প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

‘এ তো আমার প্রতিদিনের যুদ্ধ’, এখন তিন জা’য়গায় সংসার: চিকিৎসক গু’লশানা

26
‘এ তো আমার প্রতিদিনের যুদ্ধ’, এখন তিন জা’য়গায় সংসার: চিকিৎসক গু’লশানা
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজ’ধানীর একটি হো’টেলে থেকে যা’তা’য়াত করে ১০ দিন এ’কটানা হাসপা’তা’লে ‘দায়ি’ত্ব পা’লন করতে হয়।

এর’পর হো’টেলে ১৪ দি’নের কোয়া’রেন্টি’নে থা’ক’তে হয়। পরে হাসপা’তা’লে গিয়ে ক’রো’না প’জি’টিভ-নে’গে’টিভ কি না, তা জা’নার জন্য নমু’না দিতে হয়।

এ প’রী’ক্ষায় ক’রো’না নে’গেটি’ভ হলে ত’বেই ছ’য় দিনের জন্য বা’ড়ি যে’তে পারেন। আর ক’রো’না প’জি’টি’ভ হলে আ’বার সেই হো’টে’লে ফি’র’তে হয়।

ক’থাগুলো বল’ছিলেন চিকিৎসক গু’লশা’না আক্তার (ট’গর)। তিনি গত ১২ মে থে’কে ক’রো’না রো’গী’দের চিকিৎসার জন্য রা’জধা’নীতে ৫০০ শ’য্যার কুর্মি’টোলা জে’নারেল হাস’পা’তা’লে মে’ডি’কেল অফি’সার হিসে’বে কর্ম’রত।

এর আগে দা’য়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা শি’শু হা’সপাতা’লে’। সে’খানেও ক’রো’না স’ন্দেহ বা উ’পসর্গ নিয়ে ভ’র্তি হওয়া শি’শুদের ও’য়ার্ডে দা’য়িত্ব পা’লন ক’রেছেন।

গুলশানা আক্তার বল’লেন, তাঁর এখন তিন জা’য়গায় সংসার—হাস’পাতাল, হোটেল আর বাসা। হাস’পাতা’লে যতক্ষণ ডিউটি থাকে, ততক্ষণ

চার’পাশে করো’নার গু’রুতর রোগী’দের স’ঙ্গে দীর্ঘ সময় থা’কতে হয়। আর হো’টে’লের ১৪ দিনের কো’য়া’রেন্টিন–জীবন তো পু’রোই ব’ন্দী জী’বন। এক ঘ’রে একা থা’কতে হয়। পরি’বারে’র সদ’স্যদে’র সঙ্গে ভি’ডিও কল ছা’ড়া যোগা’যো’গ হয় না। হো’টে’লের ক’র্মীরা সু’রক্ষা পো’শাক পিপি’ই পরে ঘ’রের দর’জার বাই’রে খা’বার রে’খে যান।

ক’রো’না পরীক্ষা’র জন্য নমু’না দেও’য়ার প’র্বটি আরও ভ’য়ংক’র। ক’ষ্টে’র পা’শাপা’শি মনে অ’জানা ভ’য় কা’জ করে। এর’পর য’দি বাড়ি ফেরা’র অনু’মতি পাও’য়া যায়, তাহ’লেই কেব’ল মু’ক্ত মনে হয় নি’জেকে। সামা’জিক জী’বন ব’লতে ওই ছ’য় দিন। গুল’শানা বললেন, ‘এ তো আ’মা’র প্রতি’দিনের যু’দ্ধ’।

করো’না
গুল’শানা আ’ক্তার এ পর্য’ন্ত দুবা’র ক’রো’না প’রীক্ষা করি’য়েছেন, দুবা’রই ফলাফল নেগে’টিভ এসেছে। হোটেলে ১৪ দিনের কো’রেন্টি’ন–জীব’ন পার ক’রার সময় মু’ঠোফো”নে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

গুলশানা আক্তার বললেন, ‘হাস’পাতা’লে পিপি’ই, তিনটি মাস্ক’স’হ অ’ন্যান্য সুর’ক্ষাসাম’গ্রী দিয়ে নি’জেকে প্রস্তু’ত করে রো’গীর কাছে বা ওয়া’র্ডে যেতে চিকিৎসকস’হ স্বা’স্থ্যকর্মী’দের কম ক’রে হলেও ২০ থেকে ৩০ মিনি’ট সময় লাগে।

মা’স্কে মুখ’ ঢা’কা থা’কে বলে আ’ম’রা হেসে ক’থা ব’লছি কি না, তা–ও রো’রা বু’ঝতে পারেন না। আ’ম’রা আ’মাদের স’র্বো’চ্চ চেষ্টা দিয়ে রো’গীর সে’বা ক’রছি। এরপরও অ’নেক স’ময় ভু’ল বুঝছে’ন রো’গী ও রোগীর স্বজ’নেরা। সম্প্র’তি এক চিকিৎস’কে পিটি’য়ে’ই মে’রে ফে’লা হলো।

আমি শুধু বল’তে চাই, এখন পরি’স্থি’তি স্বা’ভাবি’ক নয়। রো’গীর শ্বা’সনা’লিতে টি’উব লা’গা’নোসহ আ’মাদে’র রোগী’র একদ’ম কাছে যে’তে হচ্ছে। দী’র্ঘ সময় রো’গীর কাছে থা’কতে হচ্ছে। সুর’ক্ষা নেওয়া’র পরও অনে’ক চিকিৎসক ক’রো’নায় মা’রা’ গেছেন। সা’রাক্ষ’ণ আ’তঙ্ক আ’মা’দের ম’ধ্যেও কা’জ’ করে।’

গুলশা’না আ’ক্তার বলেন, ‘মা’স্ক’সহ অ’ন্যা’ন্য সুর’ক্ষা পোশা’কের কা’রণে নি’জেরই অনেক সময় শ্বা’সক’ষ্ট শুরু হয়। ও’য়ার্ড থেকে ফি’রে নির্দি’ষ্ট রুমে গি”য়ে পি’পিইসহ অ’ন্যান্য পো’শাক পা’ল্টা’তে হয়। ওয়া’র্ডে যে’তে হলে আ’বার নতু’ন করে পোশা’ক পরতে হয়।

এ যু’দ্ধ প্রতি’দি’নের। রমজা’নের ঈদ ক’রেছি হাসপা’তা’লে ডিউ’টি পাল’ন করে। এখন আ’মা’দের কা’ছে প্রতি’দিনই এক র’কম, ঈদ বা উৎসব বলে আমা’দের জীবনে কিছু নেই। গত ১০ দিনে কে’বিন ব্ল’কে দা’য়িত্ব পাল’ন করা অব’স্থায় আমা’র ওয়ার্ডে এক’জন রোগীও মা’রা যান’নি, স্ব’স্তি বা তৃ’প্তি বলতে এ’টুকুই।’

রাজ’ধা’নীর ‘লালমা’টিয়া বা’সায় স্বা’মী সাদ’মা’ন খান না’বিল, শ্ব’শুর, শাশু’ড়ি, দে’বরস’হ অন্য সদ’স্যরা আ’ছেন। গুল’শানা আক্তার বল’লেন,‘পরিবা’র আমা’র পাশে আ’ছে বলেই দেশের এই পরি’স্থিতি’তে আ’মি আ’মা’র দা’য়িত্ব পালন কর’তে পারছি।’

৩৯তম বিসি’এসের গুল’শানা আ’ক্তার যখন ঢাকা শি’শু হাসপা’তা’লে দা’য়ি’ত্ব পালন করছি’লেন, ত’খনকার এক’টি ছবি সা’মাজিক যোগাযোগ’মাধ্যম ফেস’বুকে আ’লোচনায় আসে। বিবিসি নিউজে (বাংলা) গুল’শানাকে নিয়ে প্রতি’বেদন প্রকাশি’ত হয়।

গুলশানা আক্তার বললেন, ‘১২ ঘণ্টা’র ‘ডিউটি শেষে মু’খের মা’স্ক খুলে ক্লা’ন্ত এবং বি’ধ্বস্ত অ’বস্থায় নিজের ছবি তুলে পারি’বারিক মে’সেঞ্জার গ্রুপে পা’ঠিয়েছি’লাম। স্বামী’ তা ফে’সবুকে শেয়া’র দেন।

এরপর ফে’সবুকে শে’য়ার আর কমে’ন্টের জন্য ছবি’টি আ’লোচনায় আসে। আমি আ’সলে এত কিছু চি’ন্তা করে ছবি’টি পাঠা’ইনি। শুধু আ’মি নই, দায়িত্ব পালন শে’ষে যখন শরী’র থেকে সুর’ক্ষা পো’শাক খোলা হয়, তখন সব স্বা’স্থ্যকর্মী’র চেহা’রাই এমন বি’ধ্ব’স্ত থা’কে।’ সূত্র: প্রথম আলো

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares