প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

কাজের মেয়ে আসমার শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দিতেন শিল্পপতি

47
কাজের মেয়ে আসমার শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দিতেন শিল্পপতি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজে’লার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে চার সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ই’মান আলী ও জোসনা দম্পতি। ছয় সদস্যের পরিবার চালাতে ই’মান আলীকে হিমশিম খেতে হয়।

সংসারে অভাব থাকায় সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারায় তিন ছে’লে জসিম, আসিম উদ্দিন ও নাজিম উদ্দিনকে দিনমজুরের কাজে লাগান ই’মান আলী।

১৪ বছরের একমাত্র মে’য়ে আসমা আক্তারকে বছর খানেক আগে স্থানীয় ফারসিং নিট কম্পোজিট কারখানার মালিকের উত্তরার বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। বছর খানেক কাজ করার জন্য গায়ে অসংখ্য আ’ঘাতের চিহ্ন নিয়ে অবশেষে সোমবার (২৯ জুন) বাড়িতে ফেরে আসমা।

আসমা’র পরিবার জানায়, উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ৭/বি রোডের ৩১ নম্বর বাসায় কাজ করতো আসমা। ওই বাসার মালিক ফারসিং নিট কম্পোজিট কারখানার মালিক আবু তাহের। আসমাকে প্রতি মাসে আট হাজার টাকা বেতন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে নেন আবু তাহের-শাহ’জাদী দম্পতি। কিন্তু প্রতি মাসে আসমাকে দেয়া হতো পাঁচ হাজার টাকা। কথা দিয়েছিলেন আসমাকে নিজের মে’য়ের মতো করে রাখবেন। উল্টো আসমাকে শারীরিক ও মানসিক আ’ঘাতে ক্ষতবিক্ষত করেছেন তাহের-শাহ’জাদী দম্পতি।

আসমা’র ভাষ্য, প্রথম থেকে আমাকে দিনরাত একনাগাড়ে কাজ করতে হতো। ঘুমানোর সময় দিতো না। কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়লে নি’র্যাতন করতো। কখনও দিনে এক ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য সময় দিত না। বাড়ির মালিক আবু তাহের মাঝেমধ্যে কিল ঘুষি মা’রতেন। কয়েকবার সিগারেটের ছেঁকা দিয়েছেন তিনি। মালিকের স্ত্রী’ শাহ’জাদীও শরীরে গরম তেলের ছিটা দিতেন। তারপর দ’গ্ধ শরীরে ম’রিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতেন। এভাবে দীর্ঘ চার মাস ধরে আমা’র ওপর চলে তাদের নি’র্যাতন। মাঝেমধ্যে নি’র্যাতনে অ’জ্ঞান হয়ে যেতাম। নি’র্যাতনে অ’সুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়ির মালিক আবু তাহের গাড়িচালকের মাধ্যমে আমা’র হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে সোমবার বাড়ি পৌঁছে দেয়।

আসমা’র মা জোসনা বলেন, সংসারে অভাব থাকায় সন্তানদের মুখে দু’মুঠো ভাত দিতে পারতাম না। লেখাপড়া করাতে পারিনি। এ অবস্থায় ফারসিং নিট কম্পোজিট কারখানার মহাব্যবস্থাপক বাবুল, ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম, ব্যবস্থাপক আনোয়ার ও নিরাপত্তাকর্মী হেলালের মাধ্যমে কারখানার মালিক আবু তাহেরের বাসায় আসমাকে গৃহকর্মীর কাজে দিয়েছিলাম। আশা ছিল অন্তত খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে মে’য়ে। কিন্তু এখন আমা’র মে’য়েকে নি’র্যাতন করে শেষ করে দিয়েছে তারা। গত এক বছর আসমাকে একবারের জন্যও দেখতে দেয়নি আবু তাহের। এমনকি মুঠোফোনেও বাড়িতে যোগাযোগ করতে দেয়নি ওই শিল্পপতি পরিবার।

তিনি বলেন, আমা’র মে’য়ে বাড়ির আসার পর আবু তাহেরের স্ত্রী’ শাহ’জাদী ফোন করে বলেছেন এসব বেশি বাড়াবাড়ি করিও না। ভালো হবে না। ঢাকা থেকে মাস্তান পাঠিয়ে আসমাকে হ’ত্যা করা হবে। তার হু’মকিতে আম’রা এখন আতঙ্কে আছি। তাই মে’য়েকে এক স্বজনের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছি। মে’য়েকে নি’র্যাতনের বিচার চাই আমি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থা’না পু’লিশের পরিদর্শক (ত’দন্ত) মনিরুজ্জামান খান বলেন, কি’শোরীকে সঙ্গে নিয়ে তার পরিবারের লোকজন থা’নায় অ’ভিযোগ করতে এসেছিল। তবে ঘটনাস্থল রাজধানীর উত্তরা হওয়ায় ওই পরিবারকে উত্তরার থা’নায় অ’ভিযোগের পরাম’র্শ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে শিল্পপতি আবু তাহের ও শাহ’জাদী আমিরির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। স্বামী-স্ত্রী’ দুজনের কেউই ফোন রিসিভ করেননি। কারখানার দায়িত্বরত কর্মক’র্তাদের এ বিষয়ে মতামত জানতে ফারসিং নিট কম্পোজিট কারখানার প্রধান ফট’কে গেলেও কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 9
    Shares