প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাংলাদেশে এই প্রথম এর চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন

51
বাংলাদেশে এই প্রথম এর চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

সাম্প্রতিক সময়ে সার্স-কোভ-২ ভাই’রাসটি দ্বারা পুরো পৃথিবী বৈশ্বিক মহামা’রীতে আ’ক্রান্ত। সব বয়সের মানুষই আ’ক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে; বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের মাঝে এর সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুঝুঁ’কি বেশি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিলো, শি’শুদের এতে আ’ক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কি অনেক কম; বাংলাদেশের মোট আ’ক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১.৮% ছিলো ২০ বছরের নিচে ও ১০ বছরের নিচে ছিলো ৪.২%। তবুও, মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্র ও পুরো ইউরোপ থেকে ক্লিনিক্যাল প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, কোভিড-১৯ সদৃশ নতুন আরেকটি ক্লিনিক্যাল সিনড্রোম রয়েছে যাতে শি’শুদের আ’ক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি।

এই নতুন ও বিরল রোগটির নাম মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোম (এমআই’এস-সি) অথবা পেডিয়াট্রিক মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লেমেটরি সিনড্রোম (পিএমআই’এস)। এই রোগে শরীরের একাধিক অঙ্গে র’ক্তনালীর প্রদাহ সৃষ্টি হয়, এবং তা হয় অসম্ভব দ্রæত গতিতে। এতে র’ক্তের প্রবাহ কমে গিয়ে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও যকৃতের মতো একাধিক অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলো অনেকটা কাওয়াসাকি ডিজিজ ও ট’ক্সিক শক সিনড্রোম-এর মতো।

এ রোগ প্রথম ধ’রা পড়ে যু’ক্তরাজ্যে, ২৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে এবং পরে একে একে মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভা’রতেও এটি দেখা যায়। বাংলাদেশে এটি প্রথম সনাক্ত করা হয় ১৫ মে ২০২০ তারিখে, এবং পরে ২৭ মে ২০২০ তারিখে এভা’রকেয়ার হসপিটাল, ঢাকাতে। ডাঃ এম কাম’রুল হাসান, শি’শুরোগ বিষয়ক সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ডাঃ তাহেরা নাজ’রিন, শি’শু হৃদরোগ বিষয়ক কনসালটেন্ট, শি’শু বিভাগের ডাক্তারগণ ও শি’শু ইনটেনসিভ কেয়ার টিমের সহযোগিতায় রোগটি নির্ণয় করেন ও সফলভাবে এর চিকিৎসা করেন।

রোগী দুজন ছিলো সাড়ে ৩ মাস বয়সী একটি মে’য়ে ও ২ বছর ২ মাস বয়সী একটি ছে’লে। দুজন শি’শুরই যথাক্রমে ৫ ও ৭ দিন ধরে ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফাররেনহাইটে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর ছিলো, তার সাথে ছিলো ডায়রিয়া, চোখ ও ঠোঁট লাল হয়ে যাওয়া এবং পায়ের হালকা ফোলা ভাব। এর সাথে তাদের হৃদপিন্ডে র’ক্ত সরবরাহকারী করো’নারি র’ক্তনালীও আ’ক্রান্ত হয়ে ফুলে গিয়েছিলো। বয়সে বড় শি’শুটির খিঁচুনিও হয়েছিলো এবং সেই সাথে ছিলো হার্ট বড় হয়ে যাওয়া ও হার্টের কার্যক্ষমতা হ্রাস।

আরটি-পিসিআর টেস্টে এই শি’শুটির কোভিড-১৯ পজিটিভও দেখায়। অন্য রোগীটির রেজাল্ট যদিও নেগেটিভ আসে, কিন্তু কিছুদিন পরই তার পরিবারের সকল সদস্যদের করো’না সনাক্ত হয়। মা’র্কিন যু’ক্তরাষ্ট্রের দ্যা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর পরাম’র্শমতে, কোভিড-১৯ ও এমআই’এস-সি একটি আরেকটির সাথে স’ম্পর্কিত।

পজিটিভ অ্যান্টিবডিগু পরীক্ষা করে এটি প্রমাণিত যে, এমআই’এস-সি-তে আ’ক্রান্ত অসংখ্য শি’শু অ’তীতে কোভিড-১৯ দ্বারা আ’ক্রান্ত হয়েছিলো; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণও ছিলো না। তবুও, শি’শুদের মধ্যে এই ভাই’রাসটি সক্রিয় থাকতে পারে এবং একই সাথে তার মধ্যে এমআই’এস-সি এর লক্ষণগুলোও দেখা যেতে পারে।

ছে’লে শি’শুটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিলো। দুজন শি’শুকেই গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিলো এবং তাদেরকে ইন্ট্রাভেনাস ইমুনোগেøাবুলিন (আইভিআইজি) দেয়া হয়েছিলো। ইমুনোগ্লোবুলিন (আইভিআইজি) হচ্ছে অ্যান্টিবডির মিশ্রণ, যা সুস্থ ডোনারের র’ক্তের প্লাজমা থেকে তৈরি করা হয়; এটি সংক্রমণ ও প্রদাহের বি’রুদ্ধে ল’ড়াই করতে সাহায্য করে। এই চিকিৎসায় তাদের অবস্থা স্থিতিশীল ও ক্রমে উন্নতি হলে পরে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয় এবং নিয়মিত ফলোআপ-এ রাখা হয়।

এই মহামা’রী চলাকালীন সময়ে, অ’ভিভাবকদের উচিৎ তাদের সন্তানদের এই ক্ষতিকর ভাই’রাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি এই নতুন ও বিরল রোগের ব্যাপারেও সতর্র্ক থাকা। রোগটি কী’ভাবে বেড়ে উঠে, ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং কী’ভাবে এই রোগের সংক্রমণ থেকে আমাদের সন্তানরা বাঁচতে পারে সে স’ম্পর্কে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 8
    Shares