প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি

প্রশাসনের ভেতরে কারা ইন্ধন যোগাচ্ছে ষড়’যন্ত্রের নীল নকশায়?

14
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা মোকাবেলায় সরকার যখন ব্যতিব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে প্রশাসনে ষড়’যন্ত্র চলছে। বিএনপি জামায়াত সমর্থিত সরকারি উচ্চ পদস্ত আমলারা জোটবদ্ধ হয়েছেন এবং পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখ’ল করে নিচ্ছেন। এবং ১১ বৎসর ধরে সরকার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ যেন এখানে কিছুই করতে পারছে না। প্রশাসনে আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের যোগসাজশেই প্রশাসনে বিএনপি জামায়াতের পুনর্বাসন চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একজনকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। তিনি ২০০১ থেকে ০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এবং তৎকালীন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাকে সচিব করার পর প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু সেই তোলপাড়ের রেশ যেতে না যেতেই সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আবার নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সাধারণত জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয় অনেক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে। এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট সংগ্রহের পর। কিন্তু এমন কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে যারা সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই না। বেশ কিছু অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিএনপি জামায়াত ঘনিষ্ঠ বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাহলে কি বিএনপি জামায়াত পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন দখ’ল করছে?

আরও পড়ুন:  দেশে এখন চলছে সরকারী প্রতিহিংসার প্রবল প্রতাপ : বিএনপি মহাসচিব

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আর মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়া ঐতিহাসিক জেলা মেহেরপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। মেহেরপুর হল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের এলাকা। সেই মেহেরপুরেই ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয় শহিদুল ইসলামকে। পরে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম হল ছাত্রদলের সাবেক ক্যাডার। এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এরপরেই তাকে সরিয়ে দিয়ে মেহেরপুরে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানকে। তিনি কৃষি মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে ঐ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সেইসাথে তিনি সেখানকার ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সম্পাদকও ছিলেন। জানা গেছে, মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর এই রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয়ে ২২ তম ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তাই জানে। কিন্তু তারপরও তাকে মেহেরপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল কীভাবে? সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন:  শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে যুবলীগের খাদ্য বিতরণ

এছাড়া জেলা প্রশাসকদের মধ্যে আরও একজন আছেন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নয়। প্রশ্ন হল, এরা যখন প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন। তখন কি তারা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে কাজ করবেন? নাকি তারা কম্বল কেলে’ঙ্কারি, বালিশ কেলে’ঙ্কারি কিংবা বিভিন্ন দুর্নীতি করে সরকারের বদনাম করবেন। প্রশাসনে জামায়াত বিএনপির পুনর্বাসন যেভাবে ঘটছে তা সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা বটে।

বাংলা ম্যাগাজিন ডেস্ক !

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 7
    Shares