বিয়ের ২০ বছর পর ২ মেয়েসহ বাড়ি থেকে বিতাড়িত গৃহবধূ

50
বিয়ের ২০ বছর পর ২ মেয়েসহ বাড়ি থেকে বিতাড়িত গৃহবধূ
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজবাড়ীতে বিয়ের ২০ বছর পর দুই সন্তানের জননী লতা আক্তারকে (৩৯) শারীরিক নি’র্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে স্বামী, সতীন এবং সতীনের ভাই ও মায়ের বি’রুদ্ধে।

এ ঘটনায় মা’রধর ও যৌতুকের মা’মলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূ। তিনি স্বামী ও সতীনের উপযু’ক্ত বিচার ও ২০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর অ’তিরিক্ত দাবি থেকে নিষ্কৃতি এবং স্বামীর সংসারে ফেরার জন্য আইনী সহায়তা পেতে রাজবাড়ী থা’নায় মঙ্গলবার এ মা’মলা দায়ের করেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় লতার স্বামী মালেক মিয়া, সতীন সেলিনা, তার মা নুরজাহান বেগম ও ভাই শামীম সরদার মিলে লতা ও তার বড় মে’য়েকে বেদম মা’রপিট করে ঘরে আ’ট’কিয়ে রেখে লতার বাবা ও ভাইকে ফোনে সংবাদ দেন।

পরে তারা গিয়ে এলাকবাসীর সহায়তায় লতা ও তার দুই মে’য়েকে উ’দ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতা’লে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে হাসপাতাল থেকে লতা তার দুই মে’য়েসহ সদর উপজে’লার মিজানপুর ইউনিয়নের ম’র্জ্জোৎকোল গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

লতা আক্তার ও তার দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মে’য়ে যৌতুকলো’ভী মালেক ও তার পরিবারের উপযু’ক্ত শা’স্তি দাবি করেছেন।

থা’নায় লিখিত অ’ভিযোগে লতা আক্তার জানান, ২০০০ সালের ১০ জুলাই রাজবাড়ী সদর উপজে’লার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রামের হোসেন আলী মিয়ার ছে’লে মো: মালেক মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর লতার বাবা আব্দুর রশিদ সেখ মে’য়েজামাই মালেক মিয়াকে রাজবাড়ী স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেন। বর্তমানে মালেক মিয়া ফরিদপুর আলফাডাঙ্গা উপজে’লা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্ম’রত আছেন।

মালেক ও লতার বিবাহিত জীবনে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের বড় মে’য়ে স্থানীয় একটি হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ছা’ত্রী।

এরই মধ্যে যৌতুকলো’ভী মালেক মিয়া গত বছরের ২৫ জুলাই প্রথম স্ত্রী’ লতার বিনা অনুমতিতে তাকে না জানিয়ে মাটিপাড়ার পার্শ্ববর্তী বারলাহুরীয়া গ্রামের হাতেম সরদারের মে’য়ে দুই সন্তানের জননী এক রিকশাচালকের স্ত্রী’ সেলিনাকে (৩৪) দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

তখন লতা ও এলাকাবাসী দ্বিতীয় স্ত্রী’কে তালাক দিতে চাপ দিলে মালেক কৌশলে সেলিনার কাবিন বাবদ পাঁচ লাখ টাকা লতাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এনে দিতে লতাকে দুই সন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়। তখন লতা বাদি হয়ে রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আমলী আ’দালতে সিআর-২০৬/২০ এবং মু’সলিম পারিবারিক আইন আদেশের ৬[৫] ধারায় রাজবাড়ীর বিজ্ঞ আমলী আ’দালতে সিআর-২০৭/২০ মা’মলা দায়ের করেন। ওই মা’মলা দুটি বর্তমান বিচারাধীন।

ওই সময় তিন মাস বাবার বাড়ি থাকার পর গত ২০ মে তারিখে মালেক লতার বাবা ও এলাকাবাসীর কাছে মুচলেকা দিয়ে লতাকে তার মে’য়েদেরসহ আবার বাড়ি ফিরিয়ে নেন।

এরপর মালেক যৌতুকের টাকার দাবি ছেড়ে লতার দায়ের করা দুটি মা’মলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে লতা রাজি না হয়ে আগে তার দ্বিতীয় স্ত্রী’ সেলিনা তালাক দিতে বলায় মালেক লতা ও তার মে’য়েদের ওপর নি’র্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। বড় মে’য়ের পড়ার খরচ ও তাদের খাবারও ঠিকমতো না দিয়ে প্রায়প্রতিদিনই মালেক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী’ সেলিনা এবং তার মা ও ভাই প্রায়ই লতাকে মা’রধরসহ নানাভাবে নি’র্যাতন করেন।

তবুও মে’য়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে লতা শত নি’র্যাতন ও ক’ষ্ট মুখবুজে সহ্য করে স্বামী সংসারে থাকতে চাইছিলেন। কিন্তু এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে লতা ও তার মে’য়েদের কোনো খাবার না দিয়ে ঘরে আ’ট’কিয়ে মালেক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী’ এবং তার মা ও ভাই নি’র্যাতন করে মা’রাত্মক জ’খম করেন।

এ ব্যাপারে মালেক মিয়া বলেন, ‘সংসারে কিছু সমস্যা হয়েই থাকে। এর সমাধান হয়ে যাবে।’

রাজবাড়ী সদর থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) স্বপন কুমা’র জানান, লতা আক্তারের একটি অ’ভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিজানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আতিয়ার রহমান জানান, ঘটনাটি তিনি জানেন। লতা ও তার বাবা নিরীহ মানুষ, বলেন তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।