প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

কেমন ছিল প্রিয় নবী সাঃ এর বিছানা

49
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

মসজিদে নববীর ভিতরে মহানবীর ﷺ ছোট একটা কামর’া ছিল। কখনো-সখনো তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতেন। এই ঘরে আসবাবপত্র বলতে কিছুই ছিল না। শুধু ছিল একটা পানির কলস আর একটা বিছানা। একে বিছানাই বা কিভাবে বলা যায়? এটা ছিল খেজুরের ডালের কিছু চাটাই মাত্র। একদিনের ঘটনা।

উমা’র ইবনুল খাত্তাব (রা) মহানবীর ﷺ সেই কামর’ায় প্রবেশ করলেন। মহানবী ﷺ শুয়ে ছিলেন। উমা’র (রা) আসায় উঠে বসলেন, সালাম বিনিময় করলেন। উমা’র (রা) দেখলেন খেজুরের চাটাইয়ে শোয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পিঠে লাল-লাল দাগ হয়ে গেছে। রাসূলের ﷺ পিঠের এই অবস্থা দেখে ডুকরে কেঁদে উঠলেন উমা’র (রা) – “ও রাসূলাল্লাহ! দুনিয়ার বাদশা কাইসার ও কিসরা বিলাসবহুল আয়েশী জীবনযাপন করছে, আর আপনি আল্লাহর রাসূল দোজাহানের সরদার হয়েও সামান্য খেজুরের ছালের বিছানায় শুয়ে আছেন!” তখন মুসলিম’দের অর্থনৈতিক অবস্থা কি খারাপ ছিল? না, মোটেও না।

এই ঘটনাটি ৭ম /৮ম হিজরীর দিকে হয়েছে, যখন কিনা মুসলিমর’া ইতোমধ্যেই আরব ভূখন্ডের একটা বিশাল অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে — যার নেতৃত্বে আছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ । এ কারণেই, উমা’র (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে পরাক্রমশালী দুই বাদশা — রোমান বাদশা হিরাক্লিয়াস (কাইসার) ও পারস্যের বাদশা কিসরার বিলাসী জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলতে চাইছিলেন — ওইসব বাদশাহরা যেখানে এত আরাম-আয়েশে প্রাসাদ নিয়ে থাকতে পারে সেখানে আপনি একটু আরা’ম’দায়ক বিছানায় ঘু’মালে ক্ষ’তি কি?

ভেবে দেখু’ন, আপনি যদি খুব ক’ষ্টদায়ক কোনো বিছানায় শুয়ে থাকেন, আর আপনার বন্ধু তখন আপনার প্রতি স’মবেদনা জানিয়ে বলে – “আহা এই বিছানায় তোমা’র বড় ক’ষ্ট হচ্ছে বন্ধু!” – তাহলে আপনি এর জবাবে কী বলবেন? আমর’া হয়তো বলব – “হ্যাঁ বন্ধু, ঠিকই বলেছ। আসলেই অনেক কষ্ট হচ্ছে, এটা বদলে ফেলা দরকার।” রাসূলুল্লাহ ﷺ কি এরকম কিছু বলেছিলেন? তিনি ﷺ কি উমা’র (রা)-এর এই সমবেদনা প্রকাশে খুশী হয়েছিলেন? মোটেই না! কারণ, তিনি আমা’দের মতো সাধারণ মানুষ না।

তিনি ছিলেন অসাধারণ। তিনি ﷺ আল্লাহর রাসূল। তিনি লক্ষ্য রাখতেন — পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ যাতে মাত্রাতিরিক্ত হয়ে না যায়, অতিরিক্ত আরা’ম’দায়ক বিছানা যেন তাহাজ্জুদের নামাজের জন্য ওঠার ব্যাপারে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়। উমা’র (রা)-এর কথায় রাসূলুল্লাহ ﷺ বরং কিছুটা বির’ক্তই হলেন। তিনি ﷺ বললেন – “উমা’র। তুমি কি এতে খুশী নও তাদের জন্য দুনিয়া আর আমা’দের জন্য আখিরাত?”

এ তো গেল মসজিদের কামর’ার বিছানা। মহানবীর ﷺ নিজের বাসার বিছানা কেমন ছিল? তাঁর স্ত্রী আয়িশা (রা) বলেন – “আল্লাহর রাসূল যে বিছানায় ঘু’মাতেন তা চামড়ার ছিল, এর ভেতরে খেজুর গাছের পাতা ভরা ‘হতো”। লক্ষ্যনীয় যে, চামড়া কিন্তু ম্যাট্রেস তৈরির উপাদান না, চামড়ার বিছানা আরা’ম’দায়কও না। আরবরা চামড়া ব্যবহার করত উট বা ঘোড়ার জিন তৈরীতে। চামড়ার সেই শক্ত বিছানাকে কিছুটা সহনীয় করার জন্য সাহাবীরা এর ভেতর খেজুর পাতা ভরে দিতেন।

আরেক স্ত্রী হাফসার (রা) ঘরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিছানা বলতে ছিল পাতলা এক চট। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই কষ্টদায়ক বিছানা লক্ষ্য করে হাফসা (রা) একবার এক কাজ করে বসলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘু’মানোর চট — যেটাকে সচরাচর দুই ভাঁজ করা ‘হতো — সেটাকে এক রাতে চার ভাঁজ করে দিলেন। হাফসা (রা) ভেবেছিলেন এতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ঘু’মের কিছুটা আরাম হবে। অ’পেক্ষাকৃত আরা’ম’দায়ক বিছানার কারণে সেই রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ একটু বেশী ঘু’মালেন।

সকালে তিনি ﷺ যখন ঘু’ম থেকে উঠলেন তখন জিজ্ঞেস করলেন – বিছানার বি’ষয়টা কী? হাফসা (রা) তখন তাঁকে ﷺ অতিরিক্ত ভাঁজের ব্যাপারটা বললেন। এতে তিনি ﷺ মোটেও খুশী হলেন না। বরং নির্দেশ দিলেন – “একে আগের মতোই করে দিও, এটা গতকাল আমাকে তাহাজ্জুদ পড়া থেকে বিরত রেখেছে।” এখান থেকে আমর’া বুঝতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর আরা’ম’দায়ক বিছানায় না ঘু’মানোর অন্যতম কারণ ছিল বিছানার অতিরিক্ত উষ্ণতা তাঁকে ﷺ যেন তাহাজ্জুদ সালাত পড়া থেকে বিরত রাখতে না পারে।

একবার কয়েকজন সাহাবী মিলে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে তাঁর ﷺ জন্য আরা’ম’দায়ক বিছানার ব্যবস্থা করে দিবেন বলে আর্জি পেশ করলেন। জবাবে তিনি ﷺ বললেন – “দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কী প্রয়োজন? আমি তো একজন পথিকের মতো, যে বিরামহীনভাবে চলতে থাকে। চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে একটু আরামের জন্য গাছের ছায়ায় বসে। কিছুক্ষণ আরাম করে আবার সে চলতে থাকে।” রেফারেন্স ও টীকা: সিরাহ সংক্রা’ন্ত ড. ইয়াসির কাযির লেকচার – পর্ব ২ ৪৬তম অনুচ্ছেদ, শামায়েলে তিরমিযী – মাহমুদিয়া লাইব্রেরী

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 26
    Shares