প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক

করোনা নিয়ে দক্ষিণ এশীয়দের জন্য চরম দুঃসংবাদ

45
করোনা নিয়ে দক্ষিণ এশীয়দের জন্য চরম দুঃসংবাদ
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বৈশ্বিক মহামা’রী করো’নাভাই’রাস সারা দুনিয়া জুড়েই বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিদিন মা’রাও যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তবে মৃ’ত্যুঝুঁ’কির দিক থেকে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা বেশি। এবং এর একটি কারণ ডায়াবেটিস। ব্রিটেনে চালানো এক জ’রিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯ ভাই’রাস সংক্রমণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে পৃথিবীতে যত জ’রিপ হয়েছে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। জ’রিপে বলা হচ্ছে কোভিড-১৯ ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হলে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের মা’রা যাবার আশ’ঙ্কা ২০ শতাংশ বেশি। ব্রিটেনের অন্য যেসব জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আছে তাদের কারোরই মৃ’ত্যুর আশ’ঙ্কা দক্ষিণ এশীয়দের চেয়ে বেশি নয়।

এতে দেখা যায়, করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হবার পর যাদের হাসপাতা’লে চিকিৎসা নেবার দরকার হয়েছে – তাদের প্রতি ১ হাজার দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে গড়ে ৩৫০ জন মা’রা যায়। কিন্তু শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই হার হচ্ছে গড়ে ২৯০ জন।

বড় কারণ ডায়াবেটিস: শুধু তাই নয়, করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হলে যাদের হাসপাতা’লে চিকিৎসা নেয়ার দরকার হচ্ছে তাদের তুলনা করলেও বেশ কিছু গভীর পার্থক্য ধ’রা পড়েছে গবেষকদের চোখে।

এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইউয়েন হ্যারিসন বলছেন, করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হলে দক্ষিণ এশীয়দের মা’রা যাবার ঝুঁ’কি নিশ্চিতভাবেই বেশি, কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর আম’রা সেরকম প্রভাব দেখছি না। হাসপাতা’লে আসা কোভিড-১৯ আ’ক্রান্ত দক্ষিণ এশীয়দের দিকে যদি আপনি তাকান তাহলে দেখবেন শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় চিত্রটা একেবারেই অন্যরকম।

দক্ষিণ এশীয় রোগীদের বয়স গড়ে ১২ বছর কম, এটা একটা বিরাট পার্থক্য। তাদের মধ্যে ডেমেনশিয়া (স্মৃ’তিভ্রংশ), স্থূলতা বা ফুসফুসের রোগ দেখা যায় না। কিন্তু তাদের মধ্যে দেখা যায় ডায়াবেটিস আছে এমন লোক অনেক বেশি।

দক্ষিণ এশীয় কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশেরই টাইপ ওয়ান বা টাইপ টু ডায়াবেটিস আছে বলে দেখা যায়। কিন্তু শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২৫ শতাংশ।

ডায়াবেটিস কেন করো’নাভাই’রাস রোগীদের বাড়তি ঝুঁ’কি তৈরি করে?

ডায়াবেটিস একইসঙ্গে করো’নাভাই’রাস সংক্রমণের ঝুঁ’কি বাড়িয়ে দেয়। আবার সংক্রমিত হবার পর বাঁ’চার সম্ভাবনাও কমিয়ে দিতে পারে। ডায়াবেটিস আ’ক্রান্ত হলে করো’নাভাই’রাস সংক্রমণে দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশ’ঙ্কাও বেড়ে যায়।

কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানদের (বাংলাদেশি, ভা’রতীয় ও পা’কিস্তানি) ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগে আ’ক্রান্ত হবার ঝুঁ’কি বেশি বলে ব্রিটেনে অন্য এক জ’রিপে দেখা গেছে। ইংল্যাণ্ডের জনস্বাস্থ্য দফতর পিএইচই-র জ’রিপে বলা হয় , এই দুটি স্বাস্থ্য সমস্যাই তাদের কোভিড সংক্রমণে গুরুতর অ’সুস্থ হবার ঝুঁ’কি বাড়িয়ে দেয়।

সবশেষ জ’রিপে যু’ক্তরাজ্যের ২৬০টি হাসপাতা’লে প্রায় ৩৫ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর উপাত্ত পরীক্ষা করে বলা হয়, করো’নাভাই’রাসে মা’রা যাবার ঝুঁ’কির পেছনে একটা কারণ হচ্ছে ডায়াবেটিস। তবে এটাই পূর্ণ চিত্র নয়, গবেষকরা বলছেন – দারিদ্র্য থেকে শুরু করে জিনগত পার্থক্য পর্যন্ত অন্য কারণগুলোও এটা ব্যাখ্যার জন্য দরকার হতে পারে।

রিপোর্টে আরো বলা হয়, করো’নাভাই’রাসের টিকা আবিষ্কৃত হলে কাদেরকে এ টিকা নিতে হবে তা ঠিক করার ক্ষেত্রে, বয়স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের পাশাপাশি হয়তো এখন জাতিগত পরিচয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

জ’রিপে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ব্রিটেনের সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর রোগীদের ইনটেনসিভ কেয়ার প্রয়োজন হবার সম্ভাবনাও বেশি। ভিটামিন ডি-র অভাব এবং হৃদরোগ কি কোভিড-১৯এ মৃ’ত্যুর ঝুঁ’কি বাড়ায়?

কিছু জ’রিপে আভাস দেয়া হয় , যাদের দেহে ভিটামিন ডি-র অভাব এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা আছে তাদের করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুর ঝুঁ’কি বেশি। কিন্তু লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জ’রিপে বলা হয়, কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান এবং অন্য জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এসব কারণ করো’নাভাই’রাসের বাড়তি ঝুঁ’কির ব্যাখ্যা দিতে পারছে না।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁ’কি বেড়ে যাবার পেছনে ওজন, দারিদ্র্য, এবং এক বাড়িতে অনেক লোকের বসবাসের মতো অনেক কারণ সক্রিয়।

গবেষক ড. জাহরা রাইসি-এস্টাব্র্যাগ এবং অধ্যাপক স্টেফেন পিটারসন বলছেন, এসব কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো দিয়ে জাতিগত পার্থক্যের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যায় না। তারা বলেন, এগুলো বিবেচনায় নেবার পরও জাতিগত সংখ্যালঘুদের করো’নাভাই’রাস পজিটিভ হবার সম্ভাবনা শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে ৫৯ শতাংশ বেশি – এবং এর কারণ এখনো অজানা।

দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁ’কিতে বাংলাদেশিরা সম্প্রতি ইংল্যাণ্ডের জনস্বাস্থ্য দফতর পিএইচই-র এক জ’রিপে কোভিড-১৯ সংক্রমণে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মৃ’ত্যুর উচ্চ ঝুঁ’কি স’ম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। জ’রিপের রিপোর্টে বলা হয়, বিশেষত বয়স্ক মানুষ ও পুরুষদের করো’নাভাই’রাসে মা’রা যাবার ঝুঁ’কি সবচেয়ে বেশি । কিন্তু বয়স ও লি’ঙ্গ বাদ দিলে কোভিড-১৯এ মা’রা যাবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁ’কি হচ্ছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের।

বলা হয়, কোভিড-১৯ আ’ক্রান্তদের কেসগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় – বয়স, লি’ঙ্গ, আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা – এগুলোর প্রভাব বাদ দিলে দেখা যায়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের কোভিডে মৃ’ত্যুর ঝুঁ’কি শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের দ্বিগুণ।

রিপোর্টটি বলছে, ব্রিটেনের কৃষ্ণাঙ্গ, চীনা, ভা’রতীয়, পা’কিস্তানি ও অন্যান্য এশীয়দের মতো জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর লোকদের করো’নাভাই’রাসে মা’রা যাবার ঝুঁ’কি শ্বেতাঙ্গদের চাইতে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি।

এর আগে ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর ওএনএস এক জ’রিপে প্রায় একই রকম ফলাফলের কথা বলেছিল।

তাতে বলা হয়, করো’নাভাই’রাস সংক্রমণে বাংলাদেশিদের মৃ’ত্যুর ঝুঁ’কি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ১ দশমিক ৮ গুণ। সেই জ’রিপেও বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, বসবাসের পরিবেশ এবং পেশা এ সবকিছুই এই উচ্চ মৃ’ত্যুহারের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বিবিসি

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 15
    Shares