প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

১১ বছর বয়সে এই রানির বিয়ে হয় তার জন্মদাতার সঙ্গে

127
১১ বছর বয়সে এই রানির বিয়ে হয় তার জন্মদাতার সঙ্গে
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

মিশরীয় ফারাও রানিদের মধ্যে ক্লিওপেট্রা ছিলেন সব থেকে আ’লোচিত। তিনি তার সৌন্দর্য এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য আজো ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।এছাড়াও রানি হাতশেপসুত, যিনি পুরুষের বেশে মিশর শাসন করেছেন।

মিশরের রাজা বা ফারাওদের কথা বললে তৎক্ষণাৎ আমাদের চোখে নীল আর সোনালি মুকুট পরে সিংহাসনে বসে থাকা একজন পুরুষের অবয়বই ভেসে ওঠে। যদিও মিশরের শাসকরা সাধারণত পুরুষ ছিলেন। তারপরও ফারাও শব্দটা বিরলভাবে নারী শাসকদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হত।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মিশরের তিন হাজার বছরের ইতিহাসে ১৭০ জন ফারাওয়ের মাঝে সাত জন ছিলেন নারী। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে ইতিহাসবিদদের স’ন্দেহ রয়েছে, কারণ অনেক নারী শাসকের নামই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এদের মধ্যে রানি আনাক-সু-নামুন অন্যতম।

বেশ র’হস্যময় ছিল তার জীবন। খ্রিস্টপূর্ব ১৩৪৮ সালে আনাক-সু-নামুনের জন্ম। বাবা ফারাও আখেনাতেন ও মা নেফারতিতির ঘরে জন্ম তার। আনাক-সু-নামুন একাধারে তুতেনখামেনের মাতামহী, মা, বোন ও স্ত্রী’ ছিলেন। মিশরের রাজারা নিজেদের ঈশ্বরের অংশ বলতেন। সিংহাসনে দেবতার অধিকার কায়েম রাখতে, খুব কাছের আত্মীয়কে বিয়ে করতেন তারা। নিজেদেরকে দেবতা বলে মনে করায় তারা বংশের বাইরে কাউকে বিবাহ করত না। ফলে ভাই-বোনেদের মধ্যেই বিবাহ সম্পন্ন হত।

আনাক-সু-নামুন দেখতে কিছুটা এমনই ছিলেনএ কারণে রাজকন্যা আনাক-সু-নামুনের প্রথম স্বামী ছিলেন তারই জন্ম’দাতা পিতা আখেনাতে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই মা হন আনাক-সু-নামুন। কিছুদিন পরই মা’রা যান আখেনাতেন। এরপরের ফারাও স্মেনখারের সঙ্গে বিবাহ হয় তার। স্বামী সুখ যেন বিধাতা লেখেননি আনাক-সু-নামুনের কপালে। বিয়ের কিছুদিনের মা’থায় স্মেনখারের মৃ’ত্যু হয়। স্মেনখারের মৃ’ত্যুর পর রাজা হন নয় বছরের তুতেনখামেন।

তিনি ছিলেন রাজকন্যা আনাক-সু-নামুনের সৎ-ভাই। পরম্পরা মেনে বালক তুতেনখামেনের সঙ্গে বিয়ে হয় ১৬ বছরের আনাক-সু-নামুনের। তখনকার সময় হয়তো মানুষের জানা ছিল না, র’ক্তের স’ম্পর্কের মধ্যে বিয়ে হলে তার প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপর। সন্তানের শরীরে নানা রকম শারীরিক অ’সুবিধা দেখা দেয়। রাজা তুতেনখামেনও ছিলেন শারীরিক প্রতিব’ন্ধী। তার এক পা খোঁড়া ছিল।

এ কারণেই হয়তো আনাক-সু-নামুন দুইবার মৃ’ত কন্যা সন্তান জন্ম দেন। শি’শুদের মমি মিলেছে তুতেনখামেনের বিখ্যাত মমির পাশেই। তারা বেঁচে থাকলে হয়তো রানি আনাক-সু-নামুনের জায়গাটি গ্রহণ করত। রানি আনাক-সু-নামুনের জন্য অ’পেক্ষা করছিল আরো সব অ’প্রীতিকর ঘটনা। প্রায় ১০ বছর সুখেই কে’টেছে তুতেনখামেনের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন।

তুতেনখামেন সেসময় মিশরের রাজা হলেও তার বয়স ছিল কম। ফলে বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনার জন্য তাকে বিভিন্ন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সাহায্য নিতে হতো। আনাক-সু-নামুনও তার স্বামীকে রাজ্য পরিচালনায় বিভিন্ন পরাম’র্শ দিয়ে সাহায্য করতেন। তারা দুজনে মিলে তাদের বাবা মিশরের সমাজ ব্যবস্থার যে ক্ষতি করেছিলেন তা ঠিক করার চেষ্টা করেন।

তবে তুতেনখামেন তার শারীরিক ত্রুটির জন্য খুব একটা আরামে রাজত্ব করতে পারেননি। এক পা তার খোঁড়া থাকায় সবসময় একটি লা’ঠি নিয়ে হাঁটতে হতো। ইতিহাসবিদদের মতে, তার বাবা-মায়ের অজাচারী স’ম্পর্কের ফলেই তিনি এই পঙ্গুত্ব লাভ করেন। তবে তুতেনখামুন ও আনাক-সু-নামুন দম্পতির মধ্যে বোঝাপড়া ভালো ছিল বলেই জানা যায়। তাদের প্রে’মময় স’ম্পর্কের অনেক ছবি মিশরে দেখতে পাওয়া যায়।

আনাক-সু-নামুন ও তুতেনখামুনবেশি দিন এই সুখ স্থায়ী হয়নি আনাক-সু-নামুনের। হঠাৎ করেই মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাজা তুতেনখামেন মা’রা যান। শুরু হয় নতুন সমস্যা। তুতানখামেন ও আনাক-সু-নামুনের দাদা আইয়ের যে মন্দির ছিল, সেখানকার পুরোহিত আনাক-সু কে জো’র করে বিয়ে করতে চায়। তার হাত থেকে বাঁ’চার জন্য আনাক-সু-নামুন পত্র পাঠায় হিট্টাইট রাজাকে। আকুতি ভরা চিঠি লিখেছিলেন রানি।

চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, আমি বিধবা, পুত্রহীনা। আপনার ছে’লেদের কাউকে আমা’র সঙ্গে বিয়ে দেবেন? কোনো প্রজাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে চাই না। রানির চিঠি পেয়ে হিট্টাইট রাজা তার ছে’লেকে পাঠিয়েছিলেন। তবে রানির কাছে পৌঁছাতে পারেনি সে। পথেই তাকে খু’ন করান আই। এমনকি তুতেনখামেনের হ’ত্যার নেপথ্যেও নাকি তিনি ছিলেন।

রাজত্বের দাবি জোরালো করতে, আই জবরদস্তি বিয়ে করলেন আনাক-সু-নামুনকে। এরপরই ইতিহাস থেকে হারিয়ে গিয়েছেন রানি অথবা মুছে দেয়া হয়েছিল তার অস্তিত্ব। ঐতিহাসিকরা এখনো তার র’হস্যজনক মৃ’ত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে পারেননি। আর কেনই বা তিনি অদৃশ্য হয়েছিলেন তা বের করার চেষ্টা করছেন অনেক ঐতিহাসিক। আখেনাতেন এবং নেফারতিতি উভয়ই বিতর্কিত ব্যক্তি ছিলেন। তারা পুরনো ধারা ভঙ্গ করে একটি ধ’র্মীয় বিপ্লব ঘটিয়েছিল, যেখানে তারা কেবলমাত্র এক ঈশ্বরে বিশ্বা’স করতেন।

আর একটু বিশদভাবে বললে বিষয়টি ছিল এমন যে, তাদের জন্মের সময় মিশরে এক ধ’র্মীয় বিপ্লবের চলছিল। সেসময় আখেনাতেন মিশরের প্রাচীন দেবতাদের ত্যাগ করে একক দেবতা আতেন এর উপাসনা শুরু করেন। ফলে এতদিন ধরে পূজা করে আসা দেবতারা-এর অনুসারীরা আখেনাতেনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং এক বড়সড় বিপ্লবের শুরু হয়। কারণ এর মধ্য দিয়ে অ’ত্যন্ত শক্তিশালী এবং ধনী পুরোহিত শ্রেণীর কাছ থেকে অর্থ এবং ক্ষমতা দুই ই নিয়ে নেয়া হয়। স্বার্থে আ’ঘাত লাগাতে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা, অসন্তুষ্টি এবং প্রতিবাদ শুরু হয়। তাদের মৃ’ত্যুতে আনাক-সু-নামুনের আর কোনো বিকল্প থাকলো না।

রানির স্বামী ভাগ্য তেমন ভালো ছিল নাতিনি প্রয়াত ফেরাউন তুতেনখামুনের উপদেষ্টা ফেরাউন আইয়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হলেন। যদিও সেসময় আনাক-সু-নামুন তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয় নাই। বিয়ে তাকে করতেই হয় আইকে। তাদের বিয়ের প্রমাণও মিলেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা একটি আংটি খুঁজে পেয়েছিলেন যা থেকে দেখা যায়, তিনি আইয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর আশ্চর্যজনকভাবেই হঠাৎ নিখোঁজ হন আনাক-সু-নামুন। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, ফেরাউন আইয়ের সমাধির দেয়ালে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আইয়ের স্ত্রী’ এবং রানি নেফারতিতির নার্স তেঁয়ের নাম পেয়েছিলেন। তবে আনাক-সু-নামুনের নাম ছিল না।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।