প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

২০ মাস ধরে বাবরের খোঁজ নেয়নি পরিবার

178
২০ মাস ধরে বাবরের খোঁজ নেয়নি পরিবার

পড়া যাবে: 2 মিনিটে

এক যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর। কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে এক সময়ের প্রভাবশালী এই নেতার।

২০১৮ সালের নভেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত তার পরিবাবের সদস্য বা আইনজীবীরা কেউ কারাগারে দেখতে যাননি তাকে।

জানা গেছে, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে বেশ কয়েকটি জে’লা কারাগারে তাকে স্থা’নান্তর করা হয়েছিল। বর্তমানে তার ঠাঁই কেরাণীগঞ্জ কারাগারে।

নানা কারণে আ’লোচিত-সমালোচিত সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারাগারে থেকেই শোনেন তোলপাড় করা দুই মা’মলায় তার মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায়। এই রায়ের বি’রুদ্ধে উচ্চ আ’দালতে আপিল করলেও তাতে কোনো গতি নেই।

নানা রোগে আ’ক্রান্ত বাবর ১৩ বছর ধরে কারাগারে। এই সময়ে আরও বেশি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছেন। দেশে করো’নাভাই’রাসের প্রকোপ শুরুর আগে ঢাকার সিএমএম কোর্টে এক মা’মলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন বাবর। আ’দালতে ঢোকা এবং বের হওয়ার সময় উপস্থিত তার আইনজীবী ও কর্মীদের চোখ বিষয়টি ধ’রা পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাবরের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও ক’ষ্ট হচ্ছে তার। সিএমএম কোর্টে তাকে দেখে মনে হলো শারীরিকভাবে মোটেও ভালো নেই।’

কারাগারের সূত্র বলছে, দুটি আ’লোচিত মা’মলায় ফাঁ’সির রায় মা’থায় নিয়ে কারাগারে বাবর স্বাভাবিকই আছেন। কনডেম সেলে থাকছেন বলে আগের মতো তেমন দাপট নেই।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জে’লার মাহবুবুল ইস’লাম বলেন, ‘লুৎফুজ্জামান বাবর ভালো আছেন। মৃ’ত্যুদ’ণ্ড পাওয়া অন্য আ’সামির মতো তিনিও কনডেম সেলে আছেন।’

করো’নাভাই’রাসের সংক্রমণ রোধে গত এপ্রিলে সারা দেশের ৬৮ কারাগারে ব’ন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। গত ঈদের সময়ও এটি বন্ধ ছিল। তবে নতুন নিয়মে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ আছে। সেখানে ব’ন্দিরা কথা বলতে পারছেন পরিবারের সঙ্গে।

বিএনপির সরকারের সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর ২০০৭ সালে সে’না-সম’র্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রে’প্তার হন। গ্রে’প্তারের সাত বছর পর ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি আ’লোচিত দশ ট্রাক অ’স্ত্র মা’মলায় তার মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় হয়। এর চার বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হা’মলা মা’মলার রায়ে বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁ’সির রায় দেয় আ’দালত।

রায়ের দিনে আ’দালত চত্বরে উচ্চস্বরে এসবের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন বাবর।

বাবরের মা’মলাসহ সার্বিক বিষয় পরিবারের পক্ষ থেকে দেখভাল করেন শামসুল হক বকুল। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত নির্বাচনে নেত্রকোনায় বাবরের আসন থেকে তার স্ত্রী’ তাহমিনা জামান ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন। সে কারণে নির্বাচনের আগে কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাননি।

সাক্ষাৎ করতে পরিবারের কেউ যাননি, নাকি সাক্ষাতের সুযোগ পায়নি, তা পরিষ্কার করেননি শামসুল হক।

জানা গেছে, বাবরের স্ত্রী’ সন্তানদের নিয়ে গুলশানের বাসায় থাকেন। তার বড় ছে’লে আগে দেশের বাইরে থাকলেও এখন দেশে আছেন। তিনিই পরিবারের দেখভাল করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 328
    Shares