প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

দেশের ৪ জেলায় করোনায় মারা যায়নি কেউ!

39
দেশের ৪ জেলায় করোনায় মারা যায়নি কেউ!
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

দেশের চার জে’লায় করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত হয়ে এখনও কেউ মা’রা যায়নি। এসব জে’লায় সুস্থতার হারও অন্যান্য জে’লার তুলনায় ভালো।

কারণ হিসেবে এসব জে’লার সিভিল সার্জনরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানা, শক্তহাতে লকডাউন কার্যকর করা, বাইরের জে’লা থেকে আসা মানুষকে দ্রুত শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং আ’ক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত যত্ন নেয়ায় মৃ’ত্যুর ঘটনা এড়ানো গেছে। স্থানীয় পু’লিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় এসব সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

২৩ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও সাতক্ষীরা জে’লায় করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত হয়ে কেউ মা’রা যায়নি। কোন রোগীর মুমূর্ষ অবস্থাও সৃষ্টি হয়নি। আ’ক্রান্ত রোগীদের কিভাবে নিরাপদ রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন সেই অ’ভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে এই চার জে’লার সিভিল সার্জন। যা অন্যান্য জে’লার জন্য যা দৃষ্টান্ত হতে পারে।

জয়পুরহাটে রোগীদের যত্ন নেওয়ায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত সুস্থ হয়েছে

জয়পুরহাট জে’লায় ২৩ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫৫ জন করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন, এদের মধ্যে ১৬২ জন সুস্থ হয়েছেন। কখনওই আ’ক্রান্ত কোনও রোগীর অবস্থা উদ্বেগের বা আশ’ঙ্কাজনক হয়নি। আ’ক্রান্তদের মধ্যে ২২০ জনকেই হাসপাতা’লে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাদের মনোবল শক্ত রাখতে যত্ন ও ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দ্রুত সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জে’লার সিভিল সার্জন ডা. মো. সেলিম মিয়া।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করো’না ভাই’রাস মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্বজনরা মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যায়, আ’ক্রান্ত রোগীকে আলাদা করা হয়। এসব কার্যক্রমে রোগী ভীতু হয়ে পড়েন। আম’রা চেষ্টা করেছি, তাদের মনোবল শক্ত রাখতে। আমাদের এখানে আ’ক্রান্তদের সুস্থতার হার খুব বেশি। আম’রা বিশেষ কিছু করছি না। তবে আ’ক্রান্তদের বেশিরভাগ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেই। আ’ক্রান্ত হবার পরই তাকে পরিবার থেকে আলাদা করে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নিয়ে আসি। হাসপাতা’লে রেখে তাদের চিকিৎসা সেবা চলে। ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা করি। এতেই আম’রা ভালো ফল পেয়েছি। কোনও রোগীর অবস্থা কখনোই ক্রিটিক্যাল হয়নি। আমাদের আ’ক্রান্ত ২৫৫ জনের মধ্যে ৩০/৩৫ জনকে কেবল বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করেছি। কারো অবস্থাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।’

আ’ক্রান্তদের মধ্যে উপসর্গ তেমন ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উপসর্গ তেমন ছিল না, তবে আম’রা কোনটিকে গুরুত্ব কম দেইনি। আ’ক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যু’ক্ত ছিল। আম’রা এসব রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করেছি। তাই ভালো ফল পেয়েছি।’

ঠিকঠাক কোয়ারেন্টিন নিয়ন্ত্রণ সফলতা পেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাপাইনবাবগঞ্জে ৮৮ জন ব্যক্তি এখন পর্যন্ত করো’না আ’ক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৭ জন সুস্থ হয়েছেন। বাকিদের অবস্থাও তুলনামূলক ভালো। কেউ আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় নেই। এখন পর্যন্ত মা’রা যায়নি কেউ। এ বিষয়ে জে’লার সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আম’রা এলাকার প্রশাসন ও নাগরিকদের নিয়ে প্রথম থেকেই শতভাগ কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছি। দুই’মাসে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের মেডিক্যাল চেকআপ করা হয়েছে। ইতালি ও চায়না ফেরতদের আম’রা কোয়ারেন্টিনে রেখেছি। এজন্য কিছুটা সফলতা পেয়েছি। আর যারা আ’ক্রান্ত হয়েছে,তাদের ৯০ শতাংশ মানুষ গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে সংযু’ক্ত ছিল। আ’ক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশনে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আম’রা গ্রিন জোনে আছি, কিন্তু চ্যালেঞ্জিং হয়ে যাচ্ছে, কারণ ভাই’রাসতো নির্মূল হয়ে যাচ্ছে না। এই আ’মের মৌসুমে আমাদের বেশি ঝুঁ’কিপূর্ণ করেছে। এই জে’লায় তিনটি আ’মের হাট রয়েছে। সেখানে আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হচ্ছে। মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে আম’রা ছাড় দিচ্ছি না। কিন্তু হাটগুলোতে বিভিন্ন জে’লার মানুষ প্রবেশ করছে। তাই ঝুঁ’কি রয়েছে।’

ভৌগলিক কারণেও এই জে’লার সঙ্গে অন্যান্য জে’লার যোগাযোগ কম রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আম’রা কম ঝুঁ’কিপূর্ণ থাকলেও রাজশাহীতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে, আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরো ভাবতে হচ্ছে।’

সিভিল সার্জন বলেন, ‘আ’ক্রান্তদের আম’রা নিয়মিত যত্ন নিয়েছি। যারা বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিয়েছে তাদেরও আম’রা যত্ন নিয়েছি নিয়মিত, খোঁজ খবর নিয়েছি। স্থানীয় পু’লিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও তাদের খোঁজ খবর নিয়েছে। এতে রোগীর ভেতরে মনোবল শক্ত রয়েছে।’

কুড়িগ্রামে কঠোর লকডাউনের ফল মিলেছে

কুড়িগ্রামে এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্ত ১২৩ জন, এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৭৭ জন। সংক্রমণের গতিও ধীর রয়েছে। আ’ক্রান্ত হয়ে কেউ মৃ’ত্যু বরণ করেননি। তবে এই জে’লার একজন পু’লিশ সদস্য করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত হয়ে বগুড়াতে মা’রা গেছেন। তাকে ওই জে’লার মৃ’ত্যু তালিকায় গণনা করা হয়েছে।

সার্বিক চিত্র অন্যান্য জে’লার তুলনায় ভালোই রয়েছে উল্লেখ করে জে’লার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবীবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আম’রা জে’লা হিসেবে গ্রিনজোনে রয়েছি। তবে এতে আম’রা এখনই সন্তুষ্ট হচ্ছি না। কারণ জে’লা গ্রিনজোনে থাকলেও আমাদের কিছু উপজে’লা ও ইউনিয়নে যেহেতু সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাই সেগুলো আম’রা রেডজোন হিসেবে ঘোষণা করবো। আম’রা প্রথম থেকে লকডাউন শক্তহাতে করার চেষ্টা করেছি। স’ন্দেহভাজনদের দ্রুত টেস্ট করেছি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছি। এতে কিছু ফল পেয়েছি, তবে আরো কাজ করতে হবে।’

সাতক্ষীরা জে’লায় মৃ’ত্যু নেই, আ’ক্রান্ত হার বেড়েছে ঈদের ছুটিতে

দেশের উপকূলবর্তী জে’লা সাতক্ষীরায় ঈদুল ফিতরের পূর্বে আ’ক্রান্তের হার ছিল খুবই কম। কিন্তু ঈদের ছুটিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে এই জে’লার মানুষ নিজ বাড়িতে যাবার পর আ’ক্রান্ত বেড়েছে। ঈদের পূর্বে কঠোরভাবে লকডাউন নিশ্চিত করা গেলেও ঈদের পরের চিত্র ছিল ভিন্ন। কড়াকড়ি করা যায়নি। ২৩ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত এই জে’লায় করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত ১০৪ জন, সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। কেউ মা’রা যাননি। জে’লা হিসেবে গ্রিন জোনে রয়েছে।

আ’ক্রান্ত কম থাকা ও মৃ’ত্যু না থাকার জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা- জানতে চাইলে জে’লার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসেইন সাফায়েত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আম’রা প্রথম থেকে কঠোর লকডাউনে ছিলাম। ঈদের আগে আমাদের আ’ক্রান্তের হার ছিল সামান্য। কিন্তু ঈদের ছুটিতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ আসায় আ’ক্রান্তের হার বেড়েছে। তিনটি ইউনিয়নে আ’ক্রান্ত বেশি। সেগুলো আম’রা রেড জোন ঘোষণা করে পুরো লকডাউনের দিকে যাচ্ছি। পু’লিশ আমাদের প্রথম থেকে সহযোগিতা করছে তাই এখানে মানুষের মধ্যে সচেতনতা কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘ভৌগলিক কারণেও আমাদের এই জে’লা অন্যজে’লার তুলনায় নিরাপদ।’

২৩ জুন দুপুর পর্যন্ত দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করো’নায় আরও ৪৩ জন মা’রা গেছেন। এ নিয়ে মৃ’তের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৫৪৫ জনে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করো’না শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ৪১২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮৮০ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৪৭ হাজার ৬৩৫ জন। সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।