প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

করোনায় আক্রান্ত গোপন করে নিয়মিত রোগী দেখেছেন তিনি!

25
করোনায় আক্রান্ত গোপন করে নিয়মিত রোগী দেখেছেন তিনি!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

করো’নাভাই’রাস পজিটিভ হওয়ার তথ্য গো’পন রেখে নিয়মিত প্রাইভেট হাসপাতা’লে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতা’লের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর আলম। এমনকি তিনি কয়েকটি অ’পারেশনও করেছেন বলে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং হাসপাতা’লের স্টাফরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ওই ক্লিনিকে নতুন করে রোগী ভর্তির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জে’লা স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত ৬ জুন করো’নায় আ’ক্রান্ত হওয়ার ৮-৯ দিন পর থেকেই তিনি তথ্য গো’পন করে শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লে নিয়মিত রোগী দেখেছেন। এছাড়া ২৩ জুন প্রথম ফলোআপ রিপোর্টেও কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে তার। এ সময় বাড়িতে কিংবা হাসপাতা’লে আইসোলেশনে থাকার কথা থাকলেও তা না করে প্রাইভেট একটি হাসপাতা’লে নিয়মিত রোগী দেখেছেন সরকারি হাসপাতা’লের এই চিকিৎসক।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরেও তাকে শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লের ২০২ নম্বর কক্ষে রোগী দেখা অবস্থায় পাওয়া যায়। করো’না পজিটিভ হলেও নিয়মিত এ হাসপাতা’লে রোগী দেখেছেন বলে অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে।

জে’লা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন নমুনা পরীক্ষার পর করো’নাভাই’রাস আ’ক্রান্ত বলে শনাক্ত হন নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতা’লের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জাহাঙ্গীর আলম। গত ২৩ জুন প্রথম ফলোআপ রিপোর্টেও কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে তার। নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার কথা ছিল জাহাঙ্গীর আলমের।কিন্তু তাকে পাওয়া গেছে শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লে রোগী দেখা অবস্থায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ৬ জুন করো’না শনাক্ত হয় তার। এ কয়দিন বাড়িতেই ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা সুস্থ হওয়াতে হাসপাতা’লে এসেছিলেন। তবে রোগী দেখতে নয় তার স্ত্রী’কে নিতে এসেছিলেন বলে দাবি তার। তার স্ত্রী’ও প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লের গাইনি চিকিৎসক বলে জানান তিনি।

প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে ফলোআপ পরীক্ষায় করো’না পজিটিভ আসার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ফলোআপ রিপোর্ট পজিটিভ আসার বিষয়টি আমি কিছুক্ষণ আগে জেনেছি। পজিটিভ এসেছে আবার নেগেটিভও আসবে। আরও একটা ফলোআপ পরীক্ষা তো আছে। আর আমি তো শারীরিকভাবে সুস্থই। আমি আজই কেবল আমা’র স্ত্রী’কে নিতে এসেছিলাম। আমি এখন বাসায় চলে যাচ্ছি।

এদিকে প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আহসানুল কবির বলেন, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাসপাতা’লে তিনি একটি ইনজেকশন নিতে এসেছিলেন। এ সময় একজন রোগী আসলে দূর থেকেই তার কাগজপত্র দেখেছেন। ফলোআপ পরীক্ষাও তার পজিটিভ এসেছে এ বিষয়টি তিনি জানতেন না বলে দাবি তার। গত কয়েকদিন যাবতই ডা. জাহাঙ্গীর আলম হাসপাতা’লে রোগী দেখার বিষয়টি অস্বীকার করেন হাসপাতা’লের এমডি।

অ’ভিযোগ রয়েছে করো’না পজিটিভ আসার পর তথ্য গো’পন করে শহরের আরও একটি স্বনামধন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেছেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। দুই-তিনদিন পর ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স’ম্পর্কে অবগত হলে তাকে হাসপাতা’লে আসতে নিষেধ করেন। তবে প্রাইম জেনারেল হাসপাতা’লে নিয়মিত রোগী দেখছিলেন তিনি। তথ্য গো’পন করে হাসপাতা’লে নিয়মিত রোগী দেখার মধ্য দিয়ে রোগী এবং হাসপাতা’লের স্টাফদেরও ঝুঁ’কির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন এ চিকিৎসক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতা’লের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেন, এটা কখনই কাম্য নয়। আমি বিষয়টি জানতাম না। আমি জানি তিনি বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।