প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাঁ’চাতে পারলেন না রোগীকে, হতাশায় ম’রদেহের পাশে বসে পড়লেন ডাক্তার

21
বাঁ'চাতে পারলেন না রোগীকে, হতাশায় ম'রদেহের পাশে বসে পড়লেন ডাক্তার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রোগীকে বাঁ’চানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও হারতে হলো ডাক্তার নিজাম উদ্দিনকে। হতাশায় হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়লেন ম’রদেহের পাশে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ভাই’রাল।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সারাদিন করো’না আ’ক্রান্ত রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ সরবরাহ করেন ডা. নিজাম। সেই সাথে চলে নতুন পজেটিভ রোগীদের বাড়ি লক-ডাউনের কাজও।

এরই মধ্যে এক বাড়িতে রবিউল নামে একজনের শারীরিক অবস্থা খা’রাপ দেখে লোক পাঠিয়ে উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে আসেন তিনি। অক্সিজেন দেয়ার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও অক্সিজেন সরিয়ে নিলে আবারও শারীরিক অবস্থা খা’রাপ হয়ে যায়। পরে রবিউলকে হাসপাতা’লে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ডা. নিজাম।

ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাত ১১টায় ফেরেন হাসপাতা’লে। সেখানেই থাকার ব্যবস্থা। পিপিই খুলে বিশ্রাম নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ডা. নিজাম। এরই মধ্যে খবর আসে, নিচে একজন রোগী এসেছেন। তার অবস্থা ভালো নয়। রয়েছে করো’না উপসর্গ।

আবার পিপিই পরে নিচে নেমে গেলেন তিনি। দেখলেন হাসপাতা’লের সামনে রাস্তায় এক কি’শোর তার নিথর বাবাকে কোলে নিয়ে বসে আছে। কাঁদতে কাঁদতে সাহায্য চাইছে সবার কাছে। অবস্থা এতোই খা’রাপ হাসপাতা’লের ভেতরে নেয়ারও অ’পেক্ষা করেননি ডা. নিজাম।

দ্রুত গিয়ে রোগীর নাড়ি চেক করলেন। পালস নেই। রোগীকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে সিপিআর দেয়া শুরু করলেন তিনি। একটা সময় পরে গিয়ে পালস পেলেন। তখনও সিপিআর চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সারাদিনের পরিশ্রমের কারণে শরীর সায় দেয় না। ডা. নিজাম ক্লান্ত হয়ে থেমে যেতেই কি’শোর ছে’লেটা দায়িত্ব নেয়।

ততক্ষণে পাশে থেকে কী’ভাবে সিপিআর দিতে হয় শিখে গেছে ছে’লেটি। বাবাকে বাঁ’চানোর চেষ্টায় ক্রমাগত সিপিআর দিয়ে চলে সে। পাশে বসে রোগীর দিকে নজর রাখছিলেন ডা. নিজাম। হঠাৎ করেই রোগীর চোখ স্থির হয়ে গেল। এটা দেখেই দ্রুত পালস চেক করলেন তিনি। পালস নেই। তার চোখের সামনেই রোগী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। হতাশায় মুষড়ে পড়লেন ডা. নিজাম। হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়লেন রোগীর ম’রদেহের পাশে।

মা’রা যাওয়া ওই রোগীর নাম পবন চন্দ্র দাস (৫০)। পরিবার থেকে জানানো হয়, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি কাশি, জ্বর, গলা ব্যথায় ভুগছিলেন তিনি। মা’রা যাওয়ার পরদিন প্রশাসন তার বাড়ি লকডাউন করে দেয়।

ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, রোগীকে যখন আনা হয় তখনই ওনার খুব খা’রাপ অবস্থা ছিলো। আম’রা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজে’লায় করো’নায় আ’ক্রান্ত রোগী রয়েছেন ১৫ জন। এদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 10
    Shares