প্রচ্ছদ অপরাধ

২৯০ জনের বি’রুদ্ধে ভুতুড়ে বিলের দায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে

18
২৯০ জনের বি’রুদ্ধে ভুতুড়ে বিলের দায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের দায়ে ২৯০ জনকে চিহ্নিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তদন্ত করে তাদের বি’রু’দ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।

আজ রোববার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। বিদ্যুৎ বিভাগের টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে সচিব বলেন,আরইবি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে। তারা খুঁজে বের করছে কারা এ জন্য (ভুতুড়ে বিল) দায়ী। চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করার কাজ চলছে। আরইবি তাদের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

সচিব জানান, ডিপিডিসি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত, ৩৬টি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীদের কারণ দর্শানোর নেটিশ দিয়েছে।

এ ছাড়া আরো ১৩ জন মিটাররিডার এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ মোট ১৪ জনকে চুক্তিভিত্তিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নেসকো দুজন মিটাররিডারকে বরখাস্ত করেছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলি করেছে। ওজোপাডিকো ২২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

সুলতান আহমেদ বলেন, যাদেরই অতিরিক্ত বিল এসেছে, তার সব সমন্বয় করে দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক একদিনের নয়। কাজেই কোনো গ্রাহক যদি এখনও মনে করেন তার বিল বেশি এসেছে, তার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:  ত্রাণ চু’রিসহ নানা অ’পরাধে যারা গ্রে’প্তার হচ্ছে, সবাই অ’পরাধী এবং স’ন্ত্রাসী

আমরা তার বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে ব্যবস্থা নেব। যাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত হবে। কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের ভুল যাতে না হয়, সে জন্য শতভাগ মিটার দেখে বিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ সচিব। জুনের মধ্যে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে মাসুল ছাড়া বিল দেওয়ায় ছাড় দেওয়া হয়েছিল তা বাড়ানোর চিন্তাও করা হচ্ছে।

তবে সেটি শুধুই আবাসিকের ক্ষেত্রে দেওয়া হতে পারে বলে সচিব জানান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ৯৬ বিলে অসঙ্গতি পেয়েছেন তারা।

এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দুই কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬১১ জনের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯ গ্রাহকের মধ্যে ১৫ হাজার ২৬৬ জন,

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) ১০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৫ হাজার ৬৫৭ জন, নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) ১৫ লাখ ৪৮ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ২ হাজার ৫২৪ জন,

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ১২ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৫৫৬ জন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৫৮২ গ্রাহক অতিরিক্ত বিলের শিকার হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পিয়নের চাকরির জন্য ২৪ লাখ টাকা, জয়েন করতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র ভুয়া

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবসময়ই গ্রাহকবান্ধব। আমরা যে আস্থা হারিয়েছি আশা করছি তা শিগগিরই পুনরুদ্ধার করতে পারব। ভবিষ্যতে বিতরণ কোম্পানিগুলো এ ধরনের সংকট সমাধানে শতভাগ মিটার রিডিং নিয়ে বিল করবে।’

সচিব বলেন, ‘ক’রো’নার মধ্যে আমাদের মিটার রিডাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং করতে পারেনি। এ জন্য এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। করোনার মধ্যে ৬০১ জন ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১২ জন বিদ্যুৎকর্মী মা’রা গেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমাদের কাছে ৪ হাজার ৩৩০টি বিলের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখেছি ১৫ হাজার গ্রাহকের অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। তাদের সবার বিল সমন্বয় করা হয়েছে।’

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 5
    Shares