প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাসা-বাড়ি থেকেই করোনা পরীক্ষা করানো যাবে ৫শ টাকায়!

24
বাসা-বাড়ি থেকেই করোনা পরীক্ষা করানো যাবে ৫শ টাকায়!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

করো’না সংক্রমনের স’ন্দেহ হলে বাসা বা বাড়ি থেকেই পরীক্ষা করানো যাবে- সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাটি দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে এভাবে নমুনা পরীক্ষা করাতে গেলে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও বুথে গিয়েও নমুনা পরীক্ষা করানো যাবে আগের মতো।

দুই ক্ষেত্রেই ফি দিতে হবে। এখন পর্যন্ত সরকার বিনা পয়সায় এই স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। কর্মক’র্তারা বলছেন, বিদেশ থেকে আম’দানি করা প্রতিটি কিটের দাম পড়ছে তিন হাজার টাকা। যদি বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে একটি পরীক্ষার পেছনে সরকারের মোট খরচ পড়ে যায় পাঁচ হাজার টাকার মতো। তাই ফি যেটা নেয়া হবে তাকে নামমাত্রই বলতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,সরকারি হাসপাতাল ও বুথে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ফি দিতে হবে ২০০ টাকা। আর বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করালে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে এই ফি নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহেই প্রজ্ঞাপন জারি

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কারো শরীরে করো’নাভাই’রাস আছে কি না, তা জানার জন্য আম’রা এখন যে নমুনা পরীক্ষা (আরটি-পিসিআর টেস্ট) করছি, তাতে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তবে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে আম’রা একটি ফি নির্ধারণ করেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যে ফি নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’

করো’না পরীক্ষার জন্য কেন ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মক’র্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দুই কারণে ফি নির্ধারণের পথে হাঁটছে সরকার।

একাধিক কর্মক’র্তা জানিয়েছেন, করো’নার কারণে সরকারের আয় কমে গেছে। একেকটি নমুনা পরীক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ হয়, বাংলাদেশের মতো দেশে এটি দুই থেকে তিন মাস বিনা মূল্যে করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়।

দেশে যে হারে করো’না সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। এ জন্য সরকার একটি ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এর অ’পব্যবহার হচ্ছে। অনেকের শরীরে করো’নার উপসর্গ না থাকলেও স’ন্দেহ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করাচ্ছে। স’ন্দেহ হলে পরীক্ষা নিরুৎসাহ করার জন্যও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

বিনা মূল্যে পরীক্ষার সুযোগে অ’পব্যবহার?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬৬টি ল্যাবে করো’না পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৮টি সরকারি, ১৮টি বেসরকারি। প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ সরকারি ল্যাবে হচ্ছে। দেশে করো’না সংক্রমণের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাত লাখ ১২ হাজার ৯৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করো’না পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ জন। অর্থাৎ মোট টেস্টের ১৮.৮১ শতাংশ পজিটিভ এসেছে।

এসব তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মক’র্তারা বলছেন, বিনা মূল্যে পরীক্ষা করার সুযোগ থাকায় এর অ’পব্যবহার হচ্ছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা হয়, তার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শরীরে ন্যূনতম উপসর্গ থাকে না। এতে প্রকৃত আ’ক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষা করতে বিলম্ব হচ্ছে। তাঁরা জানান, পরীক্ষার ফির এই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে চলে যাবে। সেই টাকা সরকার চাইলে স্বাস্থ্য খাতেই খরচ করতে পারবে।

‘টাকা নেওয়া কি সংবিধানসম্মত?’

তবে ফি নেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইস’লাম। তিনি বলেন, ‘অসম্ভব, হতেই পারে না। এখানে যদি টাকার বিষয়টা আসে, তাহলে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ পরীক্ষা করাতে আসবে না। বড়লোকেরা যাদের দরকার, তারা আসবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টা কি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে যায়?’ সূত্র : কালের কণ্ঠ

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares