প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক

ফের দুঃসংবাদ,মানুষের জিন চুরি করে নিচ্ছে করোনা!

64
ফের দুঃসংবাদ,মানুষের জিন চুরি করে নিচ্ছে করোনা!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

শুধু শরীরে আক্রমণই নয়, মানুষের জিনের তথ্যও চু’রি করে নেয় করো’নাভাই’রাস। এরপর তার সাথে নিজেদের জিনোম যু’ক্ত করে হাইব্রিড জিন বানিয়ে ফেলে এই ভাই’রাস। সম্প্রতি এই তথ্য জানতে পেরেছেন নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা। ‘সেল’ সায়েন্স জার্নালে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তারা।

মাউন্ট সিনাইয়ের গবেষকরা বলছেন, শুধু করো’না নয়, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাই’রাস, লাসা ভাই’রাস যাকে বলে লাসা হেমা’রেজিক ফিভা’র, অন্যান্য সংক্রামক প্যাথোজেনেরও এমন একটা চু’রির প্রবণতা থাকে। হোস্ট বা বাহক কোষে বেশিদিন বেঁচে থাকতে শুধুমাত্র নিজেদের জিনোমটুকু নিয়ে থাকলেই চলে না।

বরং নিজেদের জিনোমকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করতে বাহকের জিনও দরকার হয়। তবে সব প্যাথোজেনই যে খুব উন্নত মানের চো’র সেটা বলা যায়। চু’রির হাত কারও বেশি, কারও বা কম। সার্স-কভ-২ যেহেতু সব ভাই’রাসকেই টেক্কা দিয়ে দিয়েছে, তাই তাদের চু’রিবিদ্যার কৌশল একটু বেশিই উন্নত।

নিখুঁতভাবে মানুষের জিনের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের জিনের গঠন বদলে ফেলে আপ টু ডেট হয়ে যাচ্ছে এই ভাই’রাস। ফলে শক্তিও বাড়ছে, টিকে থাকার সময়ও বাড়ছে। সংক্রামক ক্ষমতা বাড়িয়ে এক শরীর থেকে আরেক শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

মাউন্ট সিনাই স্কুল অব মেডিসিনের গ্লোবাল হেলথ অ্যান্ড ই’মা’র্জিং প্যাথোজেন ইনস্টিটিউট এবং ব্রিটেনের গ্লাসগো সেন্টার এমআরসি-ইউনিভা’র্সিটি ফর ভাই’রাস রিসার্চের বিজ্ঞানীরা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন কী’ভাবে মানুষের জিন থেকে তথ্য চু’রি করে নিতে পারে ভাই’রাস।

সব ভাই’রাসের এ ক্ষমতা নেই। সেগমেন্টেড নেগেটিভ স্ট্র্যান্ড আরএনএ ভাই’রাসের জিন-চু’রির এমন ক্ষমতা আছে। ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, মানুষের জিনের খবরাখবর অর্থাৎ জেনেটিক সিগন্যাল চু’রি করে নিজেদের প্রোটিন তৈরি করে ভাই’রাস। এমন প্রোটিনের খোঁজ আগে মেলেনি।

ভাইরোলজিস্টরা এই প্রোটিনের নাম দিয়েছেন ইউএফও অর্থাৎ আপস্ট্রিম ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন ওপেন রিডিং ফ্রেম। এই ইউএফও প্রোটিন তৈরি হয় কিছুটা ভাই’রাল জিনোম ও বাকিটা মানুষের জিন দিয়ে। ভাই’রাল জিনোম সিকুয়েন্সের ঘাটতি পূরণের জন্য মানুষের জিন যু’ক্ত করে হাইব্রিড জিন তৈরি করে ভাই’রাস।

মাউন্ট সিনাইয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ইভান মা’রাজি বলেছেন, আএনএ ভাই’রাস নিজেদের প্রোটিন তৈরি করতে পারে না। মানুষের কোষে এন্ট্রি নেয়া এবং কোষের ভেতরে সংখ্যায় বাড়তে হলে তাদের হোস্ট সেল বা বাহক কোষের প্রোটিনের সাহায্য নিতেই হয়।

এখন মানুষের দেহকোষ তো আর ভাই’রাসের জন্য রাস্তা খুলে রাখে না, সব কোষেরই রক্ষী থাকে যারা ভাই’রাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যাথোজেন দেখলেই তাদের তাড়িয়ে দেয়। গবেষকরা বলছেন, এই কারণেই ভাই’রাস সবচেয়ে আগে বাহক কোষের রিসেপটর খুঁজে নেয়, যেখান দিয়ে তারা গো’পনে ঢুকতে পারবে। এরপর সংক্রমণ ছড়াতে গেলে বা মানুষের শরীরে টিকে থাকতে হলে আরও জো’রালো প্রোটিনের দরকার হয়। এই প্রোটিন তারা তৈরি করে মানুষের জিনের তথ্য চু’রি করেই।

গবেষকরা বলছেন, আরএনএ ভাই’রাস দেহকোষের মেসেঞ্জার আরএনএ এর দিকে নজর রাখা শুরু করে। এই মেসেঞ্জার আরএনএ-র মধ্যে কোষের যাবতীয় গো’পন খবর থাকে। এমআরএনএ-র একটা অংশ তারা কে’টে নেয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ‘ক্যাপ-স্ন্যাচিং’। মেসেঞ্জার আরএনএ-র অংশ হাতে চলে আসা মানেই জিনের গো’পন খবরও মুঠোয় চলে আসা। এরপর নিজেদের ভাই’রাল সিকুয়েন্সকে ওই অংশের সঙ্গে জুড়ে নিয়ে হাইব্রিড জিন তৈরি করে ফেলে ভাই’রাস।

এখানেই কাজ শেষ নয়। এরপর হোস্ট জিন সঙ্গে নিয়ে এই ভাই’রাস মানুষের কোষে নিজেদের সিগন্যাল পাঠায়। একে বলে ‘স্টার্ট স্ন্যাচিং’। এভাবে নতুন হাইব্রিড-জিনের ট্রান্সলেট করে সংখ্যায় বাড়তে থাকে ভাই’রাস। নতুন জিন বা নভেল জিন হয় আগের থেকেও বেশি শক্তিশালী। গবেষকরা বলছেন, ভাই’রাসের ওই ইউএফও প্রোটিনকে যদি চিহ্নিত ফেলা যায় তাহলেই ভাই’রাসকে ঠেকানোর উপায় পাওয়া যাবে। ভ্যাকসিন গবেষণায় যা বিশেষভাবে কাজে লাগবে। সূত্র: সায়েন্স ডেইলি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 25
    Shares