প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক

সীমান্তে রণপ্রস্তুতিতে এগিয়ে আসছে চীন!

90
সীমান্তে রণপ্রস্তুতিতে এগিয়ে আসছে চীন!
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

লাদাখে চীন-ভা’রত সং’ঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তে’জনা যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে’নাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ভা’রতীয় সে’নাবাহিনীকে প্রয়োজনে অ’স্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দুই দেশই লাদাখ এলাকা রণপ্রস্তুতি নিয়েছে। চীন ওই এলাকায় শত শত সাম’রিক যান এনেছে। গত ৯ ও ১৫ জুন স্যাটেলাইটে ধ’রা পড়া ছবিতে এ দৃশ্য দেখা গেছে বলে খবর দিয়েছে ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম দূরদর্শন নিউজ।

উপগ্রহ চিত্রে ধ’রা পড়েছে আরো ভ’য়াবহ দৃশ্য। শত শত ট্রাক, বুলডোজার, চার চাকার গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে যু’দ্ধসাজে সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী। গত ৯ জুন সীমান্তের কাছে গালওয়ান উপত্যকার যে ছবি স্যাটেলাইটে ধ’রা পড়েছিল, তার থেকে ১৬ জুনের ছবি অনেকটাই আলাদা।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, শতাধিক ট্রাক ও সাম’রিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এগিয়ে আসছে চীনা বাহিনী। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছিল ওই এলাকা একেবারেই জনশূন্য। ১৬ জুনের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ট্রাক, বুলডোজার মিলিয়ে অন্তত ৭৯টি গাড়ি এলএসি থেকে ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

পরের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ক্রমশই এই সংখ্যা বাড়ছে। এলএসি বরাবর চীনা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ১২৭টি গাড়ির দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এই এলাকা এলএসি থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাক, বুলডোজার ও অন্যান্য সাম’রিক সরঞ্জাম নিযে যু’দ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে চীন। অ’তর্কিতে হা’মলা হতে পারে যে কোনো সময়েই। এলএসি থেকে ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে চীনা বাহিনীর ৫০টি ক্যাম্প ধ’রা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। রীতিমতো তাঁবু খাটিয়ে এলএসি বরাবর সাম’রিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখছে চীন।

উপগ্রহ চিত্রে আরেকটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, এলএসি বরাবর গালওয়ান নদীর যে গতিপথ সেখানেই নতুন করে কোনো কাঠামো গড়ে উঠেছে। ৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে নদী উপত্যকায় তেমন কোনো কাঠামো দেখা যায়নি। তবে ১৬ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, নদী উপত্যকা বরাবর এলএসি থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে নতুন করে কোনো কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এদিকে লাদাখে সংঘাতের পর এবার ভা’রতকে ‘বড় বেইজ্জতি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যম। সীমান্তে প্রয়োজন হলে অ’স্ত্র ব্যবহারে ভা’রতীয় সে’নাদের অনুমতি দেয়ার পর চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গত ১৫ জুন লাদাখে ভা’রতীয় সে’নাদের সঙ্গে সং’ঘর্ষ বাধে চীনের সে’নাদের। সেখানে ২৩ ভা’রতীয় সে’না নি’হত হয়। তবে ভা’রতও দাবি করেছে, সং’ঘর্ষে চীনের ৪০ সে’না নি’হত হয়েছে।

এ ঘটনার পর দুই দেশের সে’নাবাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। দফায় দফায় বৈঠকেও কোনো সুরাহা আসেনি। পরে ভা’রতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। বৈঠক থেকে ভা’রতীয় সে’নাবাহিনীকে অ’স্ত্রের ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়া হয়। এখন থেকে লাদাখে অ’স্ত্রের ব্যবহার প্রয়োজন হলে পিছপা হবে না ভা’রতীয় সে’নারা।

ভা’রতের এই সিদ্ধান্তের পর চীনের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইম একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভা’রত যদি চীনের সাথে যু’দ্ধ করতে চায় তাহলে ৬২ সালের চেয়েও বড় বেইজ্জতি সইতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে ভা’রত-চীনের মধ্যে যু’দ্ধ হয় এবং ভা’রত পরাজিত হয়।

গ্লোবাল টাইমসের ওই রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ভেরিফায়েড পেজে লিখেছে, ‘চীনের এই মন্তব্যে গা জ্বলে যাবে আপনার! যু’দ্ধ করলে ’৬২-র চেয়েও বড় বেইজ্জতি সইতে হবে ভা’রতকে। সে’নাকে স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা হুঙ্কার চীনের সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসের।’

এর আগে, ১৯৭৫ সালে ভা’রত-চীন সীমান্তে শেষবার কোনও সে’না জওয়ানের মৃ’ত্যু হয়েছিল। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতি-মা’রামা’রি কম হয়নি। কিন্তু এ ধরনের প্রা’ণঘাতী মা’রামা’রি কখনও হয়নি।

তবে এই সংঘাতে কোনও পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। লোহার রড, লা’ঠি, পাথর নিয়ে হা’মলা করেছে চীনা সে’না। তারপরই প্রত্যাঘাত করেছে ভা’রতীয় সে’নারা।

ভা’রতীয় সে’নাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উভ’য়পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ বিরাজ করায় এসব অ’স্ত্রের মজুত করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে ভা’রতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন সে’নাবাহিনী সীমান্তের যে এলাকায় রয়েছে সেখান থেকে ভা’রতের অংশে ঢুকতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগবে। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের বিভিন্ন জায়গায় ভা’রতের সঙ্গে সং’ঘর্ষেও জড়াচ্ছে চীনা বাহিনী।

ভা’রতীয় সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, চীনের সে’নাবাহিনী লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের কাছের ঘাঁটিগু’লিতে নানান যু’দ্ধের গাড়ি ও ভা’রী যু’দ্ধের সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে ভা’রতও আর্টিলারের মতো অ’স্ত্র ওই এলাকায় পাঠিয়েছে।

সূত্র: মিলিটারি ডিফেন্স ফোরাম।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 16
    Shares