প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

করোনা মোকাবেলায় নিয়মিত ওজুর আমল খুবই জরুরি

21
করোনা মোকাবেলায় নিয়মিত ওজুর আমল খুবই জরুরি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মহামা’রি করো’না থেকে মুক্ত থাকতে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পিপিই কত কিছুই না পরছে মানুষ। এ সব কিছুই কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সবার জন্য প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেনি। যে জিনিসটি সবার আগে এ সংস্থাটি ঘোষণা করেছে তা হলো- ‘নিয়মিত ভালো’ভাবে হাত ধোয়া।’ তাদের ঘোষণা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো হয় অ্যালকোহলসমৃদ্ধ তরল ব্যবহার করা, যাতে হাত জীবাণুমুক্ত করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে ইস’লামের একটি আমল কার্যকরীভাবেই মিলে যায়। তাহলো ভালো’ভাবে ওজু করা। একজন মুমিন মু’সলমান ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় প্রতিদিন ৫ বার নামাজের জন্য ওজু করেন। এটি ইস’লামের নির্দেশ ও বিধান। তাই এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়, কেউ যদি ন্যূনতম ৫ বার ওজু করে তবে সে করো’নার ঝুঁ’কি থেকে অনেকাংশেই মুক্ত থাকবে।

মহামা’রি করো’নার সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে যেসব অঙ্গের মাধ্যমে মহামা’রি করো’নাভাই’রাস বেশি ছড়ায় তা ওজু করার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব ও সহ’জসাধ্য কাজ। ওজুর যেমন দুনিয়াবি উপকারিতা রয়েছে তেমনি ওজুর পরকালীন উপকারিতায় হাদিসের উপদেশও রয়েছে অনেক।

পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার জন্য ওজু করার নির্দেশ এসেছে কুরআনে। আর ৪টি অঙ্গ ভালো’ভাবে ধোয়ার মাধ্যমে এ ওজু সম্পন্ন করতে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘হে মুমিনগণ! যখন তোম’রা নামাজের জন্য দাঁড়াবে তখন তোম’রা তোমাদের পুরো মুখ, উভ’য় হাত কনুইসহ ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মা’থা মসেহ কর এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত ধোও।’ (সুরা মায়িদাহ : আয়াত ৬)

মহামা’রি করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ভালো’ভাবে হাত ধোয়ার কথাই ঘোষণা করেছে। এটি হচ্ছে করো’নাভাই’রাস থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপলক্ষ।

আর ইস’লামি শরিয়তে ওজু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল ও নির্দেশ। যার দুনিয়ার উপকারিতা ও পরকালীন জীবনের অনেক ফজিলত ও ম’র্যাদা ঘোষিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে করো’নাভাই’রাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবদেহের যেসব অঙ্গগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তাগিদ দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন মু’সলমানের জন্য তা অনেক আগেই ওজুকে ফরজ ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত করে দিয়েছেন। ওজুর অন্যান্য উপকারিতা বর্ণনায় হাদিসে কিছু বর্ণনা তুলে ধ’রা হলো-

হ’জরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো মুমিন বান্দা ওজু করে এবং মুখ ধোয়, তার মুখের গোনাহ পানির সঙ্গে ধুয়ে যায়। যখন কোনো বান্দা হাত ধোয়, তার হাতের গোনাহ পানির সঙ্গে ধুয়ে যায়। এমনিভাবে যখন ওজু শেষ করেন তখন ওই ব্যক্তি বেগোনাহ মাসুম হয়ে যায়।’ (তিরমিজি)

অন্য হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, ‘কেয়ামতের দিন যখন আমা’র উম্মতকে ডা’কা হবে, তখন ওজুর কারণে তাদের হাত, পা ও মুখ নূরের আলোতে চ’মকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যার সাম’র্থ্য আছে সে যেন তার নুর বাড়িয়ে নেয়।’ (বুখারি)

হ’জরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জানতে চাইলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এত উম্মতের মধ্যে হাশরের দিন আপনার উম্মতকে কী’ভাবে চিনতে পারবেন? উত্তরে তিনি বললেন, ‘ওজুর কারণে আমা’র উম্মতের হাত, পা, মুখ, মা’থা নুরের আলোয় চ’মকাতে থাকবে। অন্য কোনো নবির উম্মতের এমনটি হবে না।’ (মু’সনাদে আহমাদ)

সুতরাং মহামা’রি করো’নাভাই’রাস থেকে মুক্ত থাকতে নিয়মিত ওজু করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। এতে একদিকে যেমন মহামা’রি করো’নার প্রাদুর্ভাব ও জীবাণু থেকে বেঁচে থাকা যাবে, অন্যদিকে তা হবে ইবাদত-বন্দেগির একটি অংশ।

আল্লাহ তাআলা মু’সলিম উম্মাহকে মহামা’রি করো’নার ভ’য়াবহ সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে বেশি বেশি ওজু করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার তাওফিক দান করুন। ওজুর ওসিলায় মহামা’রি করো’না থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।