প্রচ্ছদ বিনোদন

দেশের আ’লোচিত ঐশীর ঘটনা নিয়ে অশ্লীল ‘আগস্ট ১৪’

180
দেশের আ'লোচিত ঐশীর ঘটনা নিয়ে অশ্লীল ‘আগস্ট ১৪’
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

বাংলাদেশের কোনো ভিজ্যুায়াল কন্টেন্টে (অশ্লীল সিনেমা যুগ ছাড়া) এর আগে এমনটা দেখা যায়নি। সে’ক্স, কি’সিং সিন, দেদারসে গা’লাগালি, ছুড়ি হাতে উপুর্যুপুরি র’ক্তাক্ত করা এরকম সব সাহসী সিনে ভরপুর ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’।

মূলত বাংলাদেশের অন্যতম আ’লোচিত ঐশী কেসের গল্প নিয়েই সিরিজের প্লট। সিরিজে এমন দৃশ্যের অবতারণা কেন? পরিচালক শিহাব শাহীন ও ঐশী চরিত্রে অ’ভিনয় করা তাসনুভা তিশা এর উত্তর দিয়েছেন।

‘১৪ আগষ্ট’ কি সেই ঐশীর ঘটনায় নির্মিত?

শিহাব শাহীন: হ্যা আম’রা ওই সময় ঘটে যাওয়া ঐশীর ঘটনাটি বেইসড করেই এই ওয়েব সিরিজটি করেছি। এটা যেহেতু একটি নিষ্পত্তি হওয়া ঘটনা। আম’রা হাই’কোর্টের রায়, নিম্ন আ’দালতের রায়, তারপর পু’লিশের চার্জশিট, ত’দন্ত কর্মক’র্তা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এই গল্পটি সাজিয়েছি। ওই ঘটনা থেকে অনুপ্রা’ণিত হয়ে এই ওয়েব সিরিজটি করেছি।

তুশি চরিত্রে আপনি কেন?

তাসনুভা তিশা: ‘তুশি চরিত্রের জন্য আমিই কেন?’। এমন চরিত্রের অফার পেয়ে আমা’র মা’থাতেও এই কথাটিই প্রথম মা’থায় ঘুরছিল। এমনভাবে ঘুরছিল যে সে পরিচালক শিহাব শাহীনকেও জিজ্ঞাস করেছি। গল্পটা এত সেন্সিটিভ। শিহাব শাহীন নির্মাণ করছেন। কেন আমাকে বলা হলো? আমি কি পারবো? শিহাব ভাই বলছেন, অনেক চিন্তাভাবনা করেই তোমাকে অফার করা হয়েছে। জানি না এটা কেমন হয় তৈরীর পর। কিন্তু আমাদের সবার জন্য কিন্তু খুব চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয় হবে।

ঐশী (পর্দায় তুশি) চরিত্রে তাসনুভা তিশা পছন্দ কেন?

শিহাব শাহীন: তুশি চরিত্রের জন্য আম’রা লুক অ্যালাইকের দিকে জো’র দিচ্ছিলাম বেশি। দেখতে কতটা কাছাকাছি করা যায় চরিত্রটা। প্রসূনকেও পছন্দ করেছিলাম। কিন্তু ওর সমস্যা থাকার কারণে কাস্টিং করা হয়নি। পরে তাসনুভা তিশার সঙ্গে চরিত্রটা মিলাই। তার সঙ্গে চরিত্রের আলোচনা করে তার যে বাস্তব অ’ভিজ্ঞতা জানলাম জীবন স’ম্পর্কে; সব মিলিয়ে আমাদের কাছে মনে হয়েছে সেই পারফেক্ট চয়েজ। লুকের সঙ্গে লাইফ এক্সপেরিয়েন্সটাও কাজ করেছে। তাকে তৈরী করার জন্য বেশ সময় দিয়েছি। সেও নিজেকে তৈরী করার জন্য বেশ সময় দিয়েছে।

প্রচুর ক্রা’ইম থ্রিলার মুভি তাকে সাজেস্ট করেছি। ক্রা’ইম থ্রিলার বই পরতে বলেছি। আ’দালতের যে বিশ্লেষণ মে’য়েটি স’ম্পর্কে এক ধরণের সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় ভুগছিলো মে’য়েটি। সে ডিসঅর্ডারে ভুগছিল বাবা মাকে হ’ত্যা করার সময়। এটা আ’দালতেরই রায় ছিল। আম’রাও সেই দিকটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ কোন একটা মে’য়েকে খুঁজছিলাম। তা তৈরীতে আম’রা একসঙ্গে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসেছি, মুভি দেখেছি। তার সিগনেচার মুভ, সিগনেচার অ্যাকটিংয়ের দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

ওয়েব সিরেজের জন্য এই গল্পটি বেছে নেওয়ার কারণ কি?

শিহাব শাহীন: প্রথমত, এটি সেই সময়ে পুরো দেশের জন্য একটি আ’লোচিত ঘটনা ছিলো। পুরো দেশ থমকে গিয়েছিল এই ঘটনার সহিং’সতায়। এটার আরেকটি মূল কারণ হচ্ছে আ’দালতের রায়ে যে সমস্ত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন সেগুলো বাংলাদেশের সন্তান, বাবা মা, সর্বোপরি পরিবারের জন্য অ’ত্যন্ত শিক্ষণীয় একটি বিষয় হয়ে থাকবে। সেগুলোকেই আম’রা গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছি। সেটিও একিটি বড় উদ্দেশ্য ছিল।

বোল্ড সিন আছে জেনেই অ’ভিনয় করেছেন?

আরও পড়ুন:  ও খেতে শুরু করলে থামতেই চায় না

তাসনুভা তিশা: ‘আগস্ট ১৪’ সিরিজটিতে যেসব বোল্ড সিন আছে, অনস্ক্রিন সিগারেট খাওয়া, নে’শা করা- এমন সবই খুঁটিনাটি শিহাব ভাই কাজের প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গেই বলেছেন।শিহাব ভাইয়ের এই সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এটা এমন না যে হুট করে আমাকে বললো আর আমি করে ফেললাম। এগুলো তিনি সবই বলেছেন যে চরিত্রটা এগুলো ডিমান্ড করে।

বোল্ড সিনের জন্য সমালোচনাকে কিভাবে দেখছেন?

শিহাব শাহীন: এটা যেহেতু অ’প’রাধ জগতের গল্প। অ’প’রাধীকে কেন্দ্র করেই গল্প। অ’প’রাধীরা সাধারণ মানুষ না। অ’প’রাধীদের মানসিক গঠন, ভাষা, এক্সপ্রেশন, চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যটাই হয় ভিন্ন। আমা’র এই সিরিজটিতে কিন্তু গালি কেবল একটি চরিত্রই দেয়। সবাই কিন্তু গালি দেয় না। একমাত্র তুশি গালি দেয়। কারণ তার সাইকোলজিক্যালি সে অস্থির চিত্তের। আর সে ওই পরিবেশের সঙ্গে মিশে মিশে তার ভাষা বদলে গেছে। তার সঙ্গের কারেণেই এই ভাষাটা চলে এসেছে।

এখানে তো মে’য়েটা শুদ্ধ সুন্দর করে কথা বলার অবস্থায় ছিলো না। শুদ্ধ, সুন্দর করে কথা বলার নাট’ক তো করেই জীবনে অনেক। সেটা কি পারতাম না। কিন্তু সেটা রিয়েলিস্টিক হতো না। আর বোল্ডটা আপেক্ষিক। এতদিন আম’রা বোল্ড করিনি, তারপরও আমি দেখেছি আমাদের অ’ভিনেত্রীদের সামান্য কিছু দেখিয়ে কত কথা কি চলছে বাংলা নাট’কে! সামান্য ওরনা ছাড়া জামা দেখিয়ে বলছে কি চলছে বাংলা নাট’কে। এটি সম্পূর্ণরুপে আপেক্ষিক একটি বিষয়।আমা’র এখানে কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া এমন কিছু নেই যেটা তথাকথিত বোল্ড কিছু করা হয়েছে।

সমালোচকদের অনেকে বলছেন, আ’লোচিত হওয়ার জন্যই নাকি বোল্ড সিন রেখেছেন?

শিহাব শাহীন: এখানে দর্শককে প্রলুব্ধ করার জন্য কোন স্কিন শো করিনি। চামড়া দেখাইনি কোথাও। কিন্তু ওই মে’য়েটির আস্তে আস্তে কিভাবে বাবা মায়ের উদাসীনতা তাকে এই পর‌্যায়ে নিয়ে গেছে সেটা দেখানো হয়েছে। মা ব্যস্ত ছিলেন ডেসটিনির কাজ নিয়ে, বাবা তার পেশাগত কারণে সারাদিন বাইরে থাকতো। মে’য়েটি একা বাসায় থাকতো। তার মধ্যে নানা ভাবনা খেলে গেছে। ধীরে ধীরে সেটাকে প্রশ্রয় দিতে শুরু করেছে। গাইডেন্স, প্যারেন্টিং এর অভাবে কিভাবে একটা মে’য়ে অন্যদিকে চলে গেছে, স্বাভাবিকতা থেকে অস্বাবিকতার দিকে গেছে সেটা বুঝানোর জন্য কিছু দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

আ’দালত পরিস্কারভাবে রায়ে বলেছেন, মৃ’ত্যুদ’ণ্ড থেকে যখন হাই’কোর্ট তাকে যাব’জ্জীবন দেয়, নিম্ন আ’দালতও পরিস্কারভাবে বলেছেন প্যারেন্টিং এর একটা সমস্যায় বয়ো:সন্ধিকালে যখন তার বাবা মায়ের খুব দরকার ছিলো, মায়ের উপস্থিতি দরকার ছিল তখন তারা অনুপস্থিত ছিলেন।

অনুপস্থিতের শুন্যতায় কিভাবে অন্য কিছু প্রবেশ করেছে মে’য়েটির জীবনে। সেই জন্যই এই দৃশ্যগুলো এসেছে। কোনটিই দর্শক ধ’রা বা প্রলুব্ধ করার জন্য নয়। আর বোল্ড বলতে আমাদের সংস্কৃতির কারণে হয়তো অনেকে অনেক সময় অনেককিছু দেখতে পারি না। যারা না দেখতে পারেন দেখার দরকার নেই। যাদের ১৮ বছর হয়েছে তারা দেখবে। বিশেষ করে বাবা মায়ের এটা দেখা খুব জরুরি।আলাদা করে হলেও তাদের এটা দেখতে বলবো। আর এই দৃশ্যগুলো অবশ্যই বাবা মায়ের জন্য বোল্ড নয়। তারা দেখতেই পারেন আলাদা বসে।

আরও পড়ুন:  যেমন তারা গা’লি দিচ্ছে, তেমনি চু’মু, হ’স্তমৈ’থুন, যৌ’নতা- সব দৃ’শ্যতেই তারা অভিনয় করছেন

ড্রা’গ অ্যাডিকশনকে সেক্স অ্যাডিকশন দর্শক ধ’রার জন্য বানিয়েছেন বলে অ’ভিযোগ…

শিহাব শাহীন: এটি আ’দালতের কোথায় উল্লেখ নেই যে ড্রা’গ এডিকশনটা্ তার সে সময় ছিলো। এডিকশনের কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে তারও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাকে আ’ট’কে রাখা হয়েছিল। তার স্বাধীনতা হ’রণ করা হয়েছিল। এটি হ’ত্যার মূল কারণ ছিল। সে যখন নে’শার জন্য রাত বিরাতে বাইরে থাকা শুরু করে, যখন সে বখে যায় সেখান থেকে বাবা মায়ের নজড়ে আসায় দেরি হয়ে গেছে। বাবা মা স্ট্রংলি কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে।

কন্ট্রোলের চেষ্টাতে সে রিবোল্ড করে। এডিকট বলতে এডিকট ছিলো না। সে খু’নের আগে একমাস ব’ন্দি ছিলো। সে খু’নের পর যখন ডিবির অফিসে ছিলো তখন কোন কাপাকাপি, পাগলামি কিছু ছিলো না। সে ড্রা’গ এডিক্ট নয়। তার মানসিক অবস্থা এমনভাবে ছিলো যে কারণে খু’ন করেছে। আর বয়ো:সন্ধিকালে প্যারেন্টিং এর অভাব। এই দুটো কারণে খু’ন করেছে। এই রায় আ’দালত দেখিয়েছেন। তার বহু বয়ফ্রেন্ড ছিলো। এটা প্রমাণিত সত্য। যে ঘটনাগুলো চিত্রায়ন হয়েছে সেটিও আম’রা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি।

বোল্ড সিনে অ’ভিনয় কি আলোচনায় আসার জন্য?

তাসনুভা তিশা: আমি যতদূর জানি। শিহাব ভাই আমাকে বলেছেন এই ঘটনা ঘটেছিল। মে’য়েটা এভাবে করে প্রথমে যে ছে’লেটার সঙ্গে ফিজিক্যালি ইনভলব হয়, তারপর তার বন্ধুদের সাথে হয়। তো এটা একটা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। আমা’র ক্যারেক্টারটা স্টাবলিশড হতো না এটা ছাড়া। আমি যদি নর্মালি একটা এডিকটেড ক্যারেক্টার করতাম, সেটার হয়তো একটা দিক থাকতো।

কিন্তু এখানে মে’য়েটার এই যে ফিজিক্যালি ইনভলব হওয়া কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সে পরিচালক হিসেবে সেখানে আমাকে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তাতে তাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। যখন যে কাজটাই করি সেখানে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আর এই কাজটা সবকিছু মিলিয়ে একদম নতুন একটা বিষয়। আমি জানি না আমি কি করেছি। কিন্তু আমি ক্যারেক্টারে ঢুকেই করেছি।

চরিত্রটি করা কতটা কঠিন ছিল?

তাসনুভা তিশা: যেদিন খু’নের দৃশ্য করা হয় ওইদিন ভোর ৫ টা পর্যন্ত কাজ করেছি। আমা’র মানসিকভাবে সমস্যা হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কাউকে খু’ন করতে যাবে আজ। খু’নের দৃশ্য মানুষ দেখে এতটা ভ’য় পেয়েছে। তাহলে আমা’র অবস্থাটা কি হয়েছে? আমি তো ওটা ফিল করছি হ্যা ওনারা আমা’র বাবা মা। ওনাদের আমি খু’ন করতেছি।

আমা’র নিজের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। এই ফিলটা কাউকে বুঝাতে পারবো না। এই যে আমি মনিরা মিঠু আপা- শহীদুজ্জামান সেলিম ভাইয়ের ওপর গিয়ে ছুড়ির আ’ঘাত করতেছি বারবার।এটা যে কতটা লোমহর্ষক, সেটা আমি জানি। আমা’র নিজেরও মে’য়ে আছে। আমি নিজেও একজন বাবা মায়ের সন্তান। আমি জানি না। ওটা কিভাবে করেছি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 33
    Shares