প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ১৩টি ভাই’রাস স’ম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি

33
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ১৩টি ভাই'রাস স'ম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি
পড়া যাবে: 6 মিনিটে

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অনেক মহামা’রি হয়েছে যা কেড়ে নিয়েছে হাজারো মানুষের প্রা’ণ। তবে সবথেকে ভ’য়ানক ছিল ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃ’ত্যু। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই ব্ল্যাক ডেথ বীভৎস, অমানবিক ও কালো ইতিহাস বহন করছে। কারণ এর মতো আ’লোচিত মহামা’রী আর কখনো হয়নি।

এই ভাই’রাসের কবলে পড়ে পৃথিবীব্যাপি ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ সালের মধ্যে ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের (ইউরেশিয়া) ৭৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন মানুষ মৃ’ত্যুবরণ করেন। এক অংশের মতে, রোগটি ছিল একপ্রকার গ্রন্থিপ্রদাহ’জনিত প্লেগ। অন্য অংশের দাবি এই ভ’য়ানক মহামা’রী ঘটেছিল ইবোলা ভাই’রাসের কারণে। ইঁদুর ছিল এই রোগের প্রধান জীবাণুবাহী।

তবে বর্তমানে আমা’রা আবারো সম্মুখীন হয়েছি করো’নার মতো ভ’য়ানক ভাই’রাসের। যার উৎপত্তিস্থল চীনের উহান শহর। যা ছড়িয়ে পড়ছে সারা’বিশ্বে। করো’নাভাই’রাস এখন বিশ্বব্যাপি মহামা’রী রূপ নিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে ভ’য়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগে করো’নাভাই’রাসে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষের মৃ’ত্যুর আশ’ঙ্কা প্রকাশ করে মা’র্কিন গবেষণা সংস্থা।

পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য মহামা’রির ঘটনা ঘটেছে, মৃ’ত্যু হয়েছে কোটি কোটি মানুষের। ইতিহাসে এর আগে যেসব রোগ মহামা’রি রূপ নিয়েছিল সেগুলো নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে ১৩টি বিপজ্জনক ভাই’রাস স’ম্পর্কে-

ইবোলা

১৯৭৬ সালে এ ভাই’রাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। মা’র্বুগ ভাই’রাসের সঙ্গে এ ভাই’রাসের ঘনিষ্ঠ স’ম্পর্ক রয়েছে, যা ১৯৬৭ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। উভয় ভাই’রাসই ফিলো’ভিরিডায়ে পরিবারের সঙ্গে জড়িত ও মানবদেহে রোগ সংক্রমণের জন্য দায়ী।

ইবোলা ভাই’রাসের পাঁচটি ভিন্ন নাম রয়েছে – ইবোলা-জায়ারে, ইবোলা-সুদান, ইবোলা-আইভোরি কোস্ট, ইবোলা-রেস্টন এবং ইবোলা-বুন্দিবুগিও। এ নামকরণগুলো ছড়িয়ে পড়া এলাকার নামানুসারে হয়েছে। ভ’য়ংকর এই ইবোলাভাই’রাসে মৃ’ত্যু হার ৫০ শতাংশের মতো।

২০১৪ ও ২০১৬ সালের মধ্য আফ্রিকায় বড় প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১১ হাজার মানুষ মা’রা গেছে। ইবোলা ভাই’রাসে সংক্রমিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃ’ত্যুই অবধারিত। এই অ’সুখের ওষুধ বা টিকা আবিষ্কার হয়নি এখন পর্যন্ত।

তবে একটা ভালো খবর হলো খুব সংক্রামক নয় এটি। ইবোলা ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হলে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই মৃ’ত্যুর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। লক্ষণগুলো ধ’রা পড়ে ভাই’রাস সংক্রমণের দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর, যেগুলো হল জ্বর, গলা ব্যথা, পেশীর ব্যথা, এবং মা’থা ধ’রা। সাধারণত এর পর গা গো’লানো, বমি, এবং ডাইরিয়া হয়, সঙ্গে লিভা’র ও কিডনীর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। এই জায়গাতে এসে কিছু মানুষের র’ক্তপাতজনিত সমস্যা শুরু হয়।

ডিজিজ এক্স বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পৃথিবীব্যাপী মহামা’রি ঘটাতে পারে এমন অ’সুখের তালিকায় নতুন র’হস্যময় অ’সুখ ‘ডিজিজ এক্স’ এর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। ডিজিজ এক্স শুনে অ’পরিচিত মনে হতে পারে। এটি কোনো রোগের নামও নয়। তালিকায় থাকা এই নামের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ডিজিজ এক্স হলো এমন কোনো রোগ যা মানবজাতির কাছে এখনো অজানা, কিন্তু তা আন্তর্জাতিকভাবে মহামা’রির রূপ নিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, একটা অজানা রোগে পৃথিবীজুড়ে ব্যাপক মহামা’রি দেখা দিতে পারে বলে আম’রা অনুমান করছি এটা বুঝাতেই ‘ডিজিজ এক্স’ সম্ভাব্য মহামা’রির তালিকায় যোগ করা হয়েছে।

লাসা

লাসা জ্বর সংক্রমিত চর্বি, ইঁদুরের প্রস্রাব দ্বারা দূষিত খাদ্য এবং ইঁদুরের স্প’র্শ করা খাবার থেকে ছড়ায়। এই রোগে আ’ক্রান্ত হলে জ্বরের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অংশে র’ক্তক্ষরণ হতে পারে এবং চোখে ও নাকে সংক্রমণ হতে পারে। লাসা জ্বরটি পশ্চিম আফ্রিকা বিশেষ করে নাইজেরিয়াতেই বেশি দেখা যায়। দেশটির লাসা শহরে এ রোগটি প্রথম দেখা দিয়েছিল ১৯৬৯ সালে।

জিকা ভাই’রাস

মশার মাধ্যমে দ্রুত এ ভাই’রাসটি ছড়ায়। ভাই’রাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোনো রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্য দিয়ে এর স্থা’নান্তর হয়। পরে ওই মশাটি অন্য ব্যক্তিদের কামড় দিলে তা ছড়াতে থাকে।

এরপর ওই ব্যক্তিদের মাধ্যমেই ভাই’রাসটির বিস্তার ঘটতে থাকে। তবে যৌ’ন সংসর্গের মাধ্যমেও রোগটি ছড়াতে পারে। উগান্ডার জিকা ফরেস্ট এলাকায় বানরের মধ্যে ১৯৪৭ সালে এটি আবিষ্কৃত হয়। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ায় এ ভাই’রাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। রিফট ভ্যালি ফিভা’র (আরভিএফ) মশা বা র’ক্ত খেয়ে থাকে এমন পতঙ্গ থেকে এই ভাই’রাসের সূচনা হয় যা গরু বা ভেড়াকে আ’ক্রান্ত করে থাকে। কিন্তু এটিও পরে মানব শরীরে সংক্রমিত হতে পারে।

বেশী আ’ক্রান্ত হলে মানুষের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। মূলত আ’ক্রান্ত পশু থেকে এটি মানুষের শরীরে আসে। এমনকি আ’ক্রান্ত গরু বা ভেড়ার দুধ থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। ১৯৩১ সালে কেনিয়ার রিফট ভ্যালিতে প্রথম এ ভাই’রাসটি চিহ্নিত হয়।

মা’র্স ভাই’রাস

এটি সার্সের একই গোত্রীয় একটি ভাই’রাস। ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরবে এই ভাই’রাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় এবং সেখানে আ’ক্রান্তদের ৩৫শতাংশ মা’রা গেছেন। এই রোগের নাম দেয়া হয় মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে মা’র্স। সৌদি আরব ছাড়াও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ওমান, আরব আমিরাত, মিসর ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কটি দেশে।

ধারণা করা হচ্ছে, মানবদেহে এই ভাই’রাস এসেছে উট থেকে। কাতার, ওমান, সৌদি আরব ও মিসরে উটের র’ক্তেও মা’র্স ভাই’রাসের অস্তিত্ব পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এছাড়া সৌদি আরবে বাদুড়ের র’ক্তেও পাওয়া গেছে এই ভাই’রাস। মানুষ থেকে মানুষে ভাই’রাস ছড়িয়েছে হাঁচি, কাশি, নিকট অবস্থান ইত্যাদি থেকে।

সার্স ভাই’রাস

সার্স অর্থাৎ সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি ভাই’রাসের উৎপত্তি চীনে। বিজ্ঞানীরা বলছেন খাটাশ জাতীয় বিড়াল থেকে ভাই’রাসটি এসেছে।

তবে এটিও বাদুরের সঙ্গে স’ম্পর্কিত। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে দু’বার এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আট হাজারের বেশি আ’ক্রান্তের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃ’ত্যু হয়। ভাই’রাসটিতে আ’ক্রান্ত হলে ভয়াবহ শ্বা’সক’ষ্ট দেখা দেয়। তবে ২০০৪ সালের পর থেকে এ ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

মা’রবুর্গ ভাই’রাস

এটি প্রায় ইবোলার কাছাকাছি একটি ভাই’রাস। আ’ক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্য কেউ এতে সংক্রমিত হতে পারে। ইবোলার মতোই এর উৎস হিসেবে বাদুড়কেই ভাবা হয়।

এতে আ’ক্রান্ত হলে আট থেকে নয় দিনের মধ্যেই কারও মৃ’ত্যু হতে পারে। জার্মান শহর মা’রবুর্গের নামে এর নামকরণের কারণ হলো ১৯৬৭ সালে এখানে প্রথম ভাই’রাসটি শনাক্ত হয়। পরে তা ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডেও ছড়িয়ে পড়ে।

সিসিএইচএফ ক্রা’ইমিয়ান কঙ্গো হেমোরেজিক ফিভা’র বা সিসিএইচএফ এক ধরনের এঁটেল পোকা (টিকস পতঙ্গ) থেকে ছড়ায়, যা মানুষের মধ্যে বড় প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে। এতে মৃ’ত্যু হার ৪০ শতাংশ। ক্রা’ইমিয়াতে ১৯৪৪ সালে প্রথম ও পরে কঙ্গোতে এটি চিহ্নিত হয়। ভাই’রাসটি পুরো আফ্রিকা, বলকান অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার কিছু এলাকায় পাওয়া যেতে পারে।

এই রোগে হঠাৎ করেই কেউ আ’ক্রান্ত হতে পারে যার লক্ষণ মা’থাব্যথা,বেশি জ্বর, মেরুদ’ণ্ড ব্যথা, পাকস্থলীতে ব্যথা ও বমি। হেনিপেভিরাল রোগ হেনড্রা ভাই’রাস প্রথম চিহ্নিত হয় অস্ট্রেলিয়ায়। এটাও বাদুড় থেকেই থেকেই হয় এবং ঘোড়া ও মানুষ ভয়াবহ আ’ক্রান্ত হতে পারে।

১৯৯৪ সালে ব্রিসবেনের একটি শহরতলীতে এটির প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এরপর থেকে অন্তত ৭০টি ঘোড়া এতে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছে আর আ’ক্রান্ত সাত জনের মধ্যে চার জন মা’রা গেছে।

নিপাহ ভাই’রাস

নিপাহ ভাই’রাস বাদুড় থেকে পশুপাখি ও মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে। জ্বর, বমি কিংবা মা’থাব্যথা এ রোগের লক্ষণ। মানুষ কিংবা পশুপাখি কারো জন্যই কোনো প্রতিষেধক এখনো বের হয়নি।

এ রোগে মৃ’ত্যুর হার ৭০ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শূকরের মধ্যে প্রথম এ রোগ চিহ্নিত হওয়ার পর সেখানকার কৃষি শহর নিপাহ’র নামে ভাই’রাসটির নামকরণ হয়েছে। পশুপাখি থেকে প্রায় তিনশ মানুষের এ ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে যার মধ্যে অন্তত একশ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।

এইচআইভি ভাই’রাস

এই ভাই’রাস মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা সংক্রামক রোগ ও কয়েক রকম ক্যান্সারে আ’ক্রান্ত হয়ে রোগী মৃ’ত্যু মুখে ঢলে পড়ে। এইচআইভি ভাই’রাস শরীরে ঢোকার পর অনাক্রম্যতা কমতে কমতে এইডস ঘটাবার মতো অবস্থায় পৌঁছতে অনেক বছর লাগে।

তবে শরীরে এই ভাই’রাস একবার সংক্রমিত হলে তা কমানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ দূর করা এখনো সম্ভব হয়নি, তাই শেষ পর্ষন্ত সেই রোগীর এইডস হওয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তবে বিশ্বের খুব অল্প সংখ্যক অঞ্চলের কিছু লোকেদের শরীরে কিছু জিনে খুঁত থাকে, যার ফলে এইডস ভাই’রাস তাদের শরীরে সফলভাবে সংক্রমণ করতে পারে না।

গুটিবসন্ত

গুটিবসন্ত বা স্মল পক্স ভ্যারিওলা ভাই’রাস দ্বারা সংক্রমিত হতো এবং এটি অ’ত্যন্ত মা’রাত্মক এক ব্যাধি ছিল। মানবদেহে প্রথমে এক ধরনের গুটি বের হয় যা পরবর্তী সময়ে তিল বা দাগ, কুড়ি, ফোস্কা, পুঁজবটিকা এবং খোসা বা আবরণ ইত্যাদি পর্যায়ের মাধ্যমে দেহে লক্ষণ প্রকাশ করে।

গুটিবসন্তের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৭৯৬ সালে। অথচ টিকা আবিষ্কারের প্রায় ২০০ বছর পরও এই রোগে আ’ক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মৃ’ত্যুবরণ করে ভা’রতে। ১৯৭০ সালে লক্ষাধিক মানুষ রাতারাতি এ রোগে আ’ক্রান্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তী কয়েক বছরে ভা’রত সরকার এবং জাতিসংঘের সহায়তায় গঠিত একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালেই ভা’রতকে গুটিবসন্ত মুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাই’রাস অর্থোমিক্সোভিরিডি ফ্যামিলির একটি ভাই’রাস, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জন্য দায়ী। বিভিন্ন সময়ে এটা লাখ লাখ মানুষের মৃ’ত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে। ১৯১৮ থেকে ১৯১৯ সাল সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জাতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ কোটি মানুষ মা’রা যায়।

ভ’য়াবহ এই মহামা’রীকে তখন নাম দেয়া হয় ‘‘স্প্যানিশ ফ্লু’’। এটি ‘দ্য ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক’ নামেও পরিচিত। গ্রিক বিজ্ঞানী হিপোক্রেটিস প্রথম ২৪,০০ বছর আগে ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ লিপিবদ্ধ করেন।

এরপর বিশ্বব্যাপী ইনফ্লুয়েঞ্জা ঘটিত নানা মহামা’রি ঘটার প্রমাণ রয়েছে। মাত্র এক বছরেই ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক কেড়ে নেয় কোটির বেশি মানুষের প্রা’ণ! সে সময় দেশে দেশে সরকার সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানের জন্য আইন পাস করে, দীর্ঘদিনের জন্য বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

পোলিও

পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাই’রাসজনিত সংক্রামক রোগ। সচরাচর এটি পোলিও নামেই সর্বাধিক পরিচিত। এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি এ ধরনের ভাই’রাসের মাধ্যমে আ’ক্রান্ত হন। এ রোগে আ’ক্রান্ত ব্যক্তি সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন ও তার অঙ্গ অবশ বা পক্ষাঘাতে আ’ক্রান্ত হয়ে পড়ে।

১৯১৬ সালে পোলিও রোগ প্রথম মহামা’রী আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সে বছর নিউইয়র্কে ৯ হাজার মানুষ পোলিওতে আ’ক্রান্ত হয় যার মধ্যে ৬ হাজার মানুষই মৃ’ত্যুবরণ করে! নিউইয়র্ক শহর থেকে ক্রমে পোলিওর প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। প্রতি বছর বিশ্বে কত শত মানুষ পোলিওতে আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা যায় তার কোনো সঠিক তথ্যও পাওয়া যায় না। অবশেষে ১৯৫০ সালে জোনাস সাল্ক পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।

ডেঙ্গু

গত বছরে এশিয়ার কয়েকটি দেশে এডিস মশা বাহিত রোগ ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিপাইনে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ মা’রা গেছে। বাংলাদেশের মতো থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে ডেঙ্গু।

একটি এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু ভাই’রাস জনিত গ্রীষ্মম-লীয় রোগ। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাই’রাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

উপসর্গগুলোর মাঝে রয়েছে জ্বর, মা’থাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যথা এবং গাত্রচর্মে ফুসকুড়ি। দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মা’রাত্মক র’ক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।

করো’না

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করো’নাভাই’রাস ঘিরে ক্রমেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যে ভা’রই’রাসটি প্রায় সারা’বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। করো’নাভাই’রাসের থাবায় লাফিয়ে লাফিয়ে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ভাই’রাসটিকে পরীক্ষা করে মনে করা হচ্ছে, করো’নাভাই’রাসের উৎস হতে পারে বাদুড় ও সাপ।

বেইজিংয়ের ‘চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্স’ এমনই মনে করছে। আ’ক্রান্তদের জ্বর, কাশি, শ্বা’সক’ষ্ট, গলা ফুলে যাওয়া কিংবা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে সার্স আ’ক্রান্তদের মতোই। তাই করো’নাভাই’রাস থেকে সারা’বিশ্বকে বাঁ’চাতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।