প্রচ্ছদ অপরাধ

পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারা পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকার থা’বায়

48
পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারা পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকারা
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা ইয়াসমিনের থা’বায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার এখন ভিটামাটি হারা।

সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ড্রেজারের হা’না’য় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের এক হাজার পরিবার ক্ষ’তি’গ্রস্ত, যার মধ্যে ভিটামাটি বিলীন হয়েছে পাঁচ শতাধিক পরিবারের।

একইভাবে শত বছরের পুরনো স্কুল, মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানও মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। ভিটামাটি হা’রা’নো ক্ষ’তি’গ্রস্ত পরিবারগুলো প্র’তিকার চেয়ে এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর ক্যাডারদের বি’রু’দ্ধে উচ্চ আদালতে রিট মা’ম’লাসহ জেলা প্রশাসন,

দু’র্নী’তি দ’ম’ন কমিশনসহ (দু’দ’ক) বিভিন্ন দপ্তরে বারবার অ’ভি’যোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাদের অ’ভি’যোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনদের ক্যাডার বাহিনী দিনের পর দিন এভাবে ফসলি জমি ড্রেজিং করে সাবাড় করেছে।

এসব অ’ন্যা’য়ের বি’রু’দ্ধে প্র’তি’বাদ করায় সেলিনার লোকজন উল্টো মিথ্যা চাঁ’দা’বাজি মা’ম’লা দিয়ে হ’য়’রানি করছে ক্ষ’তি’গ্রস্তদের।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শ্রমিক হিসেবে কুয়েতে গিয়েছিলেন একসময়ের হতদ’রি’দ্র সেলিনা।

সেখানে কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে বিয়ে হয়। পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে মা’ন’ব’পা’চার ও ভিসা ট্রেডিংসহ বিভিন্ন জা’লি’য়াতির মাধ্যমে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। ২০০৭ সালে সেই সেলিনার চোখ পড়ে মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দিকে।

এরপর এমপি হয়ে বালুমহাল লুটে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। এমপি সেলিনার নির্দেশে অবৈধভাবে মেঘনা উপজেলার ছয়টি গ্রামের চরের মাটি কা’টা শুরু হয়।

প্রথম দিকে কোনো ইজারা ছাড়াই মাটি কাটা শুরু করলেও ২০১১ সালে সেলিনা তাঁর মালিকানাধীন ফোর পয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের লাইসেন্সে সরকার থেকে কয়েকটি বালুমহাল ইজারা নেন।

কিন্তু ইজারাকৃত মহাল ছেড়ে সাধারণ মানুষের ফসলি জমি থেকে মাটি কা’টার মহোৎসব শুরু করে দেয় সেলিনার বোন ইয়াসমিন প্রধানের ক্যাডার বাহিনী।

শুধু সেলিনার ঠিকাদারি লাইসেন্সই নয়, তাঁর পিএস বশিরের নামে থাকা ফাহাদ ট্রেডার্স ও ভাতিজা জাকির হোসেনের নামে করা জালাল এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমেও মেঘনা উপজেলায় শত শত বিঘা জমি কে’টে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  বিবস্ত্র করে গৃহবধূ নির্যাতন: ১০ আসামি গ্রেফতার

এভাবে বালুমহালের নামে সেলিনার সিন্ডিকেট প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ফসলি জমির মাটি কে’টে নিয়ে যায় বলে অ’ভি’যোগ করে ক্ষ’তি’গ্রস্তরা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রসাদের চর গ্রামের মৃ’ত মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে হোসেন মোহাম্মদ মোহসিন এমপি সেলিনার থাবায় হারিয়েছেন সাড়ে তিন বিঘা জমি। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে দু’দক, জেলা প্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অ’ভি’যোগ দেওয়াসহ উচ্চ আদালতে তিনটি রিট মা’ম’লাও করেছিলেন মোহসিন।

এতে চ’রম ক্ষু’ব্ধ হয়ে সেলিনার লোকজন মোহসিনসহ তাঁর ছয় ভাইয়ের বি’রু’দ্ধে উল্টো ছয়টি মা’ম’লা দিয়ে হ’য়’রানি শুরু করেন। চু’রি, ছি’ন’তাই, স’ন্ত্রা’স, চাঁ’দা’বাজিসহ বিভিন্ন অ’ভি’যোগে মা’ম’লাগুলো করা হয় জমি হারানো ওই ছয় ভাইয়ের বি’রু’দ্ধে।

ক্ষ’তি’গ্র’স্ত মোহসিন বলেন, ‘এমপি সেলিনা ইসলাম ও তাঁর বোন, ভাতিজা, ভাগ্নে এবং পিএসের লাইসেন্স দিয়ে নামমাত্র কিছু বালুমহাল ইজারা নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কে’টে নিয়েছে আমাদের ফসলি জমি। বাধা দেওয়ায় উল্টো মিথ্যা মা’ম’লা দিয়ে আমাদের হ’য়’রানি করছেন।

এই সেলিনা সি’ন্ডি’কেটের কারণে উপজেলার পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে।’ গত ২৪ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও দু’র্নী’তি দ’ম’ন কমিশনেও এই দু’র্বৃ’ত্তদের বি’রু’দ্ধে প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেছেন মোহসিন।

ক্ষু’ব্ধ’কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গত ১২ বছরে এই অ’বৈধ মাটি কা’টার বি’রু’দ্ধে উপজেলা প্রশাসন, থানা, জেলা প্রশাসন, দু’দ’ক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু সেলিনার মাটি কা’টা কেউ বন্ধ করতে পারেনি।’

চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুল বারীর মালিকানাধীন রামপ্রসাদের চরের পশ্চিম পার ও পূর্ব পারের ২৫ বিঘা জমির মাটি অ’বৈ’ধ’ভাবে কে’টে নিয়েছেন এমপি সেলিনা ও তাঁর স্বজনরা।

মাটিখেকোদের কারণে পশ্চিমপাড়ায় রামপ্রসাদের চরের শুধু জমিই বিলীন হয়নি, মেঘনাগর্ভে চিরতরে হারিয়ে গেছে পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ ও পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও।

স্থানীয় হবীবুল্লাহ মাস্টার, ডা. শরিয়াতুল্লাহ, ডা. আব্দুস সালাম, ইমাম হোসেন, আ. লতিফ দোকানদার, নুরুল আমিন, শাহাবুদ্দিন আমিন, শাহজাহান, সেন্টু, মুকবুল, মোন্নাফ, আ. মজিদ, আলেক, ফালু, আ. আউয়াল, মানিক মিয়া, সোলেমান, জামাল, কামাল,

মোস্তফা, সাখাওয়াত, কুদ্দুস সরকার, নজরুল সরকার, বারু সরকারসহ ক্ষ’তি’গ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তৎকালীন মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভিনসহ ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আঁতাত করেই সেলিনা ইসলাম ইজারার নামে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন এবং জো’র’পূর্বক মাটি কাটার উৎসব জারি রেখেছেন।

আরও পড়ুন:  ডেকে এনে মডেল তরুণীকে ধ’র্ষ’ণ, জড়িত থাকায় বহিষ্কার যুব মহিলা লীগ নেত্রী বহিষ্কার!

সেলিনার কাছ থেকে প্রতি মাসে মাসোহারা পায় প্রশাসনের ওই সিন্ডিকেট। শুধু তা-ই নয়, উচ্চ আদালতে রিট মা’ম’লা চলমান থাকার পরও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার বালুমহালের দরপত্র আহ্বান করেছে, যা আইনত কোনোভাবেই করতে পারে না।

এসব অ’ভি’যোগ প্রসঙ্গে মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘অ’ভি’যোগ সত্য।

একটি সি’ন্ডি’কেটের কারণে কয়েক শ পরিবার ক্ষ’তি’গ্রস্ত হয়েছে। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে ওদের এমন অন্যায় কাজ করতে দিইনি। সরকারের উচিত এ বিষয়ে ক’ঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

তবে অ’ভি’যোগ অস্বীকার করেন এমপি সেলিনা ইসলামের ছোট বোন ইয়াসমিন প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমি বালুমহাল ইজারা নিইনি, আমার লাইসেন্সে অন্য কাজ করি।’ কিন্তু এলাকার ক্ষ’তি’গ্রস্ত মানুষের অ’ভি’যোগ, বোনের পক্ষ হয়ে আপনিই এসব দেখভাল করেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘বোনের কাজ বোনই করেন।

আর আমার বোন আগে এটা করেছেন, এখন করেন না।’ এ বিষয়ে এমপি সেলিনার বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁর সেলফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সেলিনার স্বামী লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল মানি লন্ডা’রিং, মানবপা’চা’রসহ নানা রকম অ’ভি’যোগে কুয়েতে বিচারের মুখোমুখি হয়ে কা’রা’ব’ন্দি আছেন।

দু’দ’ক গত ১৭ জুন ইমিগ্রেশন পুলিশকে দেওয়া চিঠিতে পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, তাঁদের মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার অপর বোন জেসমিনের দেশত্যাগে নি’ষে’ধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া পাপুল দেশে ফিরলে তাঁরও দেশত্যাগে নি’ষে’ধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।