প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয়

রিজেন্ট হাসপাতালের কেলেংকারি, এখানেও মন্ত্রী-ডিজি

71
রিজেন্ট হাসপাতালের কেলেংকারি, এখানেও মন্ত্রী-ডিজি
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য খাতে যত কেলেঙ্কারি হচ্ছে, সবগুলোতেই বেরিয়ে আসছে মন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদের সংশ্লিষ্টতা।

জেএমআই গ্রুপের মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছিল। সেখানে ডিজিরও যোগসাজশ ছিল।

কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্ম’দ শহীদউল্লাহ তার লেখা চিঠিতে স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকে’টের পেছনে এই দুজনের সংশ্লিষ্টতার কথা ফাঁ’স করেছিলেন।

এরপর করো’না পরীক্ষায় জেকেজির দু’র্নীতি ও অনিয়মেও উঠে এসেছে ডিজি’র ঘনিষ্ঠতা। পিসিআর মেশিন ক্রয়ের যে অনিয়ম সেখানেও এসেছে আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম। আর সর্বশেষ রিজেন্ট হাসপাতা’লের যে মহা দু’র্নীতি ও অনিয়ম ফাঁ’স হলো, সেখানেও দেখা যাচ্ছে এই দুজন ব্যক্তির যোগসাজশ।

গতকাল রিজেন্ট হাসপাতা’লের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অ’ভিযান চালায় রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (রেব) ভ্রাম্যমাণ আ’দালত। এই অ’ভিযানে বেরিয়ে আসে হাসপাতালটির একের পর এক অ’পকর্ম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিনামূল্যে করো’না টেস্টের অনুমতি নিয়ে রোগীদের থেকে প্রতি পরীক্ষায় তিন/চার হাজার টাকা আদায় করেছে এই হাসপাতাল। এমনকি তাদের সংগৃহীত করো’নার স্যাম্পলের অর্ধেকের বেশি পরীক্ষা না করেই অনুমান নির্ভর রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়েছে। হাসপাতালটি করো’না রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে জানিয়ে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও রোগীপ্রতি দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা আদায় করেছে। শুধুমাত্র ভর্তি রোগীর করো’না পরীক্ষার অনুমতি থাকলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করে ভু’য়া রিপোর্ট দিয়েছে এই হাসপাতাল।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ছয় বছর আগেই রিজেন্ট হাসপাতা’লের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপরও তারা চিকিৎসা সেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এই অ’পকর্মের জন্য শা’স্তির আওতায় আনার বদলে এই হাসপাতালকে পুরষ্কৃত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইসেন্সবিহীন এই হাসপাতালকেই করো’না চিকিৎসার সঙ্গে যু’ক্ত করেছে। এই সুযোগে করো’না পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে আরও বড় অ’পকর্মের সুযোগ পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি। আরও অ’বাক করা বিষয় হলো, যেই হাসপাতালটির লাইসেন্সই নেই, সেই হাসপাতা’লেরই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিজি। এর আগে জেকেজির পরীক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনেও দেখা গিয়েছিল ডিজিকে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যখাতে নানা অ’পকর্মে লিপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে মন্ত্রী এবং ডিজির যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে এসব ঘটনা থেকেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, রিজেন্ট হাসপাতা’লের কর্ণধার মো. শাহেদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিজি দুজনেরই সুস’ম্পর্ক। এজন্যই এই হাসপাতা’লের বি’রুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক সুযোগ দিয়ে গেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঠিক এই কাজটিই করা হয়েছিল মিঠু গ্রুপ, জেকেজি গ্রুপ এবং জেএমআই গ্রুপেরও ক্ষেত্রেও। ঢালাওভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্য খাতে ডা’কাতির সুযগ দিয়ে গেছেন মন্ত্রী এবং ডিজি।

বর্তমান করো’না সংকট মোকাবেলায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ডিজি’রই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। অথচ তারা দুজন করো’না মোকাবেলায় নেতৃত্ব না দিয়ে দু’র্নীতি ও অনিয়মের নেতৃত্বে মেতে উঠেছেন। যার ফলে স্বাস্থ্যখাতে আরও অনেকে যেমন অ’পকর্মের সুযোগ পাচ্ছে, ঠিক একইভাবে অনেকের অক্লান্ত পরিশ্রম আবার নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে। সুত্র: বাংলা ইনসাইডার

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।