প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক কলকাতা

শ্রী জগন্নাথ দেবের বিখ্যাত রথ যাত্রার ৫৬ ভোগের বিবরণ

28
jagannaths
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আজবাংলা        পুরি ওড়িশার বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র | এই শহরের ইতিহাস ২০০০ বছরের পুরোনো | এখানকার মানুষদের জীবন যাবেন ও সংস্কৃতির মধ্যে পৌরাণিক ভাবনার গভীর প্রভাব ররেছে | এই শহরের প্রধান আকর্ষণ শ্রী জগন্নাথের মন্দির ও বিখ্যাত রথ যাত্রা এছাড়াও ছোট বড়ো অসংখ মন্দিরের পাশে দেখতে পাবেন পুরির অপরূপ সুন্দর সমুদ্র সৈকত |

পুরী তে যেকোনো সময় ভ্রমণের করতে যেতে পারেন কিন্তু পুরি ভ্রমণের শ্রেষ্ট সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস | কিন্তু আমরা পুরি সম্পর্কে অনেককিছু জানলেও পুরীর প্রধান আকর্ষণ শ্রী জগন্নাথের মন্দিরে প্রতিদিনের পরিবেশিত ৫৬ টি ভোগ সম্পর্কে অনেকেরই অজানা ,যে এই ৫৬টি ভোগ কখন কখন র কোন সময় আর কতবার পরিবেশিত হয় | শোনাযায় জগন্নাথ দেবের রান্না ঘর কে বিশ্বের সর্ববৃহৎ রন্ধনশালা বলা হয় |

তাই প্রথমে জেনে নেবো পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে মাদুল পঞ্জিকা অনুসারে যে পূজা বিধির নিয়ম-কনোম রয়েছে তাতে ভোগ প্রদানের সময় ও নিয়ম কানম গুলি কীকী | জগন্নাথ দেববের মন্দিরে জগন্নাথ ,বলরাম ,ও সুবোদরা দেবী কে মোট ৬ বার ভোগ নিবেদন করা হয় | সকাল ৭ -৮ টার মধ্যে প্রথম ভোগ দেওয়াহয় সকালের এই সময়ের ভোগকে বলা হয় ” গোপালবল্লভা ভোগ “  | এই সময় ৮ প্রকারের ভোগ দেওয়াহয় পদগুলি হলো – ঘন দুধ ,মাখন ,নারকেল নাড়ু ,নারকেল জল, মিষ্টি খই , মিষ্টি দই ,পাকাকলা ,সুগন্ধি ভাত |

আরও পড়ুন:  ত্রিপুরায় স্কুল ও কলেজে ফি অনেকটা মুকুব করলো রাজ্য সরকার

এরপ আবার সকাল ১০টা  নাগাদ ভোগ নিবেদন করাহয় জেক বলে  “সাকালা ধোপা “এই সময়ের ভোগকে রাজভোগ/কথাভোগ ও বলাহয়েগিয়ে থাকে | এই ভোগে মোট ২০ প্রকারের পদ নিবেদন করাহয় পদ গুলি হলো – পিঠে-পুলি, বাদকান্তি, এন্ডুরি(নারকেল দিয়ে তৈরী কেক ) , মাথা পুলি (পুলি-পিঠে) ,দাহি অম্ল, হামসা কেলি (মিষ্টি কেক) ,বড়া কান্তি , কাকাতুয়া ঝিলি ,আদা পঁচেদি , বোদে, টাটা খিচুড়ি , কানিকা, নুখুৱা খিচুড়ি ,সানা খিচুড়ি ,মেন্ধা মুন্ডিয়া (বিশেষ ধরণের কেক) ,আধা আনিকা ,তাইলে খিচুড়ি ,সাগু ,দালা খুচুরি  |

এরপর আবার ১১টার সময় আবার জগন্নাথ দেব কে ভগ্নিবেদন করাহয় ” ভোগা মধ্যাহ্ন ভোগা“  এই ভোগটি পূর্ব নির্ধারিত করা থাকে অর্থাৎ আমরা সবাই যে ভোগের ডালা জগন্নাথ দেব কে দি বা উৎসর্গ করি ইটা সেই ডালা|

 আবার দুপুর ১২টা থেকে ১ টার মধ্যে জগন্নাথ দেবকে ভোগ নিবেদন করা হয় এই ভোগকে  বলাহয়  “মধ্যাহ্ন ভোগা”   এই ভোগের মধ্যে ৪০টি পদ থাকে বড়ো পিঠে ,দমলা ( সবজি ভাত ), মাথা পুলি , বারা , কাকারা , গোটাই ,সরমনোহর , বড়ো খির ছোলা, বড়ো আরিশা,পানা  , ছানা আরিশা , পদ্দ পিঠে  ,কাদামৰা (এক বিশেষ মিস্টি ), বিরি পিঠে , মির্চপানি ,সানা কাদম্বরী ,সুগন্ধি পোলাউ ,সানা পেস্তা, সাকারা (সুগার ক্যান্ডি) ,ভাগ পিঠে ,পান , কাদম্বরী হরি , সুজির খির ,মহূর (লাবরা),চোরাই নাডা মিস্টি,বারা (দুধ দিয়ে তৈরী মিস্টি ) , থালা অন্ন , শাকভাজা , খিড়ি (দুধ ভাত) , করোলা ভাজা , জানাদা তাডা, সানা আরিশা,মির্চিলাড্ডু ,সানা খিরাছুলা,থালিপাকা থাউলা,মনোহরা মিস্টি,ছোট পিঠে,বড়ো কাকারা,আরিশা(ভাত দিয়ে তৈরী মিস্টি ) ও ত্রিপুরি  |

আরও পড়ুন:  মাসিক রাশিফলে দেখে নিন কেমন যাবে আপনার জুলাই মাস

এরপর জগন্নাথ দেবর বিশ্রামের সময় | এরপর জগন্নাথ দেবর সন্ধ্যা আরতির পর ভোগ নিবেদন করাহয় এই ভোগকে বলে সন্ধিয়া ধোপা এই সময় ৯টা পদদের ভোগ দেওয়া হয় | সন্ধ্যায় যে পদগুই নিবেদন করাহয় সেগুলি হলো – ত্রিপুলা পোলাও , আমাশলু (মিস্টি লুচি ), সানা অলি পোলাউ ,কানার পুলি ,পাখাল (পান্তা ভাত ), সানাও আমল  ,পানি পোলাউ ,সাকার ,মাঠ পোলাও |

এরপর জগন্নাথ দেবকে ১১টার সময় ভোগ নিবেদন করা হয় এই সময় যে পদগুলি থাকে সরপিঠা  ,সীতাভোগ ,সেরাগুলি পিঠা ,কানজি (চাল দিয়ে বিশেষ মিস্টি) ,কাঁদালি বারা  ,পায়েস, লুনি খুরুমা (নোনতা বিস্কুট) | এই হলো গগনাথ দেবের ৫৬ টি ভোগ এর মধ্যে কিছু নাম অন্যরকম কারণ এগুলি প্রাচীন উড়িয়া ভাষায় নামকরণ | কিন্তু অনেকসময় গুনলে ৫৬ টার বেশিও পদ পাওয়াযায় যেমন ৮০টা  বা ১০৮টা বা তার বেশি হয়েযায়  |

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 2
    Shares