প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক-শ্রমিকরা

18
পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক-শ্রমিকরা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে স্বস্তিতে মালিক ও শ্রমিকরা। যেখানে প্রতিদিন গুনতে হতো হাজার টাকার চাঁদা তা এখন দিতে হচ্ছে না তাদের।

এমনকি যেসকল চাঁদাবাজরা চাঁদা তুলতো তাদেরও দেখাও যাচ্ছে না রাস্তায়। কথাগুলো বলছিলেন, গাজিপুরের চান্দুরা থেকে যাত্রাবাড়ী সাইন বোর্ড রুটের ড্রাইভা’র খালেক হাওলাদার।

তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন এ রুটে গাড়ি চালাতে হলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সমিতির নামে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হতো। সব মিলে প্রতিদিন ১১শ’ টাকা দিতে হতো। টাকা না দিলে গাড়ি রাস্তার পাশে সাইড করে রাখতো। এমনকি টাকা না দিলে মা’রধরও করতো। পু’লিশের অ’ভিযানের পর থেকে এখন তাদের দেখা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাস মালিক বলেন, এবার করো’নার কারণে হয়ত কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কী’ হবে তা নিশ্চিত নয় তারা।

রাজধানীতে হঠাৎ করেই থেমে গেছে সড়কের চিরচেনা চাঁদা আদায়ের দৃশ্য। সাইনবোর্ড থেকে সাভা’র পর্যন্ত অন্তত ১০-১৫ স্থানে বেশ কয়েকটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক ও পিকআপ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদায় আদায় করা হতো। বর্তমানে তা কোথাও কোনো সড়কের মোড়ে চাঁদা আদায়ের দৃশ্য চোখে পড়েনি। হঠাৎ করে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা রয়েছেন বেশ স্বস্তিতে।

হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করা হতো। অ’ভিযোগ রয়েছে, চাঁদার টাকা দিতে দেরি কিংবা অস্বীকৃতি জানালেই চালক কিংবা হেলপারকে মা’রধর করা হতো। প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই চাঁদা আদায়ের জন্য ২০০-৩০০ যুবক রাতদিন হাতে লা’ঠি নিয়ে সড়কে অবস্থান নিতেন।

এদিকে পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পু’লিশ। সম্প্রতি করা কয়েকটি মা’মলায় সাভা’রে ২৬ চাঁদাবাজকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় ঢাকা জে’লার সাভা’র, আশুলিয়া ও ধাম’রাইসহ বিভিন্ন থা’নায় এক ডজন মা’মলা দায়ের করে পু’লিশ। এ পর্যন্ত এসব মা’মলায় ২৬ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে বলে পু’লিশ জানায়।

গোয়েন্দা পু’লিশ জানায়, সম্প্রতি পরিবহনে চাঁদাবাজি নিয়ে নির্দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে নিয়মিত অ’ভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অ’পরদিকে গতমাসে পরিবহনে সেক্টরে চাঁদাবাজির অ’ভিযোগে অন্তত ১২০ জনকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ। এর আগে চাঁদাবাজির বি’রুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন পু’লিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের তিন সংগঠন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এবং বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে গত ৯ জুন মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ এবং মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, সমিতি ও ইউনিয়নের নামে কোথাও চাঁদা তোলা যাবে না। কেউ এ নির্দেশ অমান্য করলে তার বি’রুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সমিতি ও ইউনিয়নের সদস্যদের সাংগঠনিক চাঁদা আদায় করা যাবে। তবে তা সংশ্লিষ্ট সমিতি ও ইউনিয়নের অফিসে জমা করবেন। এছাড়া পথে কোনো গাড়ি থেকে চাঁদা তোলা যাবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। সারা দেশে সমিতি ও ইউনিয়নগুলোর কাছে এ সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশন পাঠানো হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।