প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

করোনায় দেশে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই যা করতে হবে

25
করোনায় দেশে মৃত্যুর মিছিল থামাতে এখনই যা করতে হবে
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

বাংলাদেশে আজ করো’নায় একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মা’রা গেছে। এতদিন ধরে বাংলাদেশে চল্লিশের আশেপাশে ছিল, মাত্র একদিন পঞ্চাশ ছাড়িয়েছিল মৃ’ত্যুর সংখ্যা। আজ একলাফে তা ৬৪ জন-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছে আরো কিছু মানুষ। যারা উপসর্গ নিয়ে মা’রা গেছেন তাঁরা করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছে কিনা নিশ্চিত নয়।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যে হিসেব সেই হিসেব বেড়েছে লাফিয়ে। এক লাফে মৃ’ত্যুর সংখ্যা ৪৩ জন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ জনে। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ২১ জন বেশি মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা যে ভবিষ্যৎবানী করেছিলেন সেটাই সত্য হতে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এর আগে বাংলা ইনসাইডার কে বলেছিলেন যে, আ’ক্রান্ত বাড়তে থাকলে মৃ’ত্যুর সংখ্যা বাড়বে। অন্যান্য বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকরাও একই কথা বলেছিলেন।

কারণ করো’নায় ৮০ ভাগ লোকই নূন্যতম চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে। ১০ ভাগ রোগীকে হাসপাতা’লে নিতে হয় এবং অন্তত ৫ ভাগ রোগীদের আইসিইউ এবং অন্যান্য সাপোর্টের দরকার হয়। কিন্তু যখনই রোগীর সংখ্যা বাড়বে, তখন বাংলাদেশে যে পরিমাণ আইসিইউ এবং অক্সিজেন সাপোর্টের পরিমাণ আছে তা অ’প্রতুল হওয়ায় কারণে মৃ’ত্যুর হার বাড়বে। এখন বাংলাদেশ সেই মৃ’ত্যুর মিছিলের অ’পেক্ষা করছে কিনা তা নিয়েও উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

এখন মৃ’ত্যুর মিছিল ঠেকানোর জন্য আমাদের সামনে শেষ সুযোগটি রয়েছে এবং এখনই আমাদের জরুরী ভিত্তিতে কিছু কাজ করতে হবে। যে কাজগুলো করলে মৃ’ত্যুর মিছিল ঠেকাতে পারবো। এই কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে-

সংক্রমিত এলাকা দ্রুত লকডাউন করা

১৫ জুন জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা শহর এবং বাংলাদেশকে সংক্রমণের ভিত্তিতে তিনটি জোনে ভাগ করবে। রেড জোন, ইয়েলো জোন এবং গ্রিন জোন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছু এলাকায় নামকাওয়াস্তে লকডাউন ছাড়া কার্যকর কোন লকডাউন করা হয়নি। অথচ দেশে যে সংক্রমণ হয়েছে তাঁর ৪০ ভাগের বেশি শুধু ঢাকা মহানগরীতে।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, ঢাকা মহানগরীকে অন্তত ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করা দরকার। যদিও এখন পর্যন্ত এই ধরণের কোন চিন্তাভাবনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেই বলেই মনে হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অ’তি সংক্রমিত এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করতেও ব্যর্থ হচ্ছে। আর এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, দ্রুত সংক্রমিত এলাকাগুলোকে লকডাউন করতে হবে এবং ভালো হয় যদি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে যেমন ঢাকা মহানগরী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ইত্যাদি এলাকাগুলোকে লকডাউন করা সম্ভব হয়। এখন স্পষ্ট যে, সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের কোন বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্যবিধি মানার উপর কঠোরতা আরোপ

এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সরকার জনগণকে বিভিন্নভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছে। তবে মানুষ সরকারের এসব সচেতনতা থোরাই কেয়ার করছে। অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সামাজিক বিধি মেনে চলার উপরে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হবে। যেমন সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা, মাস্ক পরা ইত্যাদি বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করা অ’ত্যন্ত জরুরী। বিশেষ করে বাজার-হাটসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে যেন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয় সে ব্যাপারে জো’র দিতে বলেছেন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করা

বাংলাদেশে করো’নায় গুরুতর আ’ক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের নেই এটা আম’রা সবাই জানি। যেটুকু ব্যবস্থা রয়েছে সেটুকু যেন সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় এবং যারা আ’ক্রান্ত তাঁদের জন্য যেন হাইফ্লো অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা যায় এবং আইসিইউ যাঁদের দরকার তাঁদের জন্য যেন আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করা যায় সেই ব্যবস্থাপনাটা দ্রুত করতে হবে। বিশেষ করে এখনো যেসব হাসপাতাল করো’না চিকিৎসায় যু’ক্ত হয়নি সেসব হাসপাতালকে দ্রুত করো’না চিকিৎসায় যু’ক্ত করা জরুরী বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিশ্চিত করা

সবথেকে বড় সঙ্কট দেখা যাচ্ছে ঢাকার বাইরে। যারা মা’রা যাচ্ছে তাঁদের একটি বড় অংশই বাড়িতে বসে মা’রা যাচ্ছে এবং হিসেব করলে দেখা যায় এসব মৃ’ত্যুর অধিকাংশই ঢাকার বাইরে। অর্থাৎ তাঁরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না বা ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নেই। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার এবং বিভিন্ন জে’লায় আইসিইউ ইউনিট করা দরকার।

প্রবীণদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করা দরকার

এখন ষাটোর্ধ্ব কারও ঘরের বাইরে যাওয়া কোনভাবেই উচিত নয়। তাঁদের বাইরে যাওয়া বন্ধ করা দরকার। এজন্য সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককের দায়িত্ব রয়েছে। কারণ করো’নায় মৃ’ত্যুর হার বাংলাদেশের পঞ্চাশোর্ধ্ব নাগরিকদের মাঝেই সবথেকে বেশি। একারণে যারা প্রবীণ তাঁরা যেন ঘরে থাকে এবং কোনভাবেই করো’না আ’ক্রান্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এই ব্যবস্থাগুলো করলে আম’রা মৃ’ত্যুর প্রকোপ কিছুটা হলেও কমাতে পারবো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 3
    Shares