প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে ডা. ফেরদৌসের আবেগঘন স্ট্যাটাস

29
১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে ডা. ফেরদৌসের আবেগঘন স্ট্যাটাস
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেই যু’ক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছিলেন ডা. ফেরদৌস। করো’না মোকাবেলায় দেশের জন্য কিছু একটা করতে হবে এমন ব্রত নিয়েই দেশের মাটিতে পা রাখেন এমন ভাষ্য তার।

তবে দেশে ফিরেই তাকে ভিন্ন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। চলে যেতে হয় কোয়ারেন্টিনে। দেখতে দেখতে তার কোয়ারেন্টিনের দুই সপ্তাহ পার হলো আজ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন এ চিকিৎসক।

তিনি সেখানে লিখেছেন– অল্প কদিনের জন্য দেশে এসেছিলেন করো’না আ’ক্রান্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। তাদের সাধ্যমতো স্বাস্থ্যসেবা দিতে। করো’না এন্টিবডির সনদ থাকা সত্ত্বেও তাকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। এসবের পরও তার কোনো অ’ভিযোগ নেই।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধ’রা হলো-

‘অবশেষে কোয়ারেন্টিনমুক্ত হলাম আমি। কে’টে গেল ১৪টি দিন। সময় তো কাটবেই। থেকে যাবে কেবল স্মৃ’তি। এ মুহূর্তে কোনো অ’ভিযোগ নয়, কেবল ধন্যবাদই দিতে চাই সবাইকে। যারা গত ১৪টি দিন আমা’র সঙ্গে ছিলেন। বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়েছেন, মানসিকভাবে শক্ত থাকতে প্রেরণা জুগিয়েছেন।

তবে এ কথা আমাকে বলতেই হবে যে, শুরুটা বেশ কঠিনই ছিল আমা’র জন্য। আমা’র বি’রুদ্ধে ‘অহেতুক’ এবং ‘মিথ্যা অ’ভিযোগে’ বিরাট ঝড় উঠেছিল। সব ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ঝড়ও হয়তো থেমে গেছে।

যা বলছিলাম– দেশে আসার পর আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে দেয়া হয়েছে; এ বিষয়টি আমি প্রথম পাঁচ দিন মানতেই পারছিলাম না। কেননা আমা’র অ্যান্টিবডির সনদ ছিল। তখন মানসিকভাবে রীতিমতো বি’ধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সুধীজন, সহযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং দেশের মানুষের সহায়তা ও সম’র্থন আমাকে সাহস জুগিয়েছে।

দেশে এসেছিলাম কয়েক সপ্তাহ দেশবাসীর জন্য কাজ করব বলে। সঙ্গে ছোট্ট একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তুলে যাব, এমন আশা ছিল। সে লক্ষ্যেই দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য এসেছিলাম। যদিও সময় কিছুটা ক্ষেপণ হয়ে গেছে। এর পরও আমি মনে করি, কোনো আক্ষেপ নেই আমা’র। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিছুটা কাজ করে যাব। তবে সঙ্গে নিয়ে যাব গত দুটি সপ্তাহে ঘটে যাওয়া অনেক কিছু ও অ’ভিজ্ঞতা।

বিশেষ করে যেসব সৈনিক ভাইয়েরা আমা’র সঙ্গে ছিলেন, তারা অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। অনেক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের মমতা কোনো দিন ভুলবার নয়। সেই সঙ্গে কুয়েতপ্রবাসী কিছু ভাই শেষের দিকে কোয়ারেন্টিনে যোগ দিয়েছিলেন।

তাদের ভালোবাসায় ভরা স্মৃ’তিগুলোও বাকি জীবন আমা’র সঙ্গে থাকবে। কখনও যদি দেখা হয়, নিশ্চয়ই ভালো লাগবে; বুকে জড়িয়ে ধরব আপনাদের। দেখা না হলেও আপনাদের আমা’র সবসময় মনে থাকবে। দেখু’ন, আমি অ’তিসাধারণ একজন চিকিৎসক। তবে দেশকে, দেশের মানুষকে খুব ভালোবাসি।

এসেছিলাম, দু’র্যোগের এ সময়টায় কেবলই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। কোনো রাজনৈতিক অ’ভিলাষ বা ইচ্ছা আমা’র ছিল না, নেইও। ফলে যারা তেমনটি ভেবেছিলেন, আশা করছি আপনাদের ভুলটা ভেঙেছে। বাংলাদেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির যোদ্ধারা করো’নার এ সময়টায় রীতিমতো জীবনবাজি রেখে ল’ড়াই করছেন। তাদের আত্মত্যাগ এ জাতি সব সময়ই মনে রাখবে। সামনের দিনগুলোতেও তারা এমনিভাবে ল’ড়ে যাবেন বলে আমা’র বিশ্বা’স।

আমি এ মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিষয়ক ছোট্ট একটি সেটআপ করে দ্রুতই নিউইয়র্কে ফিরে যাব। কারও বি’রুদ্ধে আমা’র কোনো অ’ভিযোগ নেই। মায়ের বি’রুদ্ধে সন্তানের কোনো অ’ভিযোগ থাকে না। আমা’রও নেই। আবারও দেখা হবে। ভালোবাসা বাংলাদেশ। সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে থাকুন। আপনাদের মঙ্গল হোক।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 3
    Shares