প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বাবুনগরীকে জামায়াতের ‘এজেন্ট’ বললেন আল্লামা শফীর ছেলে

37
বাবুনগরীকে জামায়াতের ‘এজেন্ট’ বললেন আল্লামা শফীর ছেলে
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

দেশের আ’লোচিত সংগঠন হেফাজতে ইস’লামকে নিয়ে বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা নিয়ে সংগঠনটির আমির শাহ আহম’দ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রকাশ্য বিরোধ নতুন করে উস্কে দিলেন শফীপুত্র আনাস মাদানীর ফাঁ’স হওয়া একটি ফোনালাপ।

যেখানে আনাস মাদানী হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জোনায়েদ বাবুনগরীর বি’রুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অ’ভিযোগ এনেছেন। এছাড়াও ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে র’ক্তক্ষয়ী ঘটনার পেছনে বাবুনগরীর জামায়াত সংশ্লিষ্টতাকে দায়ী করেছেন তিনি।

অ’জ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে শাহ আহম’দ শফীর ছে’লে আনাস মাদানীর সেই ফোনালাপ পাঠকের জন্য হুবুহু তুলে ধ’রা হলো-

অ’জ্ঞাত ব্যক্তি : আনাস মাদানী সাহেব আম’রাতো আপনার ভক্ত। এখন যে আপনার বি’রুদ্ধে নানা ধরনের সমালোচনা শুনতেছি, এগুলো একটু এজাহাত (ব্যাখ্যা) করলে ভালো হয়।

আনাস মাদানী : এজাহাত ভাই কয়টা করব? আমা’র তো আব্বাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, আব্বা অ’সুস্থ। সবগুলো যদি এজাহাত করতে যাই, তাহলে তো আমাকে আর কাজ করতে হবে না।

এ সময় ওই ব্যক্তি অনুরোধ করেন, যেন আনাস মাদানী একবার লাইভে এসে সব বিষয় পরিষ্কার করেন।

জবাবে আনাস মাদানী বলেন : ঠিক আছে, আমি একবার আসলাম। এর পরদিন তারা আসবে, আমাকে এর পরদিন আবারও আসতে হবে। এভাবে তো সিলসিলা জারি হয়ে যাবে। জাহেলদের জবাব দিব কী’ জন্য? আমি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেছি।

অ’জ্ঞাত ব্যক্তি : এখনতো পুরা বাংলাদেশ, পরো কওমি অঙ্গন এ বিষয়গুলো নিয়ে আপনার সমালোচনা করতেছেন। প্লিজ আম’রা কাদেরকে এখন আকাবির (পথ প্রদর্শক) বলব? কাদেরকে এখন অনুসরণ করব?

জবাবে আনাস মাদানী বলেন : আপনাদের আকাবির যারা ছিল তারা এখনও বহাল আছে। তাদেরকে মানতে পারবেন, এদের মধ্যে এখনও কোনো ঘাপলা আসে নাই।

অ’জ্ঞাত ব্যক্তি : মানুষ আমাদেরকে হাসির পাত্র বানাইতেছে, প্লিজ আমাদের রক্ষা করেন।

এ সময় কিছুটা উত্তেজিতভাবে আনাস মাদানী বলেন : এসব আম’রা করতেছি না, বাবুনগরী করতেছে। বাবুনগরী জামায়াতের সঙ্গে কাজ করতেছে। ওনার সঙ্গে আপনারা মত বিনিময় করেন।

অ’জ্ঞাত ব্যক্তি : বাবুনগরী সাহেবকে পুরো বাংলাদেশে আম’রা যা দেখলাম, উনিতো সব সময় বাতিলের বি’রুদ্ধে কথা বলেন।

জবাবে আনাস মাদানী বলেন : হ্যাঁ, সব সময় বাতিলের বি’রুদ্ধে কথা বলেন। সব সময় জামায়াতের সঙ্গে মিলে কাজ করেন। শাপলা চত্বরে জামায়াতের সঙ্গে মিলে মাইরটা খাওয়াইছে। ডকুমেন্ট আছে তো।

এ সময় অ’জ্ঞাত ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায় , ডকুমেন্ট থাকলে পেশ করেন, তাহলে আম’রা বাবুনগরী বয়কট করব।

জবাবে আনাস মাদানী বলেন : ঠিক আছে, সময় আসলে পেশ করব।

এদিকে এই ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে। এদের কেউ কেউ হেফাজত মহাসচিবকে নিয়ে শফীপুত্রের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বাবুনগরীর বিপক্ষেও বলছেন অনেকে।

এদিকে বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইস’লামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তার বি’রুদ্ধে আনা জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অ’ভিযোগ অস্বীকার করে আনাস মাদানীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আমা’র বিন্দুমাত্রও স’ম্পর্ক নেই। অ’তীত-বর্তমানে কোনো সময়ই জামায়াতের সঙ্গে আমা’র স’ম্পর্ক ছিল না; বরং পুরো জীবন আমা’র লেখালেখিতে ও লাখ লাখ মানুষের বিশাল সমাবেশে বয়ান-বক্তৃতার মধ্যে জামায়াতের ভ্রান্ত আকিদা স’ম্পর্কে আমি দেশবাসীকে সচেতন করে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আমা’র স’ম্পর্কে সে যা বলেছে, সেটা তার পরিক’ল্পিত মিথ্যাচার। তার এহেন মিথ্যাচার আমাকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি। এগুলো আমা’র মানহানি করার অ’পচেষ্টা।’

বাবুনগরী বলেন, ‘কিছুদিন থেকে আমি লক্ষ্য করছি যে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি মহলের ইন্ধনে আমা’র বি’রুদ্ধে মিথ্যা এবং সাজানো কথা রটিয়ে, উস্কানিমূলকভাবে সরকার এবং প্রশাসনকে বি’ভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চক্রান্ত করে যাচ্ছে। এসবের নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর ভাষা আমা’র নেই।’

তিনি বলেন, ‘মা’ওলানা আনাস মাদানী ফোনালাপে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ম’র্মা’ন্তিক ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভা’র আমা’র ওপর চাপিয়ে দেয়ার অ’পচেষ্টা করেছেন। সে শাপলা চত্বরের ম’র্মা’ন্তিক ঘটনা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলতে পারবে, তা আমি আশা করিনি। অথচ জে’লে গেলাম আমি, র’ক্ত দিলাম আমি। রি’মান্ডে অমানুষিক নি’র্যাতন ভোগ করলাম আমি। সেই রাতে হেফাজতের সমাবেশে কী’ হয়েছিল তা জাতি জানে, কিন্তু মা’মলার আ’সামি হলাম আমি।

প্রসঙ্গত, হেফাজতে ইস’লামের আমির আল্লামা শাহ আহম্ম’দ শফীর সঙ্গে মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর দ্বন্দ্ব এখন চরমে। এরই জেরে সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইস’লাম মাদরাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে সরিয়ে এ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মা’ওলানা শেখ আহম’দকে। মূলত এর মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইস’লামের আমির হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে সংগঠনটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এলো হেফাজতের ভাঙনও।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।