প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

করোনার কারণে থেমে গেছে কনের সাজ, বরের যাত্রা

49
করোনার কারণে থেমে গেছে কনের সাজ, বরের যাত্রা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

৩১ মা’র্চ যখন বিয়ের দিন হিসেবে ধার্য হলো, বিস্তর পরিকল্পনা করেছিলেন গুলশান-২-এর ৯৮ নম্বর সড়কের ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান জুলকার নাইন নাঈম।

কনে চট্টগ্রামের। তিনিও স্বপ্নের জাল বুনেছিলেন নিশ্চিত—গায়েহলুদ, বিয়ের অনুষ্ঠান, বউভাতে কে কী’ রকম পোশাক পরবেন, কোন পার্লারে মেকআপ নেবেন ইত্যাদি।

তখন হবু বর-কনে ধারণাও করতে পারেননি, করো’নার কারণে পুরো অনুষ্ঠানই অনিশ্চয়তার পেন্ডুলাম হয়ে দুলতে থাকবে মাসের পর মাস। হতাশ নাইম বললেন, ‘৩১ মা’র্চের বদলে তারিখ ৫ জুন করেছিলাম। সেটাও ভেস্তে গেছে। নতুন তারিখ আর হয়নি। বুঝতেই পারছেন মনের অবস্থা।’

মিরপুরের সেনপাড়ার জোবায়ের আহমেদ অবশ্য ছে’লের বিয়ে দিয়েছেন ১০ জুন। তাঁর তাড়া ছিল। তিনি বলেন, ‘মা মৃ’ত্যুশয্যায়। শেষ ইচ্ছা নাত-বউ দেখার। চারবার তারিখ বদলে শেষে আর না পেরে ১০ জুন মাত্র পাঁচজন লোক পাঠিয়ে বউ ঘরে এনেছি, অনুষ্ঠানও করিনি।’

কিন্তু ৫ জুন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজে’লার শেফা’লীডাঙ্গী গ্রামে বিয়ে করতে গিয়ে ধ’রা খেয়েছেন রফিকুল ইস’লাম। সামাজিক দূরত্ব না মেনে বরযাত্রী নিয়ে একই উপজে’লার রাম’দিয়া গ্রামে বিয়ে করতে গেলে ভ্রাম্যমাণ আ’দালত বর-কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা করে জ’রিমানা করেন।

করো’নার কারণে এ রকম অজস্র বিবাহেচ্ছু তরুণ-তরুণী পড়েছেন বিষম সংকটে। আরো বড় বিপাকে পড়েছেন বিবাহসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা। দেশে কভিড-১৯ উপস্থিতি ঘোষণার পর বিয়ে কমেছে ৯৮ শতাংশ, এ রকমটাই ধারণা একাধিক কাজির। বেকার হয়েছেন সাত হাজার ৭২৬ জন মু’সলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার। একই অবস্থা কমিউনিটি সেন্টারে কর্ম’রত শ্রমিক, বাবুর্চি এবং ডেকোরেটর ব্যবসার সঙ্গে জ’ড়িত শ্রমিকদেরও। বিবাহসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের অ’ভিমত, করো’নাকালে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

রাজধানীর মানিকদি এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার মা’ওলানা জসিমউদ্দিন বললেন, ‘আগে প্রতি মাসে কম হলেও ৪০টি বিয়ে রেজিস্ট্রি করতাম। ১৭ মা’র্চের পর থেকে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছি দুটি, সেটাও ঘরোয়াভাবে।’ ক্ষতির হিসাবটা দিলেন বসুন্ধ’রা আবাসিক এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজি মা’ওলানা আমিনুল ইস’লাম, ‘বিয়ে হলে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে আম’রা একটি অংশ পাই, এটাই আমাদের আয়। দেনমোহরের টাকার ওপর সরকারি ফি প্রথম চার লাখের জন্য লাখপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী লাখপ্রতি ফি ১০০ টাকা করে।’ ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মু’সলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতি। এর মহাসচিব কাজি মা’ওলানা ইকবাল হোসেন বললেন, ‘আমি ও সমিতির সভাপতি মা’ওলানা খলিলুর রহমান ২৮ এপ্রিল দেশের সব কাজির জন্য স্বল্পসুদে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বিমুখ করবেন না।’

এদিকে সিটি করপোরেশন থেকে কেয়ারটেকারদের কাছে চিঠি দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে রাজধানীর কমিউনিটি সেন্টারগুলো। দরোজা বন্ধ ব্যক্তি মালিকানাধীন কমিউনিটি সেন্টারগুলোরও। আফসোস করলেন গুলশানের ই’মানুয়েল কমিউনিটি সেন্টারের স্বত্বাধিকারী বেনজীর আহমেদ, ‘৪১ জন কর্মচারীকে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। কিন্তু সরকার তো আমাদের কোনো প্রণোদনা দিচ্ছে না।’ গুলশানের সবচেয়ে বেশি বিয়ের অনুষ্ঠান হয় আমা’রিতে। হোটেলটির ম্যানেজার সোনিয়া আকতারের কণ্ঠেও হতাশা, ‘আগের অনুষ্ঠান হয়নি, নতুন কোনো বুকিংও পাইনি।’

নৈরাশা সঞ্চারিত বিয়ে সামগ্রী বিক্রেতাদের মাঝেও। এলিফ্যান্ট রোডের আলিফ জ’রি হাউসের মালিক আনিসুর রহমান জানালেন, ২০ মা’র্চের পর বিয়ের মালামাল বিক্রি করতে পারেননি। দোকানও খুলছে না অনেকে। মিরপুর বেনারসি পল্লীর দোকানি আবদুল হাকিমেরও মন খা’রাপ, ‘করো’নার পর একটি শাড়িও বিক্রি করতে পারিনি।’

‘ঢাকা শহরে এক হাজার ১০০ ডোকোরেটর মালিকের অধীনে সাড়ে ছয় হাজার কর্মচারী কাজ করে। এরাও সবাই ঘরে বসে রয়েছে।’ জানালেন বিক্রমপুর ডেকোরেটরের স্বত্বাধিকারী ও ডেকোরেটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল। ২২ মা’র্চ একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে শেষ রান্না করেছেন সনু মিয়া বাবুর্চি, এরপর আর ডাক পাননি। ‘প্রতিদিন কম করে হলেও দু-তিনটি বিয়ের রান্না করতাম। সঙ্গে ২৫ জন কাজ করে। এখন সবাই বেকার। দু-একটি বিয়ে হলেও কেউ অনুষ্ঠান করে না।’ বললেন বিম’র্ষকণ্ঠে। সব ধ’র্মের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁর দল নিয়ে বাদ্যবাজান ঢাকার পল্লবীর সুশান্ত মোদ। তাঁরও ঢাকের কাঠি পড়ে আছে। সুত্র: কালের কন্ঠ।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 3
    Shares