প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

নামাজে প্রথম কাতারে অফিসাররা দাঁড়াবে এমন নোটিশে তোলপাড়

39
নামাজে প্রথম কাতারে অফিসাররা দাঁড়াবে এমন নোটিশে তোলপাড়
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজে’লা পরিষদ জামে ম’সজিদের নামাজে প্রথম কাতারে দাঁড়াবেন অফিসাররা, অন্য কেউ দাঁড়াতে পারবেন না।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নোটিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ম’সজিদে প্রবেশের দরজাসহ ম’সজিদের বিভিন্ন জায়গায় সাঁটিয়ে দিয়েছে ম’সজিদ কমিটি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এছাড়া স্থানীয় মু’সল্লিদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ম’সজিদ কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়, ‘সকল ধ’র্মপ্রা’ণ মু’সলমানদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাসাইল উপজে’লা পরিষদ জামে ম’সজিদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক নামাজের জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাঁচ ওয়াক্ত এবং জুমা’র নামাজ চিহ্নিত জায়গার বাহিরে পড়া যাবে না এবং জামাত দাঁড়ানোর পূর্ব পর্যন্ত অফিসারগণের সম্মানে সামনের কাতারে না দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। জামাত দাঁড়ানোর সময় সামনের চিহ্নিত খালি জায়গা পূরণ করে দাঁড়াবেন। ম’সজিদের বাহিরে/রাস্তায় ম’সজিদের কার্পেট বিছানো হবে না, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।’

নোটিশ টাঙানোর পর অনেক মু’সল্লি ওই ম’সজিদে আর যান না। ম’সজিদের নিয়মিত মু’সল্লি আকতারুজ্জামান রিপন বলেন, ‘নোটিশটি টাঙানোর পর থেকে আমি ওই ম’সজিদে যাওয়া বাদ দিয়েছি। ওটা অফিসারদের ম’সজিদ।’

ম’সজিদে গত কয়েক দিন ধরে মু’সল্লিদের সামনের কাতার বাদ রেখে বসার জন্য বলে আসছিল ম’সজিদ কর্তৃপক্ষ। ম’সজিদের সামনের কাতার থেকে মু’সল্লিদের উঠিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নোটিশ স’ম্পর্কে উপজে’লা পরিষদ জামে ম’সজিদের ঈ’মাম হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ম’সজিদ পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে নোটিশটি সাঁটিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়াও শুক্রবার (৩ জুলাই) জুমা’র নামাজের আগে নোটিশটি পড়ে মু’সল্লিদের জানিয়ে দেয়া হয়। সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি ম’সজিদ কমিটির। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক আমি শুধু সেটি বাস্তবায়ন করেছি।’

ম’সজিদ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন বাসাইল উপজে’লা ঈ’মাম সমিতির সভাপতি মা’ওলানা মজিবর রহমান হেলালী। তিনি বলেন, ‘ম’সজিদে যিনি আগে ঢুকবেন তিনি প্রথম কাতারে বসবেন। ম’সজিদে সবাই সমান। কাউকে উঠিয়েও দেয়া যাবে না। অফিসাররা প্রথম কাতারে বসবে, এটা হাদিসসম্মত না। ম’সজিদ কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।’

সামনের কাতারে বসা নিয়ে ই’মামকে কোনো নির্দেশনা দেননি বলে দাবি করেন ম’সজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মু’সল্লিরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নামাজ আদায় করছিলেন। যাতে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করেন এ জন্য নোটিশ দিয়ে বিষয়টি জানানোর জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু ম’সজিদের ঈ’মাম আগ বাড়িয়ে অফিসারদের বিষয়টি লিখেছেন। সামনের কাতারে অফিসাররা বসবেন এটা আমি তাকে লিখতে বলিনি।’

উপজে’লা পরিষদ জামে ম’সজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘নোটিশের বিষয়টি আমা’র জানা ছিল না। পরে জানতে পেরে নোটিশটি তুলে নেয়া হয়েছে। আমা’র অনুমতি না নিয়ে কী’ভাবে নোটিশ দেয়া হলো এ ব্যাপারে আগামীকাল রবিবার জরুরি মিটিং আহ্বান করা হয়েছে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares