প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

স্বামী-স্ত্রীর অভিনব করোনা টেস্ট ল্যাব

20
স্বামী-স্ত্রীর অভিনব করোনা টেস্ট ল্যাব
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

করো’নার নমুনা সংগ্রহে বৈধ অনুমতি নেই তাদের। নেই স্যাম্পল পরীক্ষার ল্যাবও। বাসায় সম্বল একটি কম্পিউটার। স্বামী-স্ত্রী’ মিলে অনলাইনে দুটি সাইট খুলে প্রথমে করো’নার উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের টার্গেট করেন তারা। এরপর তাদের বাড়িতে গিয়ে নমুনাও সংগ্রহ করতেন।

পরে কোথাও ফেলে দিতেন নমুনা। এরপর বাসায় বসে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদলে হুবহু করো’নার সার্টিফিকেট তৈরি করে ইচ্ছামতো ‘পজিটিভ-নেগেটিভ’ বানিয়ে তা রোগীর ই-মেইলে পাঠাতেন। মনগড়া এই করো’নার রিপোর্ট তৈরিতে জনপ্রতি পাঁচ-আট হাজার টাকা নিতেন।

করো’না নিয়ে ভ’য়ংকর এ প্রতারণায় জ’ড়িত দম্পতি হলেন হু’মায়ুন কবির ও তানজিনা পাটোয়ারী। এরই মধ্যে অন্তত ৪২ জনকে করো’নার ভু’য়া সার্টিফিকেট দেওয়ার তথ্য তাদের ই-মেইল যাচাই করে পাওয়া গেছে।

পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর রশিদ সমকালকে জানান, সম্প্রতি একজন ভুক্তভোগী তার করো’নার সার্টিফিকেট ও সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আচরণে সংশয় প্রকাশ করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পু’লিশকে অনুরোধ করেন তিনি। এরপরই ত’দন্তে নামে পু’লিশ। ত’দন্তে যা বেরিয়ে আসে তা কল্পনাকেও হার মানায়। করো’নার সনদ নিয়ে এমন প্রতারণা সত্যি অবিশ্বা’স্য।

অনলাইনে দুটি সাইট খুলে সেখানে হটলাইন নম্বর দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেন তারা। এরপর তাদের স্যাম্পল আনতে যেতেন। প্রতারণা করে আসছিলেন এক দম্পতিসহ আরও কয়েকজন। তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পু’লিশ কমিশনার মো. মাহমুদ খান সমকালকে জানান, তানজিনা পাটোয়ারী পেশায় একজন নার্স। তার স্বামী হু’মায়ুন কবির গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

তারা এক সময় জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা প্রজেক্টে চাকরি করতেন। সরকারি সংস্থার অনুমতি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে শুরুতে তারা করো’নার নমুনা পরীক্ষা করে বৈধ ল্যাবে পাঠাতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল স্যাম্পল কালেকশনের বুথ তৈরি করা।

পরবর্তীকালে স্বামী-স্ত্রী’র মা’থায় কুমতলব আসে। ১২ এপ্রিল তারা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে নিজেরা অনলাইনে ‘বুকিং বিডি’ ও ‘হেলথ কেয়ার’ নামে দুটি সাইট খোলেন। এরপর ওই সাইট থেকে অনেককে প্রলুব্ধ করে নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন।

পু’লিশ জানায়, সোমবার রাতে আশকোনার বাসায় অ’ভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রী’কে গ্রে’প্তার করে পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগ। তাদের বাসায় আটটি পিপিই, নমুনা সংগ্রহের ৫০টি স্টিক ও অনেক হ্যান্ড গ্লাভস পাওয়া যায়। একটি কম্পিউটারও জ’ব্দ করা হয়। সেখানে ৪২ জনকে ভু’য়া করো’নার রিপোর্ট দেওয়ার তথ্য মিলেছে। সর্বশেষ সোমবারও পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন স্বামী-স্ত্রী’।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মূলত অর্থের লো’ভেই তারা এ ধরনের প্রতারণায় জড়িয়েছেন। যে জোবেদা খাতুন স্বাস্থ্য সেবা প্রজেক্টে চাকরি করতেন তা ওভাল গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন। ওই প্রতিষ্ঠানের অনেকেই করো’নার সার্টিফিকেট নিয়ে এ ধরনের বাণিজ্য করছেন।

সেখান থেকেই তারা এই অ’প’রাধে জড়াতে উদ্বুদ্ধ হন। এরপরই গতকাল গুলশান-২ নম্বরে জেকেজি নামে ওই প্রতিষ্ঠানে অ’ভিযান চালিয়ে তার কর্ণধারসহ আরও চারজনকে গ্রে’প্তার করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে দুটি ডেস্কটপ, চারটি ল্যাপটপ ও তিন হাজার পিস স্যাম্পল কালেকশন স্টিক জ’ব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতারক এই চক্রটি মূলত মহাখালীর ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়িটিভের সার্টিফিকে’টের কপি নকল করে করো’নার ভু’য়া সার্টিফিকেট তৈরি করত।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 3
    Shares