প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

আক্রান্ত বাড়লেও কম ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ

35
আক্রান্ত বাড়লেও কম ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলাদেশ করো’না সংক্রমণের ১০৬ তম দিন অ’তিবাহিত করেছে। এখন বাংলাদেশে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজারের আশেপাশে নতুন করো’না রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশ এখনো করো’নায় অ’পেক্ষাকৃত কম ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশ।

এই কম ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশ বিবেচনা করার ক্ষেত্রে তাঁরা কতগুলো পরিসংখ্যান বিবেচনায় রেখেছেন। যদিও বাংলাদেশে প্রতিদিন ২০ শতাংশের বেশি করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং এটা যেকোন বিবেচনায় উদ্বেগজনক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী একটি দেশে যখন ১০ শতাংশের বেশি করো’না রোগী শনাক্ত হয় তাহলে সেই দেশে করো’নার ব্যাপক সামাজিক সংক্রমণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলছে যে, যদি সামাজিক সংক্রমণ রোধ না করতে পারা যায় তাহলে তা সর্বত্র ছড়িয়ে যেতে পারে। যা ঐ দেশটিতে করো’নাকে দীর্ঘমেয়াদীভাবে রাখতে পারে।

এরকম বাস্তবতায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১০৫ দিনে শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৩০৬ জন। বাংলাদেশে করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেছে ১ হাজার ৪৬৪ জন। এই সব তথ্যের পরেও আমাদের অনেক বিশেষজ্ঞ আশাবাদী। তাঁরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে এখনো করো’না সংক্রমণে কম ঝুঁ’কিপূর্ণ। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন যে,

প্রথমত, মৃ’ত্যু হার কম এবং বাংলাদেশে যেভাবে করো’নায় আ’ক্রান্ত হচ্ছে, সেভাবে মৃ’ত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে না। বরং এখন বাংলাদেশে ১.৫ শতাংশের নিচে মৃ’ত্যুহার রয়েছে, যা ১ লাখের কোটা ছাড়ানো দেশগুলোর তুলনায় সবথেকে কম। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মৃ’ত্যুর সংখ্যাও অনেক কম। যখন একটি রোগে মৃ’ত্যুহার কম হবে তখন সেই রোগটিকে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ করো’নার জন্য কম ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশ, তার কারণ সুস্থতার হার। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ আ’ক্রান্ত হলেও ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে গেছে। অর্থাৎ আ’ক্রান্তের বিবেচনায় প্রায় ৪০ ভাগ এখন সুস্থ হয়ে গেছে। এটাও একটি ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের মানুষ করো’নার সঙ্গে বসবাসের কৌশলে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অ’সুস্থ হবে, আ’ক্রান্ত হবে এবং সুস্থ হয়ে যাবে। যেমন সাধারণ জ্বর বা সর্দিকাশি হয়, তেমনি এই করো’নার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ। সুস্থতার হার বিবেচনা করলেও বাংলাদেশ কম ঝুঁ’কিপূর্ণ।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে করো’নায় মৃদু উপসর্গবাহী রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করো’নায় আ’ক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ রোগীদের অবস্থা ঝুঁ’কিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে বাংলাদেশে মোট অ’সুস্থদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল রোগীদের শতকরা হার ৩ শতাংশের বেশি নয় বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, গুরুতর অ’সুস্থ রোগী কম থাকায় বাংলাদেশ করো’নার জন্য কম ঝুকিপূর্ণ।

চতুর্থত, আমাদের দেশের তরুণরা বেশি মাত্রায় আ’ক্রান্ত হচ্ছে। তরুণদের এই বেশি আ’ক্রান্তের হারকেও ইতিবাচক দেখা হচ্ছে। কারণ তরুণদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং তাঁরা করো’নার সঙ্গে ল’ড়াই করে টিকতে পারে। এই বাস্তবতায় তরুণরা যখন আ’ক্রান্ত হচ্ছেন তখন এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চান বিশেষজ্ঞরা। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত প্রবীণ এবং শি’শুরা বেশি হারে আ’ক্রান্ত হয়ে না উঠবে ততক্ষণে করো’না ভ’য়ঙ্কর হয়ে উঠবে না।

তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে মৃ’ত্যুহার যেকোন সময় বেড়ে যাবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত মৃ’ত্যুহার না বাড়বে এবং সুস্থতার হার না কমবে ততক্ষণ পর্যন্ত করো’না সংক্রমণ বাড়লেও সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম ঝুঁ’কিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares