঃসন্ত্বা সেই হাতিকে আতশবাজি ও বারুদ ভরা আনারস খাওয়ানোর খবরটি মিথ্যা বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস (আইবি টাইমস)। কেরালার বন কর্মকর্তা এবং ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তারা।

এর আগে বুধবার (৩ জুন) প্রায় সব ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেই বলা হয়, অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়লে একটি আনারসে বারুদ ভরে টোপ দেয়া হয়। ওই আনারস খেতেই বিকট শব্দে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ঝলসে যায় হাতিটির মুখ। সেখানে মা’রা যায় হাতিটি। এমনকি ঘটনাটি এভাবেই সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরে বন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা।

তবে আইবি টাইমসের ‘ফ্যাক্ট চেক’ টিমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, যেভাবে ‘টোপ ফেলে’ বা ‘বারুদ ভরা আনারস খাইয়ে’ মারার কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। মূলত বন্য শূয়োরসহ জীবজন্তুর অনিষ্ঠ থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর পাতা সুরক্ষা ফাঁদে দু’র্ঘটনাবশত পড়ে মৃ’ত্যু হয়েছে হাতিটির।

ওই এলাকার বন কর্মকর্তা ড. এবি কাইয়ুম বলেন, কেউ হাতিটিকে আনারস খাওয়ায়নি। বরং কোথাও পড়ে থাকা আনারস সে নিজের ইচ্ছাতেই খেয়ে ফেলেছে।

আরও পড়ুন:  *১০০ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়*

ড. কাইয়ুম আরো বলেন, ‘কিছু মানুষ বন্য জীবজন্তুকে নিজেদের সম্পদ ও প্রা’ণনাশের হু’মকি হিসেবে ধরে নিয়ে এ ধরনের ফাঁ’দ পেতে থাকেন। যেসব লোকালয়ে বন্য জীবজন্তু সমস্যার সৃষ্টি করে, সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

বুনো শুয়োর প্রায়ই ফসলের ক্ষেত নষ্ট করে ফেলে বলে লোকজন তাদের শস্য ও ক্ষেতখামারের সুরক্ষায় এ ধরনের ফাঁদ পেতে থাকে বলেও জানান ড. কাইয়ুম। ক্ষেতখামারে ঢুকে পড়া বুনো শুয়োরদের হাত থেকে ফসল রক্ষায় চলতি বছরই ভারত সরকার কৃষকদের বাজি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে বলে জানা গেছে।

কিছু খবরে হাতিটিকে বুনো বলা হলেও আইবি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি কেরালার পালাক্কাড শহরের সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কের হাতি। আনারসটি খেয়ে ফেলার পর য’ন্ত্রণা শুরু হলে তা উপশমে হাতিটি পাশের ভেলিয়ার নদীতে ছুটে যায়। সেখানে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর নিথর হয়ে যায় ১৫ বছরের হাতিটি।

আরও পড়ুন:  শরীরে গরুর গোবর মাখলেই করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব

হাতিটির ম’রদে’হের ম’য়নাতদ’ন্তকারী বুনো পশু বিশেষজ্ঞ ড. ডেভিড আব্রাহাম বলেন, হাতিটির মৃত্যু হয়েছে ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে পানি জমে শ্বা’সরুদ্ধ হয়ে (নদীতে নামার পর হাতিটি পানিতে মুখ ডুবিয়েছিল)। প্রথমে আমরা কেউই জানতাম না যে হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। পরে তার হৃদযন্ত্রে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (গর্ভাবস্থায় তৈরি হওয়া তরল পদার্থ) দেখি এবং বুঝতে পারি প্রাণীটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এখন পর্যন্ত আমি আড়াইশ’র বেশি হাতির ম’য়নাত’দন্ত করেছি। কিন্তু এই প্রথম হাতির ভ্রুণ হাতে নিতে হলো আমাকে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।