প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক

‘নোকিয়া’ নদীর নামানুসারেই আজকের জনপ্রিয় মোবাইল ফোন!

29
‘নোকিয়া’ নদীর নামানুসারেই আজকের জনপ্রিয় মোবাইল ফোন!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মোবাইল ফোনের জগতে নোকিয়া একটি জনপ্রিয় নাম। পুরো পৃথিবীর মানুষই নোকিয়া মোবাইলের সঙ্গে পরিচিত। সেই আদিকালের বাটন মোবাইল থেকে বর্তমানের উন্নত প্রযু’ক্তির স্মা’র্টফোন স’ম্পর্কে সবারই কমবেশি ধারণা রয়েছে।

অনেকেই রয়েছেন যারা এই নোকিয়া ব্র্র্যান্ডের ফোন ছাড়া ব্যবহারই করেন না! তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার পছন্দের এই ফোনের নামকরণ কী’ভাবে হয়েছিল?

নোকিয়া আসলে ফিনল্যান্ডের একটা নদীর নাম। এর পুরো নাম হলো নোকিয়ানভির্তা। তবে ছোট করতে গিয়ে এর প্রচলিত নাম হয়ে দাঁড়ায় নোকিয়া। পিরাকানমা’র পাইয়াজার্ভি হ্রদ থেকে সৃষ্টি হয় এই নদীটি।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

অ’পরূপ সুন্দর এই নদীটি যে কারো মনকে ভরিয়ে দেয়। পর্যট’কদের কাছে অ’ত্যন্ত জনপ্রিয় এই নদীটি। অসামান্য সৌন্দর্য্য ঘিরে আছে নদীটিকে। পাথর দিয়ে তৈরি করা পুরানো কিছু প্যালেস। ঢেউ খেলানো সবুজ ঘাসের গালচে পাতা পার্ক।

নোকিয়া নদীর দুই তীরে আছে ওক, ম্যাপল, সিডার গাছের ঘন জঙ্গল। নদীটির ওপরে আছে একটি ব্রিজ। যে ব্রিজের ওপর ভিড় করেন দেশি-বিদেশি পর্যট’কের দল। নদীতে নামা’র অনুমতি নেই। তাই গোসলের ইচ্ছা থাকলেও সে ইচ্ছা পূরণ করতে পারে না পর্যট’কেরা।

নোকিয়া নদীর পামেই রয়েছে ছোট্ট এক শহর। তার নামও নোকিয়া। শহরটি বেশ নিরব প্রকৃতির। নোকিয়া শহরটিতে বাস করেন মাত্র ৩০ হাজার মানুষ। এই শহরবাসীর জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নোকিয়া নদী। তারা এই নদীর পানি কখনো নোংরা হতে দেয় না। তাই নোকিয়া নদীর পানি কাঁচের মতো স্বচ্ছ।

ঝড়-বৃষ্টির পর গাছের পাতা, কাগজ, প্লাস্টিক বা অন্যান্য কিছু নদীর বুকে গিয়ে পড়লে, শহরবাসীরা নিজেদের নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন নদী পরিষ্কার করার জন্য। শীতকালে এই নদীর পানি জমে বরফে পরিণত হয়। তখনো নদীর বুকে নামা বা স্কি করা নিষেধ। নদীর পাড় নোংরা করার শা’স্তি ভীষণ কড়া। জে’ল না হলেও প্রচুর টাকা জ’রিমানা করে ততক্ষণাৎ আদায় করে নেয়া হয়।

প্রথম থেকেই নোকিয়া নামটি ফিনল্যান্ডের মানুষের কাছে পরিচিত থাকলেও তা জানত না বিশ্ববাসী। ফিনল্যান্ডের এক ইঞ্জিনিয়ার ফেডরিক ইডেস্টামের কারণে পরবর্তীতে এই নদীর নাম বিশ্ববাসী জেনেছে। ইপঞ্জিনিয়ার ফেডরিক ইডেস্টাম ১৮৬৫ সালের ১২ মে এই নোকিয়া নদীর তীরে একটি কাগজ তৈরির কারখানা গড়ে তুলেন।

এই নদীর নামেই তিনি কারখানাটির নাম রাখেন ‘নোকিয়া এবি’। নোকিয়া নদীর তীরে আজো রয়েছে কারখানাটির নিদর্শন। ক্রমশ বাড়তে শুরু করে ফেডরিক ইডেস্টামের ব্যবসা, কাগজের সঙ্গে রাবার আর চিনামাটি উৎপাদনে হাত দিয়েছিলেন ফেডরিক ইডেস্টাম। এরপর কে’টে যায় প্রায় ১০০ বছর। প্রয়াত হন ফেডরিক ইডেস্টাম।

১৯১২ সালে ‘নোকিয়া এবি’ অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি প্রবেশ করে প্রযু’ক্তির দুনিয়ায়। তৈরি করতে শুরু করেছিল টেলিফোন, টেলিগ্রাফ যন্ত্র ও ইলেকট্রিক কেবল। ১৯৬৭ সালে কোম্পানিটির নাম বদলে হয়েছিল নোকিয়া কর্পোরেশন। ১৯৭৮ সালে নোকিয়া কর্পোরেশন বাজারে নিয়ে এসেছিল মিনি কম্পিউটার।

এভাবেই ১৯৮৭ সালে প্রথম বাজারে আসে নোকিয়া কর্পোরেশনের প্রথম মোবাইল ফোন। তৈরি হয় প্রযু’ক্তি দুনিয়ায় এক ইতিহাস। যে ইতিহাসের আজো গায়ে জড়িয়ে আছে এক নদী, যার নাম নোকিয়া। অ’তীতের মতো আজো নিজের মতো করেই বয়ে চলছে অনাবিল সৌন্দর্যে ঘেরা নোকিয়া নদী।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 2
    Shares