প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ

চীনে নতুন ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত, রয়েছে মহামারির শঙ্কা: বিবিসি

55
চীনে নতুন ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত, রয়েছে মহামারির শঙ্কা: বিবিসি

পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মহামা’রি আকারে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রয়েছে চীনে ফ্লু ভাই’রাসের এমন একটি নতুন স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। খুব সম্প্রতি এর উৎপত্তি হয়েছে এবং এর বাহক প্রা’ণী হচ্ছে শূকর। এটি মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে বলে ওই বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।

গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন যে, এই ফ্লু ভাই’রাসটি ক্রমশই রূপান্তরিত হয়ে সহ’জেই এক ব্যক্তি থেকে অ’পর ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এটিরও করো’নার মতো একটি বৈশ্বিক মহামা’রির রুপ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, ‌‘মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মতো সব ধরনের চিহ্ন ভাই’রাসটির মধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। কেননা নতুন ফ্লু স্ট্রেইন হওয়ায় এর বি’রুদ্ধে মানুষের খুব সামান্য কিংবা একেবারে কোনো ধরনের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।’

আরও পড়ুন:  ধর্ষক ছেলেকে নিয়ে থানায় হাজির বাবা

বিশ্বে এখন চীন থেকেই প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়া নভেল করো’নাভাই’রাসের মহামা’রি চলছে। ভাই’রাসটি এক কোটিরও বেশি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়েছে; কেড়ে নিয়েছে ৫ লাখ মানুষের প্রা’ণ। এই সময়েও বিশেষজ্ঞরা যে শীর্ষ রোগের ঝুঁ’কির ওপর নজর রাখছেন তার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি ক্ষতিকর নতুন স্ট্রেইন রয়েছে।

সবশেষ ২০০৯ সালে বিশ্ব ফ্লু মহামা’রির কবলে পড়েছিল। সোয়াইন ফ্লু নামে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল মেক্সিকোতে। অবশ্য প্রাথমিক শ’ঙ্কার চেয়ে তুলনামূলক এটি ছিল কম মা’রাত্মক। এর বি’রুদ্ধে বয়স্ক ব্যক্তিদের কিছুটা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছিল; সম্ভবত আগের ফ্লু ভাই’রাসের সঙ্গে মিল থাকায় এমনটা হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা চীনে ফ্লুর যে নতুন স্ট্রেইনটি শনাক্ত করেছেন তা ২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লু ভাই’রাসের মতো হলেও এর মধ্যে নতুন কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শ’ঙ্কা’টা বেশি এ কারণেই। বিষয়টি নিয়ে গবেষণারত অধ্যাপক কিন-চো চ্যাং বলেন, এখন পর্যন্ত এটা মা’রাত্মক ঝুঁ’কি তৈরি করেনি তবে এর ওপর নজর রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:  করোনাময় বিশ্বে আরও একটি দুঃসংবাদ

গবেষকরা ফ্লুর নতুন এই ভাই’রাসটিকে জি৪ইএএইচ১এন১ নাম দিয়েছেন। ভাই’রাসটি কোষের মধ্যে বৃদ্ধি ও বহুগুণে বাড়তে পারে; যা মানুষের বায়ুগ্রহণের পথগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সম্প্রতি এমন ব্যক্তির মধ্যে এর সংক্রমণের প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন যারা চীনের কসাইখানা কিংবা শূকর প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সঙ্গে জ’ড়িত।

বর্তমানে ফ্লুর যে ভ্যাকসিন/টিকা রয়েছে তা এই ভাই’রাসটির সংক্রমণ রোধ করতে পারছে না। যু’ক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিন চো চ্যাং বিবিসিকে বলেন, ‘এই মুহুর্তে আম’রা করো’না নিয়ে বিপর্যস্ত। তবে আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য বিপজ্জনক নতুন ভাই’রাসগুলোর প্রতি দৃষ্টি হারাতে দেওয়া ঠিক হবে না।’

যদিও তিনি বলছেন, ‘নতুন এই ভাই’রাস হয়তো শিগগিরই আমাদের জন্য তেমন বিপজ্জনক সমস্যা হয়ে উঠবে না, তবুও আমাদের এটাকে অবহেলা করা উচিত নয়।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 27
    Shares