প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

দেশে ধীরে ধীরে কমবে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার!

45
দেশে ধীরে ধীরে কমবে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দেশে মহামা’রি করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর মিছিল কবে থামবে? কবে নাগাদ সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর পারদ সর্বোচ্চ চূড়ায় (পিক) উন্নীত হবে?

একদিনে সর্বোচ্চ কতসংখ্যক মানুষ করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হবে, সর্বোচ্চসংখ্যক মৃ’ত্যুই-বা হবে কতজনের? কবে মানুষ ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার সুযোগ— এমন নানা প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

রোগতত্ত্ববিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কেউ এসব বিষয়ে খোলাসা করে মন্তব্য করতে চাইছেন না। তবে কেউ কেউ বলছেন, এখন পর্যন্ত করো’নার সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর হিসাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কেউ বলছেন, জুলাই মাসের শেষে হয়তো চূড়ায় পৌঁছবে। আবার কেউ কেউ ‘এখনই সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর সর্বোচ্চ চূড়ায় রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মক’র্তা আলমগীর হোসেন শুনিয়েছেন আশার বাণী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তিনি বলেন, ‘আ’মেরিকা বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে এক লাফে অনেক বেশিসংখ্যক মানুষ করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত বা প্রা’ণহানি ঘটবে না।’

তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একইভাবে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তার মতে, দেশে এখনই করো’নার সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর চূড়ান্ত পর্যায়ে (পিক) রয়েছে। ‘নতুন করে খুব বেশিসংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হবে— এমনটা মনে করছি না।’

তিনি আরও বলেন, দেশে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ যেমন ধীরে ধীরে বেড়েছে ঠিক তেমনি ধীরে ধীরে কমবে। একেবারে দ্রুত সংক্রমণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কবে নাগাদ কমে আসতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে আলমগীর হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, জুলাই মাসের শেষ দিকে সংক্রমণের সংখ্যা কমে আসতে পারে।

একই অ’ভিমত ব্যক্ত করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তার মতে, করো’নার মূল প্রবাহ (পিক টাইম) তো আসবে এ মাসে (জুন) বা তার পরের মাসে (জুলাই)। যখন এটা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়বে। সেজন্য একটা সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দরকার।’

দেশে গত ৮ মা’র্চ প্রথম করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৬০৭ জনে। অদৃশ্য এই ভাই’রাসে মোট মা’রা গেছেন এক হাজার ৬২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মা’রা গেছেন ৩৯ জন।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মক’র্তা আলমগীর হোসেনের সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মক’র্তা ও বর্তমান উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেনও।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ইউরোপ-আ’মেরিকার মতো দ্রুত হচ্ছে না, তবে ব’ন্যার পানি যেমন ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে বাড়িঘর তলিয়ে যায় ঠিক তেমন পরিস্থিতি বর্তমানে বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে সেই অর্থে ‘পিক’ সময়টা বোঝা যাবে না। করো’নার সংক্রমণ রোধে ঘনবসতিপূর্ণ ও অধিক সংক্রমিত এলাকাকে লাল, হলুদ ও সবুজ— এ তিনটি জোনে ভাগ করে জোনভিত্তিক লকডাউন শুরু হয়েছে।

‘সত্যিকার অর্থে কার্যকর লকডাউন করা হলে দেশে করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ ও মৃ’ত্যুর হার রোধ করা সম্ভব হবে।’

‘বর্তমানে করো’না সংক্রমণ তুষের আ’গুনের মতো ঢিমেতা’লে জ্বলছে’ উল্লেখ করে মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সঠিক পদ্ধতিতে সংক্রমণ রোধ করা না গেলে যেকোনো সময় বি’স্ফোরণ ঘটে নির্দিষ্ট কোনো এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সংক্রমিত বা মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। তবে সেই অবস্থা যেন না হয় সেটাই সবার কাম্য।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।