প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

বেঁচে ফেরাটাও যেন অপরাধ হয়ে গেছে সুমন বেপারীর!

74
বেঁচে ফেরাটাও যেন অপরাধ হয়ে গেছে সুমন বেপারীর!
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উ’দ্ধার সুমন বেপারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানান কথায় বিপাকে পড়েছে তার পরিবার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যেন বেঁচে ফেরাটাই মধ্যবয়সী এই ব্যক্তির মহাঅ’প’রাধ।

পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বুড়িগঙ্গার পাড়ে দিনভর অ’পেক্ষার পরও যখন সুমনকে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন তারা একরকম লা’শের অ’পেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সৃষ্টিক’র্তা দয়ায় তাকে জীবিত ফেরত পেয়েছেন তাদের আনন্দের সীমা-পরিসীমা নেই। তবে তার বেঁচে ফেরা নিয়ে নানান সমালোচনায় তারা মানসিকভাবে ক’ষ্টে আছেন।

সোমবার রাতে জীবিত উ’দ্ধারের পর রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাতেই মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির গ্রামে ফিরে যান সুমন বেপারী। তাকে ফিরে পেয়ে বৃদ্ধ মাসহ পরিবারের অন্যদের মাঝে যখন খুশির জোয়ার বইছে।

বুধাবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এ নিয়ে অ’ভিযোগ করেন সুমন বেপারীর ভাই শাহ’জাহান বেপারী। তিনি বলেন, ‘লঞ্চ দুর্ঘ’টনায় আমা’র ভাই আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে ফিরেছে। আমাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।’

‘তবে ভাইয়ের এই বেঁচে ফেরা নিয়ে অনেকে নানা সমালোচনা করছে। আমাদের পরিবারকে নিয়েও নানা বাজে মন্তব্য করছে। তাহেলে কি আমা’র ভাই সুমনের বেঁচে ফেরাটা অন্যায় হয়েছে? বেঁচে ফেরাটা কি তার অ’প’রাধ হয়েছে?’

বুড়িগঙ্গায় সোমবার ময়ূর লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ম’র্নিংবার্ড লঞ্চটি থেকে ৩৩ জনের ম’রহেদ উ’দ্ধার করা হয়ে। এদের মধ্যে নারী-শি’শু ও পুরুষ ছিলেন। দুর্ঘ’টনার খবর শুনে সুমন বেপারির স্বজনরা সদরঘাটে ছুটে আসেন।

তবে উ’দ্ধার হওয়া ব্যক্তি এবং ম’রদেহগুলোর মধ্যে তাকে খুঁজে কোথাও না পেয়ে তারা সুমনকে জীবিত পাওয়ার আশাও ছেড়ে দেন। কিন্তু রাতে হঠাৎ করে তিনি জীবিত উ’দ্ধার হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সুমনের ভাই বলেন, লঞ্চডুবির খবর পেয়ে সোমবারই আমা’র ঘটনাস্থলে চলে যাই। সারাদিন খুঁজেও সুমনের সন্ধান পাইনি। আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এদিন আমাদের এলাকার আরো তিনজনের লা’শ উ’দ্ধার হয়। ভেবেছিলাম ভাইয়ের লা’শটি কবর দেওয়ারও হয়ত সুযোগ হবে না।

‘কিন্তু সব আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি বাঁচিয়েছেন। বিষয়টি অন্যভাবে দেখার কি আছে বুঝলাম না! যে যাই বলুক আমা’র ভাইকে ফিরে পেয়েছি। সবার কাছে দোয়া চাই।’

সুমনের পরিবারের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিস কর্মকতারা জানিয়েছেন লঞ্চটি উল্টে যাওয়ায় লঞ্চের এয়ারপকে’টে থাকা বাতাসে সুমন বেঁচে থাকতে অবশ্যই পারে। বাল্কহেড ডুবির পর ৩০ ঘন্টা পর নদী থেকে জীবিত উ’দ্ধার করার নজিরও রয়েছে। সুমনের বেলায়ও এমনটি হতে পারে।

তারপরও কেন এমন সমালোচনা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুমনের উ’দ্ধার হওয়া নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য মনোক্ষুন্ন হচ্ছে সুমন বেপারীর পরিবারের সদস্যরা। সুমনের মা আ’মেনা বেগমও ছে’লেকে নিয়ে সমালোচনায় ক্ষুদ্ধ। তবে তার স্বস্তি আদরের ধনকে কাছে ফিরে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সকালে খবর পাইলাম লঞ্চ ডুইবা গেছে। সারাদিন কানলাম-কাটলাম। মনে করছি আমা’র পোলা মই’রাই গেছে। রাইতে খবর পাইলাম সুমনরে টিভিতে দেখাইতাছে। আমা’র পোলা আল্লাহ ফিরাই দিছে, সব আল্লাহ ইচ্ছা।’

সমালোচনার বিষয়ে সুমন বেপারী বলেন, ‘আমি এসব জানি না। হাসপাতা’লেও অনেক প্রশ্ন করেছে। সাংবাদিক ভাইদের বারবার আমি সবকিছু বলেছি। যে যা বলুক আল্লাহর ইচ্ছায় আমি আমা’র মাকে, আমা’র পরিবারের সবাইকে দেখতে পেয়েছি এতেই আলহাম’দুলিল্লাহ।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।