প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

সারাদিন হাজতে, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ওসিকে ফোন দিয়ে আত্মহ’ত্যা

112
সারাদিন হাজতে, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ওসিকে ফোন দিয়ে আত্মহ'ত্যা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

স্যার, আমি আত্মহ’ত্যা করছি। আমা’র লা’শটা আপনি এসে নিয়ে যাবেন। থা’নার ওসিকে ফোনে এ কথাটি বলেই নিজ হাতে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বিদ্যুৎস্প’র্শে আত্মহ’ত্যা করেছেন পাপন সাহা নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পু’লিশ, মৃ’তের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকার মৃ’ত অশোক কুমা’র সাহার ছে’লে পাপন সাহা ২৪। তিনি গোয়ালন্দ বাজার রেলস্টেশন এলাকায় একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে স্টিলের ফার্নিচার তৈরি ও বিক্রির কাজ করতেন। কয়েক দিন আগে পাপন তার নিজ বাড়ির বসতঘরের চালা মেরামত করেন। মেরামতকালে ঘরের পেছন দিকে টিনের ছাউনির কিছু অংশ থা’না প্রাচীরের বাউন্ডারি ভেতরে চলে যায়। এই অ’প’রাধে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাপন সাহাকে আ’ট’ক করে গোয়ালন্দ ঘাট থা’না পু’লিশ।

তখন থেকে তাকে থা’না হাজতের ভেতরে আাট’কে রাখা হয়। সারাদিন সেখানে আ’ট’ক থাকার পর ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থা’নায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান পাপন। সেখান থেকে সরাসরি নিজ বাড়িতে গিয়ে গোসল করার পর মায়ের হাতে তিনি রাতের খাবার খান। পরে বাড়ি থেকে একা বের হয়ে নিজ দোকানে যান পাপন। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সেখান থেকে পাপন তার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ওসিকে কল করে বলেন, ‘স্যার, আমি আত্মহ’ত্যা করছি। আমা’র লা’শটা আপনি এসে নিয়ে যাবেন।’ এ কথা বলেই পাপন তার ডান হাতে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে নিজেই তাতে সংযোগ ঘটান। এ সময় বিদ্যুৎস্প’র্শে তিনি গুরুতর আ’হত হন।

এদিকে পাপনের ওই ফোনকল পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ওসি মো. আশিকুর রহমান এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গুরুতর আ’হত পাপনকে উ’দ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিদ্যুৎস্প’র্শে আ’হত পাপন সাহাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ পৌরসভা’র স্থানীয় কাউন্সিলর কোমল কুমা’র সাহা বলেন, বিদ্যুৎস্প’র্শে পাপন সাহার আত্মহ’ত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

গোয়ালন্দ ঘাট থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, বসতঘরের ছাউনি নির্মাণে অ’বৈধ উপায়ে থা’নার জায়গা দখল প্রচেষ্টার অ’প’রাধে পাপন সাহাকে আ’ট’ক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে থা’না থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে একমাত্র ছে’লেকে হারিয়ে পাপনের মা পুষ্প সাহা এখন পাগলপ্রায়। তিনি বলেন, থা’না থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে এসে আমা’র পাপন বারবার শুধু একই কথা বলছিল, পু’লিশ আমাকে ধরে নিয়ে সারাদিন হাজতে আ’ট’কে রেখেছিল। এখন সবার সামনে আমি মুখ দেখাব কেমনে? থা’না হাজতে আ’ট’কে রাখার অ’পমান সইতে না পেরে তার ছে’লে আত্মহ’ত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে তিনি অ’ভিযোগ করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 45
    Shares