প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

করোনাভাইরাস ধ্বংসে দারুচিনির ব্যবহার

103
করোনাভাইরাস ধ্বংসে দারুচিনির ব্যবহার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কিছু গবেষণা ধারণা দিয়েছে, দারুচিনি ভাই’রাসকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় কিছু ভাই’রাসের বি’রুদ্ধে দারুচিনি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, যেমন- এইচআইভি, অ্যাডিনোভাই’রাস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাই’রাস। ১৯১৮ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা

মহামা’রির সময় যারা দারুচিনির ফ্যাক্টরিতে কাজ করেছেন তাদের মধ্যে ভাই’রাসটিতে আ’ক্রান্তের হার কম ছিল।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভা’র্সিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখনকার মহামা’রিতে (স্প্যানিশ ফ্লু) একটি জনপ্রিয় পথ্য ছিল দারুচিনির গুঁড়া অথবা দুধে দারুচিনি তেলের ব্যবহার।

কিছু ভাই’রাসের প্রতি দারুচিনির কার্যকারিতা দেখে আম’রা এটা আশা করতে পারি যে, এটি চলমান কোভিড-১৯ মহামা’রির পেছনে দায়ী করো’নাভাই’রাসকেও ধ্বংস করতে পারবে অথবা দমিয়ে রাখতে পারবে। তা না পারলেও অন্তত এ আশা করা যায় যে দারুচিনি করো’নাভাই’রাস সংক্রমণের তীব্রতা প্রতিরোধ করতে পারবে। উদাহ’রণস্বরূপ, দারুচিনি শরীরের প্রদাহ কমাতে পারে। আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষার জন্য প্রদাহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রদাহে মা’রাত্মক ক্ষতি হয়।

যেসব ভাই’রাসের বি’রুদ্ধে দারুচিনি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে

একটি ভা’রতীয় গবেষণা দাবি করছে যে, দারুচিনির প্রোসায়ানাইডিন পলিমা’র এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদেরকে এইচআইভি কন্ট্রোলারে পরিণত করতে পারবে। এইচআইভি কন্ট্রোলার হচ্ছেন তারাই যাদের শরীরে ভাই’রাসটি থাকা সত্ত্বেও এইডসের পূর্ণ বিকাশ হয়নি। গবেষকদের মতে, তারা দারুচিনিতে যে মলিকিউল পেয়েছেন তা এইচআইভি ভাই’রাসকে দমিয়ে রেখে একটি ডিফেন্স প্রোটিনকে সুরক্ষা দিতে পারে। তারা আশাবাদী যে এ পলিমা’র নিরাময় দিতে না পারলেও এইচআইভির বি’রুদ্ধে ইমিউন রেসপন্স বৃদ্ধি করবে।

ক্যাসিয়া দারুচিনিতে (অ’পরনাম চাইনিজ সিনামন) এইচআইভি-১ ও এইচআইভি-২ এর বি’রুদ্ধে কার্যকর উপাদান পাওয়া গেছে, কিন্তু সিলন দারুচিনি নিয়ে এ বিষয়ে গবেষণা করা হয়নি। মনে রাখবেন, ক্যাসিয়া দারুচিনিতে উচ্চ মাত্রায় কৌমা’রিন থাকে যা লিভা’র ও কিডনিকে ড্যামেজ করতে পারে। তাই বেশি পরিমাণে ক্যাসিয়া দারুচিনি খাবেন না।

এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী হার্বাল মেডিসিনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো দারুচিনি, বিশেষ করে বুকের অ’সুস্থতায় দারুচিনি ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনির সিনামালডিহাইড শ্বা’সতন্ত্রের রোগ অ্যাডিনোভাই’রাসের বি’রুদ্ধে কার্যকর। সিনামন বার্ক অয়েলে উচ্চ পরিমাণে সিনামালডিহাইড পাওয়া যায়। নিয়মিত দারুচিনি খেলে নিউমোনিয়া, শ্বা’সনালির ফোলা, কাশি, গলার কর্কশতা ও শ্বা’সপ্রশ্বা’সের অ’সুবিধা কমে যেতে পারে।

একটি জা’পানি গবেষণায় দেখা গেছে, সিলন দারুচিনির সিনাজিলানিন বাকুলুভাই’রাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাঁ’ধা দিয়েছে। বাকুলুভাই’রাস পোকামাকড়কে সংক্রমিত করে। আরেকটি গবেষণায় সিলন দারুচিনির ইউজিওলকে ভাই’রাসিডাল হিসেবে পাওয়া গেছে, অর্থাৎ এটি ভাই’রাসকে ধ্বংস করতে পারে। এ উপাদানটি হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাই’রাস-১ ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাই’রাস-২ এর বি’রুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইউজিওলের ভালো উৎস হচ্ছে সিলন সিনামন লিফ অয়েল।

ভাই’রাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দারুচিনি ব্যবহার করবেন যেভাবে

দারুচিনিকে পানিতে সিদ্ধ করে অথবা গরম পানিতে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পলিফেনল ও প্রোঅ্যান্থোসায়ানাইডিন আপনার ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলবে। দারুচিনির অ্যান্টিভাই’রাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি বিভিন্ন রোগের ঝুঁ’কি কমাতে পারে, যেমন- শ্বা’সতন্ত্রের রোগ ও হার্টের রোগ।

চিকিৎসকের পরাম’র্শ ছাড়া সিনামন বার্ক অয়েল অথবা সিনামল লিফ অয়েল ব্যবহার করতে যাবেন না।সিনামন অয়েল এত বেশি শক্তিশালী যে এক বা দুই ফোঁটার বেশি খেলে শরীরের ভেতর পুড়ে যেতে পারে। কোন খাবারে কতটুকু সিনামন অয়েল মেশালে ক্ষতির আশ’ঙ্কা নেই তা জানতে কোনো এক্সপার্টের পরাম’র্শ নিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 46
    Shares