প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

দোহারে কি’শোরীকে বারবার ধ’র্ষণ করতেন বান্ধবীর বাবা ও তার বন্ধুরা

29
দোহারে কি'শোরীকে বারবার ধ’র্ষণ করতেন বান্ধবীর বাবা ও তার বন্ধুরা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঢাকার দোহার উপজে’লার হ’ত্যার ভ’য় দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কি’শোরীকে একাধিকবার ধ’র্ষণের অ’ভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বি’রুদ্ধে। এ ঘটনায় ধ’র্ষণে সহযোগিতা করার অ’ভিযোগে এক নারীকে গ্রে’প্তার করেছে পু’লিশ।

দোহার থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ভূক্তভোগী ওই কি’শোরীর বাবা বাদী হয়ে থা’নায় পৃথক তিনটি মা’মলা দায়ের করেছেন। প্রথম মা’মলায় একজন, দ্বিতীয় মা’মলায় দুইজন ও তৃতীয় মা’মলায় একজনকে আ’সামি করা হয়েছে।

মা’মলার পরপরই উপজে’লার বিলাসপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে অ’ভিযান চালিয়ে ধ’র্ষণে সহযোগিতা করার অ’প’রাধে বাড়িওয়ালা সোমা আক্তার (৩০) নামে এক নারীকে গ্রে’প্তার করে রবিবার আ’দালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি সাজ্জাদ হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী ওই কি’শোরীর বাবা একজন রিকশাচালক। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জে’লায়। প্রায় চার মাস আগে স্ত্রী’ ও ১৩ বছর বয়সী কি’শোরী মে’য়েকে নিয়ে বিলাসপুর গ্রামের সোমাদের বাড়িতে ভাড়া আসেন তাঁরা। এরপর একই গ্রামের সেলিম চোকদারের মে’য়ের সঙ্গে ওই কি’শোরীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সেই সুবাদে মাঝে মধ্যেই বান্ধবীর সঙ্গে রাতে ঘুমাতে যেতেন ওই কি’শোরী।

ভূক্তভোগী কি’শোরী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় আড়াই মাস আগে এক রাতে সেলিম চোকদারের মে’য়ের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলো সে। ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে সেলিম চোকদার এসে তাঁর মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে জো’রপূর্বক ধ’র্ষণ করেন। ধ’র্ষণের এ ঘটনা কাউকে বললে মে’রে ফেলার হু’মকিসহ বিভিন্ন ভ’য়ভীতি দেখান সেলিম চোকদার। পরবর্তীতে সেলিম তাঁর প্রতিবেশী বন্ধু কিয়ামউদ্দিন হওলাদার ও ইদ্রিস মোল্লাকে নিয়ে তাকে ভ’য় দেখিয়ে আরও কয়েকবার ধ’র্ষণ করেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন বাড়িওয়ালা সোমা।

ওই কি’শোরী আরও জানান, ধ’র্ষণের সময় ধ’র্ষকরা এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ধাঁরালো অ’স্ত্র দেখিয়ে তাকে হ’ত্যার ভ’য় দেখাতো। এছাড়াও স্থানীয় মুদি দোকানী তারা মিয়া আমা’র বাবার কাছে টাকা পাবে এ কথা বলে সুযোগ বুঝে তাকে দোকানে ডেকে নিয়ে আমা’র শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতেন।

সম্প্রতি এ ঘটনা নাট’কী’য়ভাবে এলাকায় জানাজানি হয় একটি গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে। গত শুক্রবার বিলাসপুর ইউনিয়নের আলম বাজার এলাকায় রাধানগর গ্রামসহ আশপাশের অন্তত তিনটি গ্রামের কয়েকশ লোকের সমাবেশ ঘটিয়ে ওই কি’শোরীর উপস্থিতিতে ধ’র্ষণের ঘটনা বিচারের মাধ্যমে সমোঝতার চেষ্টা করা হয়। তবে এ ঘটনায় অ’ভিযু’ক্তরা সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় এবং ঘটনাটি আনুমানিক আড়াই মাস আগে হওয়ায় সমঝোতায় বাধার কারণ হয়। পরে এ সময় বিচারের দায়িত্বে থাকা সমাজপতিরা দোহার থা’না পু’লিশকে বিষয়টি অবগত করেন।

পরে এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অ’ভিযু’ক্তরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সাংবাদিক ও নারী সমাজকর্মীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি আমলে নিয়ে নারী ও শি’শু নিযার্তন দমন আইনে পৃথক তিনটি মা’মলা নেন দোহার থা’না পু’লিশ।

মা’মলার বাদী ধ’র্ষিতা কি’শোরীর বাবা মো. সুমন সাংবাদিকদের জানান, অ’ভিযু’ক্তরা তাকে প্রথমে টাকা দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তাকে মে’রে ফেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হু’মকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। তিনি অ’প’রাধীদের দ্রুত গ্রে’প্তারের মাধ্যমে সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে দোহার থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন কে বলেন, এ ঘটনায় ধ’র্ষণের কাজে সহযোগিতা করার দায়ে বাড়িওয়ালা এক নারীকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ধ’র্ষকরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রে’প্তারে পু’লিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।