প্রচ্ছদ জীবন-যাপন

দৈনন্দিন জীবনের কাজকে সহজ করতে রইল দারুন কার্যকরী ৬ টি টিপস

26
দৈনন্দিন জীবনের কাজকে সহজ করতে রইল দারুন কার্যকরী ৬ টি টিপস
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

সারাদিন নারীরা ঘরে বাহিরে নানা কাজে বেস্ত থাকে। ঘর সংসারের যাবতীয় কাজ শেষ করতে অনেক সময় চলে যায়। তাই আজ আমরা আপনাদের দিব এমন কিছু টিপস যা আপনাদের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করবে আর সময় বাঁচিয়ে দিনে।

বর্ষায় কাঠের আসবাবের যত্ন

শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে, ফলে আসবাবপত্রও স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। বাড়তি যত্ন না নিলে কাঠের আসবাব নষ্ট হয়ে যায় তাড়াতাড়ি।
জানলা থেকে একটু দূরে রাখার চেষ্টা করুন কাঠের আসবাব। এতে বৃষ্টির পানির ঝাপটা বা আর্দ্রতা সহজে এসে লাগবে না।

বর্ষাকালে কাঠের আসবাব দেয়ালের সঙ্গে একদম লাগিয়ে রাখবেন না। এ সময় দেয়াল ড্যাম্প হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ড্যাম্প দেয়ালের সংস্পর্শে এসে কাঠের আসবাব নষ্ট হয়ে যেতে পারে দ্রুত।
আসবাব পরিষ্কার রাখুন সবসময়। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কাঠের আসবাব শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। ধুলোময়লা খুব সহজেই বাতাসের আর্দ্রতা টেনে নিয়ে নষ্ট করে আসবাব।

কাঠের আলমারি বা অন্য আসবাবের ভেতর ন্যাপথালিনের বল রাখুন। এগুলো বাতাসের আর্দ্রতাকে টেনে নেয় এবং ঘুণ লাগার হাত থেকেও বাঁচায়। ন্যাপথলিন ছাড়াও নিমপাতা, লবঙ্গ রাখতে পারেন।
কাঠের আসবাবে ওয়েলকোট বা মোমের প্রলেপ করে দিতে পারেন এতে টেকসই হবে অনেক দিন।

তরকারির অতিরিক্ত লবণ দূর করবেন যেভাবে

তরকারি বা স্যুপে অতিরিক্ত লবণ পড়ে গেলে বাড়তি পানি যোগ করে দিন। দূর হবে অতিরিক্ত লবণ। যদি বেশি পাতলা হয়ে যায় তরকারি বা স্যুপ, সামান্য কর্ন ফ্লাওয়ার পানিতে মিশিয়ে দিয়ে দিতে পারেন।
টক দই দিলেও কমে যাবে বাড়তি লবণ। এছাড়াও রান্না ভেদে ক্রিম বা পনির কুচি দিতে পারেন।

তরকারি রান্নার সময় অতিরিক্ত লবণ পড়ে গেলে বাড়তি সবজি যোগ করতে পারেন। বরবটি, আলু- এগুলো দিয়ে বাড়িয়ে ফেলুন তরকারি আর কমিয়ে ফেলুন লবণ।
সামান্য চিনি যোগ করে দূর করতে পারেন বাড়তি লবণ।
লবণ কিংবা ভিনেগার মেশালেও দূর হয় লবণ।

টমেটোর খোসা ছাড়ান তিন উপায়ে

টমেটো ধুয়ে সেদ্ধ করুন। প্যানে দেওয়ার আগে মাঝ বরাবর ছুরি দিয়ে এক্স আকৃতি করে আঁচড় দিন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন এক্স অংশটির খোসা উঠে আসতে শুরু করেছে। সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে বরফ-ঠাণ্ডা পানিভর্তি পাত্রে ডুবিয়ে দিন টমেটো। ছুরির সাহায্যে এ অংশ থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিন।

টমেটোর খোসা ছাড়ান তিন উপায়ে

খুবই পাতলা হওয়ার কারণে টমেটোর খোসা ছাড়ানো বেশ কষ্টসাধ্য। যদিও বেশিরভাগ সময়ই প্রয়োজন পড়ে না এর খোসা ছাড়ানোর। রান্না অথবা সালাদে দিব্যি খোসাসহই খাওয়া যায় টমেটো। কিন্তু সস কিংবা স্যুপে দেওয়ার সময় প্রয়োজন খোসা ছাড়ানোর। জেনে নিন সহজ তিনটি উপায়।

সেদ্ধ করে খুব সহজেই ছাড়াতে পারেন টমেটোর খোসা

টমেটো ধুয়ে সেদ্ধ করুন। প্যানে দেওয়ার আগে মাঝ বরাবর ছুরি দিয়ে এক্স আকৃতি করে আঁচড় দিন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখবেন এক্স অংশটির খোসা উঠে আসতে শুরু করেছে। সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে বরফ-ঠাণ্ডা পানিভর্তি পাত্রে ডুবিয়ে দিন টমেটো। ছুরির সাহায্যে এ অংশ থেকে খোসা ছাড়িয়ে নিন।
ওভেনে গরম করে খোসা ছাড়ান এভাবে

টমেটো মাঝ থেকে অর্ধেক করে কেটে নিন। একটি ট্রেতে বেকিং সিট বসিয়ে কাটা অংশটি নিচের দিকে মুখ করে রাখুন। ৪২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট রাখুন অভেনে। সামান্য ঠাণ্ডা হলে খোসা ছাড়িয়ে নিন। আস্ত টমেটো ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। কয়েক ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা টমেটো মুখবন্ধ ফ্রিজার ব্যাগে রেখে দিন একই স্থানে। খোসা ছাড়ানোর আগে বের করে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছাড়িয়ে ফেলুন খোসা।

কাচের বাসনের যত্ন

শোকেসে তুলে রাখা শখের ডিনার সেট হোক কিংবা নিত্যদিন ব্যবহারের বাসন হোক, কাচের বাসন দীর্ঘদিন ঝকঝকে রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্ন। যত্নের অভাবে কাচের বাসন ফ্যাকাশে বা হলদেটে হয়ে যেতে পারে। এছাড়া স্ক্র্যাচ পড়েও নষ্ট হয়ে যেতে পারে বাসন। জেনে নিন টিপস।

কাচের বাসন ধোওয়ার সময় সিঙ্কে একটা টাওয়েল বিছিয়ে নিন। উপরে বাসন রাখুন। এতে কাচের বাসন সহজে ভেঙে যাবে না।
কুসুম গরম পানিতে ৪ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কাচের বাসন আধাঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর মাইল্ড সোপ দিয়ে ধুয়ে নিন।

খসখসে বা মেটাল স্ক্রাবার দিয়ে কখনই কাচের বাসন পরিষ্কার করতে যাবেন না। স্ক্র্যাচ পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বাসন। নরম স্পঞ্জ দিয়ে পরিষ্কার করুন।
কাচের পাত্রে গরম খাবার ঢালার সময় পাত্রের মধ্যে একটা চামচ রেখে দিন। এতে পাত্রে ফাটল ধরবে না।

তেলমসলাযুক্ত খাবার রাখলে সাবান দিয়ে ধোওয়ার পর একবার ভিননেগার মেশানো পানি দিয়ে ধুয়ে নিন বাসন। তেলতেলে ভাব দূর হবে।
পরিষ্কার সুতি কাপড়ে সামান্য ভিনেগার ঢেলে বাসন মুছে নিতে পারেন। বাসন নতুনের মতো ঝকঝক করবে।

চাল ধোয়া পানিতে কাচের বাসন কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে নিন। বাসনের উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে।
বাসন পানি দিয়ে ধুয়ে সঙ্গে সঙ্গে মুছে ফেলুন। নাহলে পানির দাগ বসে যেতে পারে।

বাসন মোছার জন্যে স্পঞ্জ বা একই কাপড় ব্যবহার না করে পেপার টাওয়েল ব্যবহার করুন করুন। এতে জীবাণু কম ছড়ায়।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে কাচের বাসন হলদেটে হয়ে যায়। এক্ষেত্রে বাসন কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সামান্য লবণ ঘষে পরিষ্কার করে নিন।

বোন চায়নার বাসনে দাগ পড়ে গেলে ঈষদুষ্ণ পানিতে সামান্য বেকিং সোডা মিশিয়ে বাসন ডুবিয়ে রাখুন। তারপর ভালো করে ধুয়ে নিন।
কাচের গ্লাস পরিষ্কার করার সময় গ্লাসে কিছুটা সাদা ভিনেগার ঢালুন। গ্লাসের গায়ে ভালো করে ভিনেগার লাগিয়ে নিন। গ্লাসে এক টেবিল চামচ ভাত দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঝাঁকিয়ে নিন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গ্লাস ঝকঝকে হয়ে যাবে।

কাচের বাসন স্টোর করার সময় দুটো প্লেটের মধ্যে পেপার ন্যাপকিন রেখে দিন। প্লেটে স্ক্র্যাচ পড়বে না।
অনেকদিন ধরে বেসন পড়ে থাকলে ফেলে দেবেন না। কাচের বাসন ধোওয়ার জন্যে ডিটারজেন্টের মতো ব্যবহার করুন। ঝকঝকে হবে বাসন।
বড় কাচের গ্লাসের মধ্যে ছোট কাচের গ্লাস অনেকসময় আটকে যায়। এই অবস্থায় গ্লাস দুটি ফ্রিজে কিছুক্ষণ রেখে দিন। সহজে আলাদা হয়ে যাবে গ্লাস।

রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চিনবেন যেভাবে

সময়ের আগে বাজারে আনতে অনেক ব্যবসায়ী রাসায়নিক দিয়ে পাকায় আম। জেনে নিন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম চেনায় উপায়।
পুরো আমের খোসাই উজ্জ্বল হলুদ রঙের হবে যদি সেটা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। যদি প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম হয় তবে কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ রঙ দেখা যাবে।

বাইরে থেকে দেখে পাকা লাগলেও ভেতরের অংশ শক্ত ও কাঁচা থাকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের। এ ধরনের আমের ভেতরের অংশ হয় হালকা হলুদ রঙের। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের ভেতরে থাকে গাঢ় ও লালচে হলুদ রঙ।

স্বাদে খুব একটা পার্থক্য না থাকলেও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম খেলে মুখে হালকা জ্বলুনি হতে পারে।
পাকা আমে যদি রস তুলনামূলকভাবে কম থাকে, তবে বুঝতে হবে এটি প্রাকৃতিকভাবে পাকেনি। রাসায়নিকের কারণে শুকিয়ে গেছে রস।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম পানিতে ছেড়ে দিলে ডুবে যাবে। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম হালকা হয়, তাই এটি ভেসে থাকবে।

খুলতে পারছেন না বয়ামের ঢাকনা?

আচারসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য রাখার জন্য কাচের বয়াম বহুল ব্যবহৃত। তবে এ ধরনের বয়াম বেশ কিছুদিন পর খুলতে গেলে প্রায়ই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। শক্ত হয়ে এঁটে থাকা ঢাকনা খুলতে পারেন কয়েকটি পদ্ধতি মেনে।

খালি হাতে চেষ্টা করবেন না, হাত ভেজা থাকলে তো একেবারেই নয়। মোটা কাপড়, রাবার গ্লাভস বা গামছা হাতে মুড়িয়ে চেষ্টা করুন।
পানি গরম করে একটি পাত্রে ঢেলে নিন, তবে ফুটন্ত পানি যেন না হয়। অতিরিক্ত গরম হলে কাচের বয়াম ফেটে যেতে পারে। গরম পানিতে বয়াম উল্টো করে ডুবিয়ে দিন। কয়েক মিনিট পর কাপড়ের সাহায্যে ধরে ঢাকনা খুলে ফেলুন।

হেয়ার ড্রায়ার ধরে রাখুন ঢাকনা বরাবর। এক মিনিট পর রাবাবের গ্লাভস পরে খুলে ফেলুন।
হেয়ার ড্রায়ারের সাহায্যে খুলুন ঢাকনা। ছবি- ইন্টারনেট

যদি ঢাকনা চওড়া হয় তবে একটি রবার ব্যান্ড লাগিয়ে নিন ঢাকনার উপর। এটা ধরে চাপ দিয়ে ঢাকনা ঘোরান। প্রয়োজনে আরও একটি রবার ব্যান্ড ব্যবহার করুন।
বয়ামের নিচে হাত দিয়ে বা চামচ দিয়ে আস্তে করে আঘাত করুন। এতেও অনেক সময় সহজে খুলে আসে ঢাকনা।
মাখন লাগানোর ছুরি সাবধানে ঢাকনা এবং বয়ামের মাঝখানে স্লাইড করে ঢুকিয়ে একটু মচকে নিন। এটি সাবধানে করতে হবে যেন বয়ামের ক্ষতি না হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 2
    Shares