প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘কষ্টে আছেন’ জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার

29
‘কষ্টে আছেন’ জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকার নকশাকারী শি’ব নারায়ণ দাশ ভালো নেই। শারীরিকভাবে অ’সুস্থ শি’ব নারায়ণ দাশ রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় স্ত্রী’ ও এক ছে’লেকে নিয়ে বসবাস করেন। ছে’লেটি একটি দুর্ঘ’টনায় কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন।

করো’নাভাই’রাস মহামা’রীর মধ্যে অ’সুস্থ শি’ব নারায়ণ দাশ পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘স্পিক আউট’। এই পরিবারের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমেছে তারা।

‘স্পিক আউট’-এর সিনিয়র ম্যানেজার সুমাইয়া শামসুদ্দোহা বলেন, পরিবারের প্রাত্যহিক ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি ওষুধ, বাজার খরচ ও বাসা ভাড়া নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা শি’ব নারায়ণ দাশ।

তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকার ডিজাইনারের জন্য আম’রা একটা প্রচেষ্টা নিয়েছি, পাশে দাঁড়িয়েছি। আম’রা চাই, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এ মহান ব্যক্তির জন্য স্থায়ী সহযোগিতা আসুক। তার পরিবারের নিয়মিত খোঁজ-খবরও রাখছি আম’রা।”

বর্তমান পরিস্থিতি জানতে শি’ব নারায়ণ দাশকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “ক’ষ্টের মধ্যে বেঁচে আছি, এটাই আর কি। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না। আমা’র বলার কিছু নেই।”

অ’সুস্থতা স’ম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি অ’সুস্থ। শরীরটা এই ভালো, এই খা’রাপ। কিছুক্ষণ আগেও ঘুমিয়ে ছিলাম, আবার জেগে উঠেছি। এভাবে চলছে।”

অ’সুখটা কি প্রশ্ন করা হলে শি’ব নারায়ণ দাশ বলেন, “এটা আমা’র শ্বা’সক’ষ্ট। ঔষধপত্র খেয়ে চলি।”

১৯৭১ সালের ২ মা’র্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। লাল-সবুজের ভেতরে হলুদ রঙে বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ওই পতাকার নকশা করেছিলেন সে সময়ের ছাত্রলীগ নেতা শি’ব নারায়ণ দাশ। ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১৯৮ নম্বর কক্ষে বসে পতাকার এই নকশা করেছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকার শিল্পী কাম’রুল হাসানকে পতাকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলে। কাম’রুল হাসান শি’ব নারায়ণ দাশের আঁকা মানচিত্র সম্বলিত পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দিয়ে যে পতাকাটি ডিজাইন করেন সেটিই এখন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা দিবসের এক অনুষ্ঠানে পতাকার মাঝে মানচিত্র আঁকার কারণ ব্যাখ্যা করে শি’ব নারায়ণ দাশ বলেছিলেন, পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিম বাংলা আলাদা করে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বোঝাতে মানচিত্রটি দেওয়া হয় এবং স্বাধীনতার পরে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মানচিত্র সরানোর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “পতাকা সঠিকভাবে তুলে ধ’রা জাতির কর্তব্য। কিন্তু মানচিত্র থাকায় পতাকাটি আঁকা অনেক কঠিন এবং বি’কৃত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সহ’জ করে পতাকা আঁকার জন্য মানচিত্রটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল।”

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে বাংলাদেশ নিয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে ক্ষোভের সুরে শি’ব নারায়ণ দাশ বলেন, “আমা’র কোনো অনুভূতি নেই। কিসের অনুভূতি? অনুভূতি ক’ষ্টে বেঁচে আছি আর কি। আমা’র চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।”

শি’ব নারায়ণ দাশের বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কুমিল্লা জে’লা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্র জীবনে তিনি ‘শি’বু দা’ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

‘স্পিক আউটের’ সহযোগিতার আহ্বান, শি’ব নারায়ণ দাশের পরিবারের জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্পিক আউট বলেছে, “শি’ব নারায়ণ দাশ আমাদের জাতীয় পতাকার রূপকার, ডিজাইনার। অবিভক্ত কুমিল্লায় তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার অনেক সহযোদ্ধা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে, পাজেরো হাকিয়ে, হুইসেল বাজিয়ে রাস্তায় দৌড়ান। আর তিনি জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে, অনাদরে অবহেলায়, খেয়ে না খেয়ে, অ’সুস্থ হয়ে মৃ’ত্যুর প্রহর গুনছেন।

“চলুন আমাদের সবার অহংকার জাতীয় পতাকাকে ভালোবেসে, তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে মানুষটির পাশে দাঁড়াই, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিই।

“আম’রা সকলেই আজ সংকটে।| জমানো অর্থে টান পড়েছে কবেই।| তারপরও বলছি, চা সিগারেটে বাড়তি খরচ না করে ওই টাকাটুকু দিয়েই না হয় সহযোগিতার হাতটা বাড়িয়ে দিই। যে যা পারি, তাই নিয়ে সহায়তা করি তা সে ১০ টাকাই হোক, অথবা ১০০ টাকা কিংবা ৫০০ টাকা- যার যা সাম’র্থ্য তাই দিয়ে পাশে দাঁড়াই, সম্মান জানাই।”

সহায়তা পাঠাতে একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছে স্পিকআউট। 01766523124- এই নম্বরে বিকাশ, নগদ ও রকেট- এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো যাবে শি’ব নারায়ণ দাশের জন্য।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট’কম

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।